বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান, জামায়াত-এ-ইসলামির আমির, সংসদে শপথ নেওয়ার পরপরই মিরপুরের রাস্তাঘাট ও অলিগলিতে ঝাড়ু চালাতে বেরিয়ে পড়েন। তিনি ফজরের নামাজ শেষ করে স্থানীয় মসজিদ থেকে বেরিয়ে গ্লাভস ও মাস্ক পরে কাজ শুরু করেন। এই উদ্যোগটি তার নির্বাচনী এলাকার পরিষ্কার‑সুন্দর পরিবেশ গড়ে তোলার অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে জানানো হয়।
মিরপুরের একাধিক গলি ও প্রধান সড়কে শফিকুর রহমান ঝাড়ু দিয়ে মাটি ও আবর্জনা পরিষ্কার করেন। কাজের সময় তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং স্বেচ্ছাসেবকদের অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, এই কাজ একদিনের প্রচারণা নয়, বরং দলের ইউনিটগুলো প্রতিদিন চালিয়ে যাবে।
শফিকুর রহমানের মতে, ফজরের নামাজের পর অন্তত আধা ঘণ্টা সময় বের করে সবাই মিলে পরিষ্কার‑সুন্দর কাজ করা উচিত। কেউ এক ঘণ্টা সময় দিতে পারলে তা আরও ফলপ্রসূ হবে, এ কথাও তিনি যোগ করেন। তিনি স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়মিত অংশগ্রহণের জন্য দলীয় কাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা প্রকাশ করেন।
চিকিৎসক পেশার অধিকারী শফিকুর রহমান, মিরপুরকে রাজধানীর একটি ‘মডেল পাড়া’ রূপে গড়ে তোলার লক্ষ্য ঘোষণা করেন। যদিও সরকারী বরাদ্দ এখনো পাওয়া যায়নি, তবুও তিনি এই উদ্যোগ চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি সরকারের কাছে অনুরোধ করেন, ন্যায্য উন্নয়ন তহবিল থেকে তার এলাকাকে বাদ না দেওয়ার জন্য ব্যবস্থা নিতে।
বিরোধীদলীয় নেতা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদেরও সহযোগিতা করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, মিরপুরের পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দলীয় বিভাজনের উপরে উঠে সবাইকে কাজ করতে হবে। গণতন্ত্রের মূল্যের কথা তুলে ধরে তিনি উল্লেখ করেন, আজ তিনি জিতেছেন, তবে পরেরবার অন্য কেউ জিততে পারেন; তবে উন্নয়ন কাজ রাজনৈতিক বা ধর্মীয় পার্থক্যের কারণে থামা উচিত নয়।
শফিকুর রহমান এই পরিষ্কার‑সুন্দর কর্মসূচিকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হিসেবে উপস্থাপন করেন। তিনি ঢাকার মধ্যে থাকলে প্রতিদিনই এলাকায় এসে কাজ করবেন, আর ঢাকার বাইরে থাকলে সহকর্মীদের সঙ্গে সেখানে একই ধরনের উদ্যোগ চালিয়ে যাবেন। তার দলীয় ইউনিটগুলো নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও সমন্বয় করবে।
প্রতিপক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে, এখন পর্যন্ত কোনো প্রধান রাজনৈতিক দল বা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী থেকে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। কিছু বিশ্লেষক এই ধরনের কার্যক্রমকে নির্বাচনী সময়ে ভোটার আকর্ষণের প্রচেষ্টা হিসেবে দেখলেও, সংশ্লিষ্ট দলগুলো এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
শফিকুর রহমানের এই পদক্ষেপের ফলে তার রাজনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। মিরপুরের বাসিন্দাদের কাছ থেকে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলে স্থানীয় স্তরে তার জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাবে, যা ভবিষ্যৎ নির্বাচনী প্রভাব ফেলতে পারে। তবে সরকারী তহবিলের অনুপস্থিতি এবং অন্যান্য দলীয় সমর্থনের অভাব তার পরিকল্পনার বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করতে পারে।
শফিকুর রহমানের দল ইতিমধ্যে মিরপুরে স্বেচ্ছাসেবী ইউনিট গঠন করেছে এবং আগামী দিনগুলোতে পরিষ্কার‑সুন্দর কার্যক্রমের সময়সূচি প্রকাশ করবে। তিনি নিশ্চিত করেছেন, এই উদ্যোগ একবারের নয়, বরং ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যাবে, যাতে মিরপুরের পরিবেশগত মান উন্নত হয় এবং বাসিন্দাদের জীবনমান বাড়ে।



