চ্যাম্পিয়নস লিগ প্লে‑অফের প্রথম লেগে রিয়াল মাদ্রিদ বেনফিকার ঘরে ১–০ গোলে জয়লাভ করে। গোলটি ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ৫০তম মিনিটে করেন, যা দলকে অগ্রগতি দেয়। তবে গোলের উদযাপনের সময় ভিনিসিয়ুস এবং বেনফিকার আর্জেন্টাইন উইঙ্গার জিয়ানলুকা প্রেস্তিয়ান্নির মধ্যে তীব্র কথোপকথন হয়, যা পরবর্তীতে বর্ণবাদী অভিযোগে রূপ নেয়।
ভিনিসিয়ুসের দাবি অনুযায়ী প্রেস্তিয়ান্নি তাকে “বানর” বলে সম্বোধন করেন। রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ের ঘটনাটিকে তীব্রতা দিয়ে, বর্ণবাদী আচরণের সন্দেহে ম্যাচটি দশ মিনিটের বেশি সময়ের জন্য থামিয়ে রাখেন। ভিনিসিয়ুসের সহকর্মী অঁরেলিয়ে চুয়ামেনি রেফারির কাছে অভিযোগ তুলে, যে তিনি বর্ণবাদী মন্তব্য শোনেননি বলে কোনো পদক্ষেপ নিতে পারছেন না।
ঘটনার পর ভিনিসিয়ুস ইনস্টাগ্রামে প্রকাশ করেন যে বর্ণবাদীরা “কাপুরুষ” এবং তাদের দুর্বলতা ঢাকতে জার্সি তুলে মুখে কথা বলে। একই সময়ে প্রেস্তিয়ান্নি সামাজিক মাধ্যমে তার মন্তব্যের ভুল বোঝাবুঝি স্বীকার করে, বলেন তিনি কখনো ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে বর্ণবাদী শব্দ ব্যবহার করেননি এবং কোনো বর্ণবাদী ইচ্ছা রাখেননি।
রিয়াল মাদ্রিদের কোচ আলভারো আরবেলোয়া ঘটনাটি নিয়ে দলীয় আলোচনা করেন। তিনি জানান, ভিনিসিয়ুস যদি ইচ্ছা করে মাঠ ছেড়ে যেতে চায় তবে দল তা অনুমোদন করত, তবে শেষ পর্যন্ত খেলোয়াড়কে সমর্থন করে ম্যাচ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আরবেলোয়া জোর দিয়ে বলেন, বর্ণবাদের কোনো সহনশীলতা থাকবে না এবং ২০২৬ সালের মধ্যে এমন ঘটনা পুনরায় না ঘটার জন্য কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি রেফারির সঙ্গে কথোপকথনের বিষয়েও উল্লেখ করেন, যে রেফারি কোনো শোনা না পাওয়ার কথা জানান, ফলে তাত্ক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়নি।
বেনফিকার কোচ জোসে মরিনিওও ঘটনাটির পর দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে আলোচনা করেন। তিনি বলছেন, মাঠে এমন ঘটনার ফলে খেলোয়াড়দের মানসিক চাপ বাড়ে, তবে দলকে শান্ত রাখার জন্য সব ধরনের সহায়তা প্রদান করা হবে। উভয় দলের কোচের মন্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, বর্ণবাদী আচরণে শূন্য সহনশীলতা বজায় রাখতে উভয় দিকই দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
এই ঘটনার পর রিয়াল মাদ্রিদ ও বেনফিকার পরবর্তী লিগ ম্যাচের সময়সূচি এখনও নির্ধারিত, তবে উভয় দলই এই বিতর্কের পরও তাদের পারফরম্যান্স বজায় রাখার দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। ভিনিসিয়ুসের গোল এবং তার পরের বিতর্ক উভয়ই চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসে একটি অস্বাভাবিক মুহূর্ত হিসেবে রেকর্ড হবে।



