দিল্লি‑ঢাকা পারস্পরিক সমঝোতার পর, নতুন সংসদকে সংবিধান অনুযায়ী নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথের ৩০ দিনের মধ্যে প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত করতে হবে। ১৩তম জাতীয় সংসদে শপথ গ্রহণের পর, রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিনের অধীনে সংবিধানিক ক্ষমতা ব্যবহার করে প্রথম সভা আহ্বান করা হবে।
সংবিধানের ধারা অনুসারে, নতুন সংসদকে শপথের পর এক মাসের মধ্যে তার প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত করতে হবে, যাতে আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু হয়। রাষ্ট্রপতি এই আহ্বান জানাবেন এবং সংসদকে সমবেত করার দায়িত্ব পালন করবেন।
১২তম সংসদের স্পিকার শিরিন শারমিন চৌধুরী পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন, ফলে প্রথম অধিবেশনে স্পিকার ও উপ-স্পিকার নির্বাচন করতে হবে। সংসদ সচিবালয়ের সূত্রে জানানো হয়েছে, একটি উচ্চপদস্থ বিএনপি আইনসভা সদস্য প্রথম অধিবেশনে অধিবেশন পরিচালনা করবেন।
প্রথম বৈঠক সম্পন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে, স্পিকার ও উপ-স্পিকারের নির্বাচন হবে এবং রাষ্ট্রপতি তাদের শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠান পরিচালনা করবেন। শপথের পর, নতুন স্পিকার সংসদকে নেতৃত্ব দেবেন এবং অধিবেশন চালু হবে।
প্রথম অধিবেশনে ব্যবসায়িক পরামর্শ কমিটি গঠন করা হবে, যার প্রধান হিসেবে নতুন স্পিকার নিযুক্ত হবেন। এই কমিটি অধিবেশনের মেয়াদ নির্ধারণ এবং সংসদের অন্যান্য কার্যক্রমের পরিকল্পনা করবে।
প্রথম অধিবেশনের মূল কাজের মধ্যে থাকবে ট্রেজারি বেঞ্চের প্রস্তাবিত অর্ডিন্যান্সগুলোকে আইনসভার সামনে উপস্থাপন করা। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ১৮ মাসের শাসনকালে মোট ১৩০টি অর্ডিন্যান্স জারি বা সংশোধন করেছে, যা এখন সংসদে আলোচনা ও অনুমোদনের অপেক্ষায়।
বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের জন্য স্থায়ী কমিটি গঠনও এই অধিবেশনের সময়সূচিতে রয়েছে, যাতে নীতি নির্ধারণ ও তদারকি কার্যকরভাবে চালানো যায়।
সংবিধান অনুসারে, রাষ্ট্রপতি প্রথম অধিবেশনে একটি ভাষণ দেবেন, যা ক্যাবিনেটের অনুমোদন পাবে এবং সংসদ সদস্যদের আলোচনার বিষয় হবে। এই ভাষণে সরকারী দৃষ্টিভঙ্গি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হবে।
প্রথম অধিবেশনে একটি শোক প্রস্তাবনা গ্রহণের প্রস্তাবও থাকবে, যা জাতীয় শোকের প্রকাশ হিসেবে সংসদে গৃহীত হবে।
এই সংসদ গঠন করা হয়েছে ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতে, যেখানে বিএনপি-নেতৃত্বাধীন জোট ২১২টি আসন জয় করেছে, আর জামায়াত-এ-ইসলামি-নেতৃত্বাধীন জোট ৭৬টি আসন অর্জন করেছে।
নতুন সংসদের দ্রুত গঠন ও কার্যক্রম শুরু হওয়া দেশের আইনগত কাঠামোকে স্থিতিশীল করবে এবং নির্বাচনের ফলাফলকে বাস্তবে রূপান্তরিত করার প্রথম পদক্ষেপ হবে। ভবিষ্যতে অর্ডিন্যান্সের আইনায়ন, কমিটি গঠন এবং সরকার-বিপক্ষের পারস্পরিক সমন্বয় দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে প্রভাবিত করবে।



