কলম্বোতে অনুষ্ঠিত আইসিসি টি২০ বিশ্বকাপের গ্রুপ এ পর্যায়ে পাকিস্তান ক্রিকেট দলকে আজ নামিবিয়া দলের মুখোমুখি হতে হবে। এই ম্যাচটি টুর্নামেন্টের সুপার আটে প্রবেশের শেষ সুযোগ, তাই দু’দলই উচ্চমাত্রার চাপের মুখে।
গত রবিবার ভারত ক্রিকেট দলকে ৬১ রানের পরাজয় দিয়ে পাকিস্তানকে কঠিন অবস্থানে ফেলেছে। ভারত ইতিমধ্যে গ্রুপ এ থেকে অগ্রসর হয়েছে, আর পাকিস্তানের জন্য দ্বিতীয় স্থান এখন নেট রান রেটের ওপর নির্ভরশীল।
পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্র উভয় দলই চার পয়েন্টে সমান, তবে নেট রান রেটের পার্থক্য স্পষ্ট। যুক্তরাষ্ট্রের নেট রান রেট +০.৭৮৮, যেখানে পাকিস্তানের নেট রান রেট -০.৪০৩। এই পার্থক্যই এখন দুই দলের মধ্যে সরাসরি প্রতিযোগিতার মূল চাবিকাঠি।
পাকিস্তানের জন্য সমাধান সরল: নামিবিয়া, যেটি এখনো কোনো জয় পায়নি, তাকে পরাজিত করে পয়েন্ট বাড়াতে হবে। যদি পাকিস্তান হারে, তবে তাদের টুর্নামেন্ট শেষ হয়ে যাবে এবং নেদারল্যান্ডসের জন্য একটি দরজা খুলে যাবে, যদিও নেদারল্যান্ডসকে সহ-আয়োজক ভারতকে বড় স্কোরে পরাজিত করতে হবে।
বাতাবরণে আবারও পাকিস্তান ক্রিকেট দলের ব্যাটিং লাইন‑আপের দুর্বলতা প্রকাশ পাবে, যেখানে বাবর আজম ও ক্যাপ্টেন সালমান আহগা প্রধান দায়িত্বে ছিলেন। উভয়ই ভারত দলের আক্রমণের মুখে গিয়ে ভেঙে পড়ে, বিশেষ করে একই ময়দানে তাদের পারফরম্যান্স প্রত্যাশার নিচে ছিল।
বাবর আজমের ক্ষেত্রে, তিনি মাত্র সাত ball‑এর মধ্যে পাঁচ রানই সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন, যা তার ক্যারিয়ারের অন্যতম নিম্ন পারফরম্যান্স। এই পারফরম্যান্সের পর থেকে তার বাদ দেওয়ার দাবি বাড়ছে, যদিও শেষ মুহূর্তে তাকে দলে রাখা হয়েছে।
বাটিং ইউনিটের ওপর বাড়তে থাকা সমালোচনা দলীয় কৌশলকে আরও জটিল করে তুলেছে। বিশেষ করে শীর্ষ ক্রমে স্থিতিশীলতা না থাকা নিয়ে বিশ্লেষকরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, এবং ভবিষ্যতে পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে।
বোলিং দিকেও সমানভাবে সমালোচনার মুখে পড়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট দল। দ্রুতগতি আক্রমণকারী শাহীণ শাহ আফরিদি মাত্র দুই ওভারে এক wicket নিলেন, তবে ৩১ রান দিয়ে ব্যয় করেছেন, যা তার সাধারণ পারফরম্যান্সের তুলনায় কম।
ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধে প্রথমে ফিল্ড বাছাই করার সিদ্ধান্তের পরেও পাকিস্তান ১১৪ রান সংগ্রহ করে ১৮ ওভারে শিকড় গেড়ে ফেলেছিল। লক্ষ্য ছিল ১৭৬ রান চেজে পৌঁছানো, কিন্তু শিকড় গড়ে তোলার সময় দলটি ধারাবাহিকভাবে চাপের মুখে পড়ে।
এখন নামিবিয়ার সঙ্গে ম্যাচে কোনো ত্রুটি সহ্য করা যাবে না। পাকিস্তানকে শীঘ্রই শক্তিশালী শটের মাধ্যমে রানের প্রবাহ বাড়াতে হবে এবং বোলারদেরকে রানের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।
পরবর্তী ম্যাচটি গ্রুপ এ’র শেষ সুযোগ, এবং জয় নিশ্চিত হলে পাকিস্তান সুপার আটে অগ্রসর হবে। অন্যথায়, টুর্নামেন্টের শেষের দিকে তাদের নাম আর থাকবে না, আর নেদারল্যান্ডসের জন্য একটি সম্ভাব্য পথ খুলে যাবে।
পাকিস্তান ক্রিকেট দলকে এখনো সময় নেই; প্রতিটি রান, প্রতিটি ওভার গুরুত্বপূর্ণ। নামিবিয়ার বিরুদ্ধে জয় নিশ্চিত করা হলে দলটি টুর্নামেন্টের পরবর্তী পর্যায়ে প্রবেশের সম্ভাবনা পাবে, আর না হলে তাদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মঞ্চ থেকে অদৃশ্য হয়ে যাওয়া নিশ্চিত।



