চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলায় রাত ৯টা অর্ধেকের দিকে এক ট্র্যাজেডি ঘটেছে। শ্যালো মেশিনের মাধ্যমে পানি তোলার জন্য বিদ্যুতের খুঁটি থেকে সংযোগ নিতে গিয়ে এক নারী ও তার ছেলে বিদ্যুৎ শক পেয়ে প্রাণ হারিয়েছেন।
মৃত্যুজনিত ঘটনাটি মতলব দক্ষিণের নলুয়া গ্রাম, খান বাড়িতে ঘটেছে। স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তার মতে, শিকারীরা ওই গ্রামের শাহাদাত খানের স্ত্রী আমেনা বেগম রিনা, বয়স ৬৫ বছর এবং তার ছেলে এনামুল হক রাসেল খান, বয়স ৩৫ বছর।
প্রতিবেদন অনুসারে, রিনা ও রাসেল বাড়ি থেকে প্রায় ৫০০ গজ উত্তরে নতুন ভিটাবাড়ি নামে একটি স্থানে গিয়ে শ্যালো মেশিন ব্যবহার করে পানি টানতে চেয়েছিলেন। কাজের সময় তারা রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বিদ্যুতের খুঁটি থেকে সরাসরি সংযোগ নিতে গিয়ে বিদ্যুৎ শকের শিকার হন।
শক্তিশালী শক প্রয়োগের ফলে তাদের দেহে আগুন লেগে যাওয়া দেখা যায়। আশেপাশের লোকজন দেহে জ্বলন্ত শিখা লক্ষ্য করে চিৎকারের মাধ্যমে সতর্ক করে, তৎক্ষণাৎ বালু ব্যবহার করে আগুন নেভানোর চেষ্টা করে। তবে দেহে আগুনের তীব্রতা এবং শকের তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে, ঘটনাস্থলেই মা‑ছেলেই প্রাণ হারিয়ে যান।
ঘটনা সম্পর্কে জানার পর মতলব দক্ষিণ থানার ওসিআই মো. হাফিজুর রহমান মানিক, সহকারী পুলিশ সুপার (মতলব সার্কেল) জাবির হুসনাইন সানীব এবং অন্যান্য কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তৎক্ষণাৎ তদন্ত শুরু করেন। মৃতদেহের অবস্থা যাচাই করে প্রাথমিক মৃতদেহের রিপোর্ট প্রস্তুত করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদেহের পরিবার থেকে কোনো আপত্তি না পাওয়ায় দেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে ঘটনাটির প্রকৃতি বিবেচনা করে, স্থানীয় আইন অনুযায়ী অপরাধমূলক দায়িত্ব নির্ধারণের জন্য ফরেনসিক পরীক্ষা এবং বিদ্যুৎ সংযোগের নিরাপত্তা মানদণ্ডের লঙ্ঘন যাচাই করা হবে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, শ্যালো মেশিনের ব্যবহার এবং বিদ্যুৎ সংযোগের পদ্ধতি স্থানীয় নিয়মের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। বিদ্যুৎ শকের ঝুঁকি কমাতে সঠিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা না নেওয়া এই ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার প্রধান কারণ হতে পারে।
পুলিশের মতে, শিকারের পরিবারকে সহায়তা প্রদান এবং ভবিষ্যতে একই রকম দুর্ঘটনা রোধে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে নিরাপত্তা নির্দেশিকা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। এছাড়া, বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য অনুমোদিত পেশাদার ইলেকট্রিশিয়ানকে নিয়োগ করার গুরুত্বও তুলে ধরা হয়েছে।
এই ঘটনার পর, মতলব দক্ষিণ থানার ওসিআই এবং সহকারী সুপারভাইজার উভয়েই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চালিয়ে গেছেন। শিকারের পরিচয় এবং ঘটনার সঠিক সময়সীমা নিশ্চিত করার পাশাপাশি, বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য ব্যবহৃত সরঞ্জাম ও তারের অবস্থা পরীক্ষা করা হবে।
আইনি দিক থেকে, বিদ্যুৎ সংযোগের অননুমোদিত পদ্ধতি এবং নিরাপত্তা মানদণ্ডের লঙ্ঘন অপরাধের ধারা অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য হতে পারে। তদন্তের ফলাফল অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয় জনগণ এই ধরনের দুর্ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে নিরাপত্তা বিধি মেনে চলার গুরুত্ব উপলব্ধি করেছে। শিকারের পরিবার গভীর শোকের মধ্যে রয়েছে এবং তারা এই দুঃখজনক ঘটনার জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছে।
পুলিশের শেষ মন্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে প্রাপ্ত তথ্য এবং ফরেনসিক বিশ্লেষণের ভিত্তিতে তদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রস্তুত করা হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এই ধরনের ট্র্যাজেডি পুনরাবৃত্তি রোধে নিরাপত্তা সচেতনতা বৃদ্ধি এবং যথাযথ অনুমোদিত পদ্ধতি অনুসরণ করা অপরিহার্য বলে জোর দেওয়া হয়েছে।



