গাজেট বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথদান করা হয়েছে এবং ২৫ জন মন্ত্রী ও ২৪ জন রাষ্ট্রমন্ত্রীর সমন্বয়ে নতুন ক্যাবিনেট গঠন করা হয়েছে। শপথ অনুষ্ঠান গতকাল অনুষ্ঠিত হয় এবং সরকারী কার্যক্রমের সূচনা চিহ্নিত করেছে।
নতুন ক্যাবিনেটের গঠনকে কেন্দ্র করে গাজেটের মাধ্যমে মন্ত্রিপরিষদের দায়িত্ব ও পোর্টফোলিও নির্ধারিত হয়েছে। এতে প্রধানমন্ত্রীর অধীনে ক্যাবিনেট বিভাগ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সশস্ত্র বাহিনীর বিভাগ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
গাজেটের স্বাক্ষরকারী ক্যাবিনেট সেক্রেটারি নাসিমুল গানি, বিজ্ঞপ্তি গতকাল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে তাৎক্ষণিক কার্যকরী ঘোষণা করেছেন। এই পদক্ষেপের ফলে মন্ত্রিপরিষদের কাজ দ্রুত শুরু হওয়ার ভিত্তি স্থাপিত হয়েছে।
গাজেট অনুযায়ী, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে স্থানীয় সরকার, গ্রামোন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে। তিনি পূর্বে পার্টির উচ্চপদস্থ নেতা হিসেবে পরিচিত এবং নতুন মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।
আহসান খান চৌধুরীকে অর্থ মন্ত্রণালয় ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অর্থনীতি ও উন্নয়ন নীতির দিকনির্দেশনা নির্ধারণে তিনি প্রধান দায়িত্বশীল হিসেবে কাজ করবেন।
সালাহুদ্দিন আহমেদকে গৃহ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে। গৃহ নিরাপত্তা ও অভ্যন্তরীণ শাসন ব্যবস্থার তদারকি তার প্রধান কাজ হবে।
ক্যাবিনেটের মোট ২৫ জন মন্ত্রী এবং ২৪ জন রাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পুনর্বণ্টন করা হয়েছে। এই পুনর্বণ্টন সরকারী নীতি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় কাঠামো গড়ে তুলবে।
গাজেটের প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে মন্ত্রিপরিষদের কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং নতুন নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের কাজ ত্বরান্বিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সরকারী দপ্তরগুলোতে দায়িত্বশীলদের সঙ্গে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর অধীনে ক্যাবিনেট বিভাগ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সশস্ত্র বাহিনীর বিভাগে তারেক রহমানের তত্ত্বাবধান থাকবে। এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরে তার নেতৃত্বের প্রভাব দেশের নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক নীতিতে প্রতিফলিত হবে।
গাজেট বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত মন্ত্রিপরিষদের দায়িত্বের পাশাপাশি, পরবর্তী ধাপে বাকি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব অর্পণ এবং রাষ্ট্রমন্ত্রীর পোর্টফোলিও নির্ধারণের কাজ চালু হবে। সরকারী পরিকল্পনা অনুযায়ী এই প্রক্রিয়া শীঘ্রই সম্পন্ন হবে।
বিএনপি নেতৃত্বের এই নতুন গঠন দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন দিক উন্মোচন করবে এবং আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বিশ্লেষকরা মন্তব্য করছেন। তবে সরকারী দৃষ্টিকোণ থেকে এটি নীতি বাস্তবায়নের ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত।
গাজেটের প্রকাশের পর মন্ত্রিপরিষদের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে অগ্রাধিকার বিষয়গুলো নির্ধারণ এবং কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে। সভায় ক্যাবিনেট বিভাগ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনীর বিভাগে সমন্বয় নিশ্চিত করা হয়েছে।
এই গঠন দেশের প্রশাসনিক কাঠামোকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি, অর্থনীতি, নিরাপত্তা ও সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে সমন্বিত নীতি গড়ে তোলার লক্ষ্য রাখে। পরবর্তী সময়ে মন্ত্রিপরিষদের কাজের অগ্রগতি ও ফলাফল জনসাধারণের নজরে থাকবে।



