রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন ১৭ ফেব্রুয়ারি, মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। তিনি তৎকালীন নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তরিক রহমানকে শপথবাক্য পাঠ করান এবং একই সময়ে তার মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদেরও শপথ গ্রহণ করেন। এই অনুষ্ঠানটি দেশের রাজনৈতিক সূচিতে তৃতীয় ধারাবাহিক সরকার গঠনের সূচক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
শপথ গ্রহণের সময় রাষ্ট্রপতি ঐতিহ্যবাহী শপথবাক্য উচ্চারণ করে এবং তরিক রহমানের হাতে শপথপত্র উপস্থাপন করেন। মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদেরও একই রীতিতে শপথ নেওয়া হয়, যা সংবিধানিক প্রক্রিয়ার সম্পূর্ণতা নিশ্চিত করে। উপস্থিতির মধ্যে সংসদ সদস্য, উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বিভিন্ন সরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা ছিলেন।
তরিক রহমানের সরকারকে ২০২৬ সালের শাসনকাল শুরু করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং তিনি অর্থনীতি, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা সহ মূল মন্ত্রিপরিষদ গঠন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। শপথ গ্রহণের পর তিনি সংক্ষিপ্ত ভাষণে দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের পুনর্গঠনের কথা উল্লেখ করেন। মন্ত্রিপরিষদের গঠন প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং নতুন নীতি নির্ধারণের জন্য দ্রুত কাজ শুরু হবে বলে জানানো হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে নতুন নীতি প্রণয়নের জন্য বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠন করা হবে এবং তা দ্রুত কার্যকর করা হবে। এছাড়া, আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থার সঙ্গে ঋণ পুনর্গঠন ও বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য আলোচনাও ত্বরান্বিত করা হবে।
এটি রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের তৃতীয় শপথ অনুষ্ঠান, পূর্বে তিনি ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারকে শপথ দিয়েছিলেন। সেই সময়ে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনা শপথ গ্রহণ করেন এবং তার দলকে সরকার গঠন করার অনুমোদন পান। এই শপথের পর সরকার ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের ফলে পতিত হয়।
অভ্যুত্থানটি দেশের নিরাপত্তা কাঠামোকে অস্থির করে তুলেছিল এবং সরকারকে কার্যকরভাবে পরিচালনা করা কঠিন করে দেয়। ফলস্বরূপ, ৫ আগস্টের ঘটনার পর শাসনক্ষমতা হ্রাস পায় এবং ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করা



