লিসবনে অনুষ্ঠিত চ্যাম্পিয়ন্স লিগ প্লে‑অফ প্রথম লেগে রিয়াল মাদ্রিদ ১-০ জয় অর্জন করে, তবে ম্যাচের মাঝামাঝি রেসিস্টিক মন্তব্যের অভিযোগে তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয়। রিয়াল মাদ্রিদের ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপ্পে বেনফিকার তরুণ উইংবেক গিয়ানলুকা প্রেস্টিয়ানিকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানায়, কারণ তিনি ভিনিসিয়াস জুনিয়রের প্রতি রেসিস্টিক শব্দ ব্যবহার করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
প্রেস্টিয়ানি এই অভিযোগ অস্বীকার করে, তিনি বলছেন ভিনিসিয়াস ভুল শোনেন। ঘটনাটি ঘটে যখন ভিনিসিয়াস দ্বিতীয়ার্ধের পাঁচ মিনিটের মধ্যে রিয়ালকে নেতৃত্ব দেয় এবং দলকে এক গোলের সুবিধা দেয়। টেলিভিশন ফুটেজে দেখা যায় প্রেস্টিয়ানি তার শার্ট দিয়ে মুখ ঢেকে কিছু বলছেন, যা ভিনিসিয়াস ও তার কাছের সহকর্মীরা রেসিস্টিক স্লার হিসেবে ব্যাখ্যা করে।
ফিফার অ্যান্টি‑রেসিস্টিক প্রোটোকল সক্রিয় হওয়ায় রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেটেক্সিয়ের ম্যাচটি ১১ মিনিটের জন্য থামিয়ে দেন। পুনরায় খেলা শুরু হওয়ার পর ভিনিসিয়াস এবং এমবাপ্পে উভয়ই ঘরোয়া দর্শকদের কাছ থেকে তীব্র বু-ইনিং পায়, যখনই তারা বল স্পর্শ করে। তীব্র উত্তেজনা সত্ত্বেও উভয় দলই অতিরিক্ত কোনো বিরতি ছাড়াই ম্যাচটি শেষ করে।
প্রেস্টিয়ানি ইনস্টাগ্রামে লিখে জানিয়েছেন, “আমি কখনোই ভিনি জুনিয়রের প্রতি রেসিস্টিক মন্তব্য করি নি, এবং আমি যে হুমকি পেয়েছি তা নিয়ে দুঃখিত।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে ভিনিসিয়াসের কথায় তিনি ভুল শোনার কারণে এই ভুল বোঝাবুঝি ঘটেছে।
এদিকে এমবাপ্পে মিডিয়ার সামনে বলেন, তিনি প্রেস্টিয়ানির একই রকম রেসিস্টিক মন্তব্য বহুবার শুনেছেন, যা রিয়াল মাদ্রিদের মিডফিল্ডার অরেলিয়েন তশুয়ামেনও উল্লেখ করেছেন। এমবাপ্পে জানান, তিনি এক মুহূর্তে মাঠ ছাড়তে প্রস্তুত ছিলেন, তবে ভিনিসিয়াসের অনুরোধে তিনি খেলা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। “ইউরোপের শীর্ষ ফুটবল প্রতিযোগিতায় এমন কোনো খেলোয়াড়ের উপস্থিতি গ্রহণযোগ্য নয়, প্রেস্টিয়ানি আর চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলতে পারবে না,” এমবাপ্পে বলেন।
এমবাপ্পে আরও জোর দিয়ে বলেন, “বাচ্চারা আমাদের দেখছে, তাই আমরা এমন আচরণকে সহ্য করতে পারি না। বিশ্ব আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে, এবং আজকের ঘটনা তা গ্রহণযোগ্য নয়।” তার এই মন্তব্যগুলো ম্যাচের পরের প্রেস কনফারেন্সে প্রকাশ পায়।
প্রেস্টিয়ানির ইনস্টাগ্রাম পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, “আমি কখনোই কোনো রেসিস্টিক মন্তব্য করিনি এবং আমি রিয়াল মাদ্রিদের খেলোয়াড়দের থেকে প্রাপ্ত হুমকির জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি।” তিনি তার পোস্টে ক্ষমা চেয়ে বলেন এবং এই ঘটনার ফলে তার উপর যে মানসিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে তা উল্লেখ করেন।
রিয়াল মাদ্রিদের পক্ষ থেকে এই ঘটনার পরবর্তী পদক্ষেপের কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনো প্রকাশিত হয়নি, তবে এমবাপ্পের দাবি অনুযায়ী ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থা (UEFA) এই বিষয়ে তদন্ত শুরু করতে পারে। একই সঙ্গে বেনফিকার ক্লাব ব্যবস্থাপনা প্রেস্টিয়ানির পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য প্রকাশ করেনি।
এই ম্যাচের ফলাফল রিয়াল মাদ্রিদকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে অগ্রসর হতে সাহায্য করেছে, তবে রেসিস্টিক মন্তব্যের অভিযোগ এবং তার ফলে সৃষ্ট উত্তেজনা ফুটবলের বাইরে সামাজিক দায়িত্বের প্রশ্ন তুলেছে। উভয় দলই পরবর্তী লেগে একই শর্তে মুখোমুখি হবে, এবং এই বিষয়টি কীভাবে সমাধান হবে তা ফুটবল জগতের দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ হবে।
ম্যাচের পরের দিন উভয় দলের কোচ ও খেলোয়াড়দের মন্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে তারা মাঠে মনোযোগ বজায় রাখতে চায়, তবে রেসিস্টিক মন্তব্যের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা পুনরাবৃত্তি না হয় তা নিশ্চিত করতে UEFA এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর নীতি প্রয়োগের প্রত্যাশা করা হচ্ছে।



