ফিলিপাইনের ভাইস প্রেসিডেন্ট সারা দুত্তে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য নিজের নাম প্রার্থীর তালিকায় যুক্ত করেছেন। ৪৭ বছর বয়সী দুত্তে এই ঘোষণা দেশের রাজনৈতিক মঞ্চে চলমান ক্ষমতার টানাপোড়েনের মাঝখানে দিয়েছেন। তার প্রস্তাবিত পদত্যাগের সময়সীমা দুই বছর দূরে, তবে ফিলিপাইনের নির্বাচনী প্রক্রিয়া প্রায়শই বহু বছর আগে থেকেই প্রস্তুতি শুরু করে।
দুত্তের প্রার্থিতা ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ফেরদিনান্ড “বংবং” মারকোস জুনিয়রের সঙ্গে চলমান বিরোধ আরও তীব্র হয়েছে। দুজনের মধ্যে ক্ষমতার লড়াই সাম্প্রতিক মাসে তীব্রতা পেয়েছে, যেখানে উভয় পক্ষই নিজস্ব রাজনৈতিক ভিত্তি শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে। মারকোসের পুনর্নির্বাচনের যোগ্যতা নেই, ফলে ২০২৮ সালের নির্বাচন তার পার্টির জন্য নতুন মুখের সন্ধানকে বাধ্য করে।
বক্তব্যে দুত্তে বলেছিলেন, “আমি আমার জীবন, শক্তি ও ভবিষ্যৎ দেশের সেবায় উৎসর্গ করছি। আমি সারা দুত্তে, ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্টের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব।” এই শব্দগুলো তার রাজনৈতিক সংকল্পকে স্পষ্ট করে এবং তার সমর্থকদের কাছে দৃঢ়তা প্রকাশ করে।
দুত্তে এবং মারকোস ২০২২ সালের নির্বাচনে একই টিকিটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিশাল জয় অর্জন করলেও, তাদের সহযোগিতা দ্রুতই ভেঙে যায়। দুজনের স্বতন্ত্র রাজনৈতিক লক্ষ্য এবং পারিবারিক স্বার্থের পার্থক্য তাদের মধ্যে দূরত্ব বাড়িয়ে দেয়। এই বিচ্ছেদ দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন গতি সৃষ্টি করেছে।
মারকোসের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি বিশেষত মার্চ ২০২৫-এ আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (International Criminal Court) দ্বারা দুত্তের পিতা রড্রিগো দুত্তের গ্রেফতার অনুমোদনের পর স্পষ্ট হয়ে ওঠে। রড্রিগো দুত্তে বর্তমানে হ্যাগে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে বিচারাধীন, যা দেশের অভ্যন্তরে ও আন্তর্জাতিক স্তরে বড় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
দু মাস পর, মধ্যমেয়াদী আইনসভা নির্বাচনে দুত্তের পারিবারিক সমর্থনপ্রাপ্ত প্রার্থীরা মারকোসের সমর্থিত প্রার্থীদের পরাজিত করে একটি গুরুত্বপূর্ণ জয় অর্জন করে। এই ফলাফল সরকারী নীতি ও জনমত মূল্যায়নের সূচক হিসেবে বিবেচিত হয় এবং দুত্তের রাজনৈতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করে।
প্রায় এক সপ্তাহ আগে, ক্যাথলিক ধর্মগুরুদের একটি গোষ্ঠী ভাইস প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে ইম্পিচমেন্টের আবেদন দায়ের করে। দুত্তে এই অভিযোগ অস্বীকার করে এবং তার বিরোধী দলকে রাজনৈতিক চালচলন হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
এই সব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আরও জটিল রূপ নেবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। দুত্তের প্রার্থীতা মারকোসের পার্টির জন্য নতুন প্রতিদ্বন্দ্বী তৈরি করবে, আর তার পিতার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে চলমান মামলাও ভোটারদের মনোভাবকে প্রভাবিত করতে পারে।
ভবিষ্যতে দুত্তের দলীয় সমর্থন, নির্বাচনী জোটের গঠন এবং আইনগত চ্যালেঞ্জগুলোই নির্ধারণ করবে তিনি প্রেসিডেন্ট পদে কতটা সফল হতে পারবেন। একই সঙ্গে মারকোসের সমর্থকরা নতুন মুখের সন্ধানে কৌশলগত পদক্ষেপ নিতে পারে, যা ফিলিপাইনের রাজনৈতিক দৃশ্যকে পুনর্গঠন করতে পারে।



