প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং মন্ত্রিসভার সদস্যরা আজ বেলা ১১টায় সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধের শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবে এবং পুষ্পস্তবক অর্পণ করবে। শপথের পর প্রথম কার্যদিবসে সরকারী দায়িত্বের সূচনা হিসেবে এই অনুষ্ঠান নির্ধারিত হয়েছে।
শপথ গ্রহণের পর নতুন সরকার দ্রুত কর্মসূচি শুরু করেছে; আজকের ভ্রমণটি শহিদদের সম্মানসূচক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে পরিকল্পিত। স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের পাশাপাশি, প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিসৌধেও পুষ্পস্তবক অর্পণ করবে। এই দুইজনের সমাধি সাভারের নিকটবর্তী এলাকায় অবস্থিত, যা জাতীয় ঐতিহাসিক স্মৃতিচিহ্নের সঙ্গে সংযুক্ত।
পুষ্পস্তবক অর্পণের পর দলটি সরাসরি সচিবালয়ে যাবে, যেখানে মধ্যাহ্নভোজের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভোজের পর মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে, যা শপথের পর প্রথমবারের মতো সরকারী নীতি ও কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণের উদ্দেশ্যে। বৈঠকের সময় নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অগ্রগতি ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করবেন।
বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী সচিবদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করবেন, যাতে প্রশাসনিক দিক থেকে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ সম্ভব হয়। এই সাক্ষাৎকারে সরকারী কর্মসূচির বাস্তবায়ন পরিকল্পনা ও ত্বরান্বিত করার উপায় নিয়ে আলোচনা হবে বলে জানা গেছে। এভাবে নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম দিনেই নীতি নির্ধারণ ও প্রশাসনিক সমন্বয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
গত মঙ্গলবার ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর, নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছ থেকে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় শপথ গ্রহণ করেন। শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠানটি দেশের সর্বোচ্চ আইনসভা ভবনের সামনে অনুষ্ঠিত হয় এবং এতে নতুন সরকারের বৈধতা ও দায়িত্বের সূচনা চিহ্নিত হয়।
বিএনপি ও অন্যান্য বিরোধী গোষ্ঠীর কিছু বিশ্লেষক উল্লেখ করেছেন যে, শপথের পরপরই সরকার জাতীয় স্মৃতিসৌধে গিয়ে শহিদদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে জনমতকে একত্রিত করার চেষ্টা করছে। তারা এটিকে সরকারী শোভা ও জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন, যদিও কিছু সমালোচক এটিকে রাজনৈতিক মঞ্চের অংশ হিসেবে দেখছেন।
এই অনুষ্ঠান ও প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক নতুন সরকারের কার্যক্রমের দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। শহিদদের প্রতি সম্মানসূচক কার্যক্রমের সঙ্গে সঙ্গে নীতি নির্ধারণের দ্রুততা ভবিষ্যতে সরকারের কর্মদক্ষতা ও জনসেবা উন্নয়নে প্রভাব ফেলবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।



