32 C
Dhaka
Wednesday, February 18, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধশেরপুরে গুঁড়া মসলার ভেজাল ধরা, দুজনকে মোট ১.২০ লাখ টাকা জরিমানা

শেরপুরে গুঁড়া মসলার ভেজাল ধরা, দুজনকে মোট ১.২০ লাখ টাকা জরিমানা

শেরপুর সদর উপজেলার কামার চর ইউনিয়নের ডোবারচর বাজারে গুঁড়া মসলার ভেজাল উৎপাদন ও বিক্রির অভিযোগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালায়। অভিযানে দুইজনকে ধরা পড়ে এবং মোট এক লাখ বিশ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়।

অভিযানটি শেরপুর সদর থানার ওসি সোহেল রানা নির্দেশনা অনুযায়ী পরিচালিত হয়। তিনি জানান, অভিযানের সময় ডোবারচর বাজারে গিয়ে মসলা মিলের মালিক বাসেদ মিয়া এবং তার সহকারী আলীর কাজ পর্যবেক্ষণ করা হয়।

ধরা পড়া দুজনের পরিচয় হল: বাসেদ মিয়া, ৪৫ বছর বয়সী, ডোবারচর দক্ষিণ পাড়া গ্রামের আবদুল খালেকের পুত্র, এবং মো. মিস্টার আলী, ৩৫ বছর বয়সী, সন্যাসীরচর গ্রামের হরমুজ আলীর পুত্র। দুজনই মসলা গুঁড়া তৈরির কাজে জড়িত ছিলেন।

ওসি সোহেল রানা উল্লেখ করেন, অভিযানের সময় দেখা যায় বাসেদ মিয়া ও আলী মরিচের গুঁড়োর সঙ্গে রঙ এবং ধানের গুঁড়া মিশিয়ে গুঁড়া মসলা তৈরি করছিলেন। সন্দেহজনক উপকরণগুলো নিয়ে তারা তৎক্ষণাৎ আটক হয়ে উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়।

এরপর শেরপুর সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইশতিয়াক মজনুন ইশতির নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পুনরায় অভিযান চালিয়ে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করে। আদালত বাসেদ মিয়াকে এক লাখ টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেয়। তার সহকারী আলীকে বিশ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে এক মাসের কারাদণ্ড আরোপ করা হয়।

অভিযানের সময় মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর রঙ, এক বস্তা ধানের গুঁড়া, দুই বস্তা পচা মরিচ এবং প্রায় আশি কিলোগ্রাম ভেজাল মসলা জব্দ করা হয়। এসব উপকরণ দিয়ে হলুদ গুঁড়া ও মরিচ গুঁড়া তৈরি করা হচ্ছিল, যা বাজারে বিক্রি হলে গ্রাহকের স্বাস্থ্যের জন্য হুমকি সৃষ্টি করতে পারত।

জব্দকৃত ভেজাল মসলা ও সংশ্লিষ্ট উপকরণগুলোকে জনসমক্ষে ধ্বংস করা হয়। ধ্বংসের সময় উপস্থিতদের মধ্যে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও গ্রাহকরা ছিলেন, যারা নিরাপদ বাজার নিশ্চিত করার জন্য এই পদক্ষেপের স্বাগত জানিয়েছেন।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের সিদ্ধান্তের পর, মামলাটি সংশ্লিষ্ট থানা ও উপজেলা প্রশাসনের রেকর্ডে সংরক্ষণ করা হয়। প্রয়োজনে বিষয়টি নিয়মিত আদালতে পাঠিয়ে অতিরিক্ত শাস্তি বা সম্পত্তি জব্দের ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ভবিষ্যতে এ ধরনের ভেজাল কার্যক্রম রোধে নজরদারি বাড়ানোর কথা জানিয়েছে।

এই ঘটনা শেরপুরে মসলা শিল্পের স্বচ্ছতা ও গ্রাহক সুরক্ষার গুরুত্ব পুনরায় তুলে ধরেছে। স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমে বাজারে নকল পণ্য প্রবেশ রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যা শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের স্বাস্থ্যের রক্ষা করবে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments