32 C
Dhaka
Wednesday, February 18, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিকযুক্তরাষ্ট্রের পৃথক নৌযান হামলায় প্রশান্ত ও ক্যারিবীয় সাগরে ১১ জন নিহত

যুক্তরাষ্ট্রের পৃথক নৌযান হামলায় প্রশান্ত ও ক্যারিবীয় সাগরে ১১ জন নিহত

যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন কমান্ড (সাউথকম) সোমবার রাতে পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগর ও ক্যারিবীয় সাগরে তিনটি স্বতন্ত্র নৌযানকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়, যার ফলে ১১ জন সন্দেহভাজন মাদক-সন্ত্রাসী মারা যায়। সব নিহতই পুরুষ এবং তাদেরকে মাদক পাচারকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

সাউথকমের বিবরণে বলা হয়েছে, প্রথম হামলাটি পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে ঘটেছে এবং এতে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। একই অঞ্চলে আরেকটি নৌযানে দ্বিতীয় হামলায় অতিরিক্ত চারজন নিহত হয়। ক্যারিবীয় সাগরে তৃতীয় হামলায় তিনজনের প্রাণ ত্যাগ করে।

সামাজিক মাধ্যমে সাউথকমের পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে, গোয়েন্দা তথ্য নিশ্চিত করেছে যে লক্ষ্যবস্তু নৌযানগুলো মাদক পাচার অভিযানে লিপ্ত ছিল এবং পরিচিত মাদক রুটে চলাচল করছিল। এই তথ্যের ভিত্তিতে অপারেশনটি পরিকল্পনা করা হয়েছিল।

হামলার সময় কোনো মার্কিন সামরিক কর্মী আহত হয়নি বলে জানানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর কোনো সদস্যের ক্ষতি না হওয়ায় অপারেশনটি সফল হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন সেপ্টেম্বর থেকে পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগর ও ক্যারিবীয় সাগরে সন্দেহভাজন মাদক পাচারকারী নৌযানগুলোর বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে আসছে। ট্রাম্পের দল দাবি করে যে এই সময়ে ৪০টিরও বেশি নৌযান আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে এবং ১৩০ জনের বেশি সন্দেহভাজন মাদক পাচারকারী নিহত হয়েছে।

প্রশাসনের যুক্তি হল, এই অঞ্চলে চোরাচালান হয়ে আসা মাদকের ফলে বহু মার্কিন নাগরিকের মৃত্যু ঘটছে, তাই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া অপরিহার্য। তবে, এই দাবির পক্ষে সরাসরি কোনো পরিসংখ্যান বা প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।

জানুয়ারির শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলা সরকারের (ভেনেজুয়েলা সরকার) প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তার করে দেশ থেকে বহিষ্কৃত করার পর থেকে এই ধরনের হামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। মাদুরোকে মাদক পাচার গোষ্ঠীর সমর্থক হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছিল, যা যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক নীতি পরিবর্তনের সূচক হিসেবে দেখা হয়।

এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সরকারী সংস্থা লক্ষ্যবস্তু নৌযানগুলো সত্যিই মাদক বহন করছিল কিনা তা প্রমাণস্বরূপ কোনো নথি প্রকাশ করেনি। অপারেশনের বৈধতা ও ন্যায়সঙ্গততা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসন এই হামলাগুলোকে আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে বৈধ বলে দাবি করে, তবে বেশ কয়েকজন আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ এই ঘটনাকে ‘বেআইনি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তারা যুক্তি দেন যে লক্ষ্যবস্তু নৌযানগুলোকে শত্রু হিসেবে ঘোষণা না করে সরাসরি গুলি চালানো আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের লঙ্ঘন হতে পারে।

একজন কূটনীতিকের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এই ধরনের স্বতন্ত্র সামরিক পদক্ষেপ অঞ্চলীয় নিরাপত্তা কাঠামোর ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে এবং ভেনেজুয়েলা সরকারসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের এই নীতি আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং মানবাধিকার সংস্থার তদারকি মুখোমুখি হতে পারে।

বিশ্লেষকরা পূর্বাভাস দিচ্ছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি এই ধরনের অপারেশন চালিয়ে যায় তবে আন্তর্জাতিক আদালতে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা জটিল হয়ে উঠতে পারে। তাই, পরবর্তী কয়েক মাসে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর কার্যক্রমের ওপর নজরদারি বাড়বে এবং সম্ভাব্য কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খোঁজা হবে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
AI-powered আন্তর্জাতিক content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments