গতকাল শপথ গ্রহণের পর নতুন মন্ত্রিসভার বেশ কয়েকজন সদস্য উল্লেখ করেছেন যে, অর্থনৈতিক সংস্কার, আইনশৃঙ্খলা উন্নয়ন এবং স্বচ্ছ শাসনকে সরকারীর শীর্ষ অগ্রাধিকার হিসেবে গণ্য করা হবে। তারা বিনিয়োগ বাড়ানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টিকরণ এবং প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা দূর করার জন্য সমন্বিত পদক্ষেপের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিযুক্ত আহসান খান চৌধুরী নতুন ক্যাবিনেটকে “একটি ভাল ক্যাবিনেট” বলে বর্ণনা করে উল্লেখ করেন, নতুন সরকার বিনিয়োগকে অগ্রাধিকার দেবে এবং ব্যবসায়িক পরিবেশকে আরও বন্ধুত্বপূর্ণ করে তুলবে।
তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি অর্থনীতি গড়ে তুলতে চাই যেখানে প্রত্যেকের অংশগ্রহণের সুযোগ থাকবে এবং সুবিধা সমানভাবে পৌঁছাবে।” তিনি অতিরিক্তভাবে উল্লেখ করেন, দেশের অর্থনৈতিক কাঠামোকে অতীতের একতান্ত্রিক মডেল থেকে মুক্ত করে গণতান্ত্রিক রূপান্তরকে ত্বরান্বিত করা হবে।
রমজান মাসের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে পণ্য বাজারের পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্নের উত্তর দিতে তিনি জানান, শপথ গ্রহণের পর থেকে সরকার সম্পূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করেছে এবং বাজারে কোনো বিশৃঙ্খলা বা সিন্দিকেটের পুনরাবৃত্তি হবে না বলে আশ্বাস দিয়েছেন।
অবস্থা বিশ্লেষণে তিনি উল্লেখ করেন, দারিদ্র্যের হার বাড়ছে, দেশীয় ও বিদেশি বিনিয়োগের প্রবাহ হ্রাস পাচ্ছে, এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ কমে যাচ্ছে। পাশাপাশি, বেসরকারি খাতের বৃদ্ধি এখনও যথেষ্ট নয়।
এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তিনি বৃহৎ পরিসরের নিয়মবিহীনতা (ডি-রেগুলেশন) প্রয়োগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন, যা বিনিয়োগের পরিবেশকে সহজতর করবে এবং অর্থনৈতিক গতিশীলতা বাড়াবে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, দেশীয় এবং বিদেশি উভয় ধরনের বিনিয়োগকে উৎসাহিত করা, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি হলে দেশের সামগ্রিক উৎপাদনশীলতা বাড়বে।
আহসান খান চৌধুরী আরও উল্লেখ করেন, “দেশের ভিতরে বা বাইরে কাজ করা মানুষদের জীবনের মান উন্নত করা আমাদের লক্ষ্য।” এভাবে তিনি কর্মসংস্থান ও মজুরির উন্নয়নের মাধ্যমে সামাজিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
আইন, ন্যায়বিচার ও সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিযুক্ত Md Asaduzzaman শাসনের শাসনব্যবস্থা ও মানবাধিকার রক্ষাকে তার মন্ত্রণালয়ের প্রধান কাজ হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। তিনি বলেন, দেশের আইনগত কাঠামোকে শক্তিশালী করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, “জনগণের উচ্চ প্রত্যাশা পূরণ করা আমাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে।” এই প্রত্যাশা পূরণে তিনি সরকারকে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ দেখিয়েছেন।
মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণের পর থেকে সরকারী ঘোষণায় স্পষ্ট হয়েছে যে, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, আইনশৃঙ্খলা এবং স্বচ্ছ শাসনকে সমন্বিতভাবে অগ্রসর করা হবে। এই নীতি বাস্তবায়ন হলে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন সূচকগুলোতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা অনুমান করছেন, যদি সরকার উল্লেখিত সংস্কারগুলো দ্রুত কার্যকর করে, তবে বিনিয়োগের প্রবাহ পুনরুদ্ধার, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং দারিদ্র্য হ্রাসে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা যাবে। তবে এর জন্য ধারাবাহিক মনিটরিং এবং নীতি সমন্বয় প্রয়োজন হবে।
সারসংক্ষেপে, শপথ গ্রহণের পর নতুন মন্ত্রিসভার প্রধান লক্ষ্যগুলো হল অর্থনৈতিক পরিবেশকে সহজতর করা, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী সেবা প্রদান করা, যা দেশের দীর্ঘমেয়াদী সমৃদ্ধির ভিত্তি গড়ে তুলবে।



