১৭ জানুয়ারি মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাতটার পরে যশোরের একটি তিনতলা ভবনের ছাদের সামনের দেয়ালে শেখ মুজিব ও শেখ হাসিনার ব্যানার দৃশ্যমান হয়। ব্যানারটি কোথা থেকে, কীভাবে এবং কখন টানা হয়েছে তা এখনও নিশ্চিত করা যায়নি।
স্থানীয় এক দোকানদার জানান, ঐ ভবনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় পূর্বে আওয়ামী লীগ কার্যালয় অবস্থিত ছিল। ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতা গণঅভ্যুত্থানের সময় ভিড়ের আক্রমণে কার্যালয়ে আগুন লাগায় এবং পরবর্তীতে ভাঙচুর ও লুটপাটের শিকার হয়। সেই ঘটনার পর থেকে ভবনটি ব্যবহারহীন অবস্থায় রয়েছে।
বিপর্যয় ঘটার পর ভবনের প্রবেশপথ ইট দিয়ে বন্ধ করা হয়। আশেপাশের প্রতিবেশী ভবনের কার্নিশ ব্যবহার করে কেউ ছাদে উঠে ব্যানারটি ঝুলিয়ে থাকতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে, তবে তা নিশ্চিত করা যায়নি।
যশোর কোতয়ালী মডেল থানার উপপরিদর্শক সাইফুল ইসলাম এবং কসবা পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক অহিদুজ্জামান জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ব্যানারটি অপসারণ করে কসবা পুলিশ ফাঁড়িতে সংরক্ষণ করা হয়েছে।
অন্যদিকে কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফারুক আহমেদ উল্লেখ করেন, তিনি ব্যানার সংক্রান্ত কোনো তথ্য জানেন না এবং কোনো পুলিশ সদস্যই তা সরিয়ে নেনি বলে দাবি করেন।
ব্যানারটি পুনরায় দেখা যাওয়া স্থানীয় রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ভবনের অবহেলিত অবস্থার পরেও এমন প্রতীকী চিহ্নের উপস্থিতি পার্টির উপস্থিতি পুনর্ব্যক্ত করার ইঙ্গিত হিসেবে ব্যাখ্যা করা হতে পারে।
অধিকাংশ বিশ্লেষক বিশ্বাস করেন, ব্যানারটি সরিয়ে লকআপে রাখা হলে ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা রোধে নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্তের তথ্য প্রকাশিত হয়নি।
বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মধ্যে পারস্পরিক মতবিরোধ দেখা দিচ্ছে, যা পরবর্তী সময়ে কীভাবে সমাধান হবে তা এখনও অনিশ্চিত।



