মঙ্গলবার জাতীয় যুব ও ক্রীড়া রাজ্য মন্ত্রী পদে শপথ নেওয়ার পর, প্রাক্তন জাতীয় ফুটবল দল ক্যাপ্টেন অমিনুল হক মিরপুরে নিজের বাসায় সাংবাদিকদের সম্মুখে সরকারী ক্রীড়া পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। তিনি জানান, নতুন সরকার ক্রীড়া পরিবেশকে সুস্থ করতে, প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করতে চায়।
অমিনুল হককে বাংলাদেশের ফুটবলে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিদের মধ্যে গণ্য করা হয়। তিনি ধীরগতির অল্প সময়ের মধ্যে প্রযুক্তিবিদ কোটা দিয়ে মন্ত্রিপদে যোগ দেন, যদিও ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনে ঢাকা-১৬ থেকে সূক্ষ্ম পার্থক্যে হারে যান। তার রাজনৈতিক উত্থান বহু speculation-এ ঘেরা ছিল, তবে শপথ গ্রহণের পর তিনি দ্রুত নীতি প্রকাশে মনোনিবেশ করেন।
ভোলা জেলার বাসিন্দা এবং মিরপুরে বেড়ে ওঠা অমিনুলের শীর্ষ স্তরের ক্রীড়া ক্যারিয়ার মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব থেকে শুরু হয়। তিনি প্রথমে অভিজ্ঞ সইদ হাসান কানান-এর পেছনে তৃতীয় গার্ড হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, তবে ধীরে ধীরে নিজের স্থান নিশ্চিত করেন। ১৯৯৮ সালে কাতারের সঙ্গে একটি আন্তর্জাতিক বন্ধুত্বপূর্ণ ম্যাচে তার আন্তর্জাতিক ডেবিউ হয় এবং ২০১১ সাল পর্যন্ত তিনি জাতীয় দলের গার্ড হিসেবে নিয়মিত উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রিপদে শপথ নেওয়ার পর তিনি ক্রীড়া পরিবেশকে স্বচ্ছ ও বন্ধুত্বপূর্ণ করার লক্ষ্য প্রকাশ করেন। অতীতের সময়ে সংগঠক, খেলোয়াড় এবং সাংবাদিকের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে, যা এখন বন্ধ করার প্রয়োজনীয়তা তিনি জোর দেন। সকল স্টেকহোল্ডারকে একত্রে কাজ করার জন্য সমন্বয়মূলক মঞ্চ গড়ে তোলার পরিকল্পনা তার বক্তব্যে স্পষ্ট।
ইন্ডিয়ার সঙ্গে ক্রীড়া সম্পর্কের ক্ষেত্রে অমিনুল হক তৎক্ষণাৎ পদক্ষেপ নেন। শপথের পরই তিনি পার্লামেন্ট এলাকার ইন্ডিয়ান ডেপুটি কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং পারস্পরিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ক্রীড়া ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা কূটনৈতিক পথে এগিয়ে নিতে হবে এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (ICC) এর নিয়ম মেনে সমস্যার সমাধান করা উচিত।
ক্রীড়া নীতির বৃহত্তর দিক থেকে তিনি পাঁচটি প্রধান খেলাকে গ্রেড ৪ থেকে বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। ফুটবল ও ক্রিকেটের পাশাপাশি তিনটি অতিরিক্ত শাখা অন্তর্ভুক্ত হবে, এবং প্রতিটি শাখার জন্য তিনজন ক্রীড়া শিক্ষক নিয়োগের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি একটি ক্রীড়া অফিসারকে সমন্বয়কারী হিসেবে স্থাপন করা হবে, যাতে স্কুল পর্যায়ে কার্যকরী বাস্তবায়ন নিশ্চিত হয়।
শিক্ষা ব্যবস্থায় এই পরিবর্তন ক্রীড়া সংস্কৃতিকে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি বলেন। গ্রেড ৪ থেকে শুরু করে শিশুদের নিয়মিত শারীরিক প্রশিক্ষণ ও প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে পরিচয় করিয়ে দেওয়া ভবিষ্যৎ ক্রীড়াবিদ গড়ে তুলতে সহায়ক হবে। এছাড়া, ক্রীড়া শিল্পের উন্নয়ন, ক্রিকেট ও খেলোয়াড়দের সঙ্গে সম্পর্কিত জ্বালাতন সমস্যার সমাধান, এবং ক্রীড়া সংস্থার আর্থিক সীমাবদ্ধতা দূর করার জন্য বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
অমিনুল হক উল্লেখ করেন, ক্রীড়া সংস্থার মধ্যে বিদ্যমান দুর্নীতি ও আর্থিক ঘাটতি দূর করতে স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা বাড়াতে হবে। সরকারী তহবিলের সঠিক ব্যবহার এবং বেসরকারি বিনিয়োগের উৎস বাড়িয়ে ক্রীড়া শিল্পকে স্বনির্ভর করতে পরিকল্পনা রয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের ক্রীড়া অবকাঠামোকে আধুনিকায়ন এবং আন্তর্জাতিক মানে পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারিত হয়েছে।
সারসংক্ষেপে, অমিনুল হকের শপথ গ্রহণের পরপরই তিনি ক্রীড়া নীতির বিস্তৃত রূপরেখা উপস্থাপন করেছেন, যা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া বাধ্যতামূলক করা, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক উন্নয়ন, এবং ক্রীড়া সংস্থার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দিকে কেন্দ্রীভূত। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশের ক্রীড়া পরিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে এবং ভবিষ্যৎ ক্রীড়াবিদদের বিকাশে সহায়তা করবে।



