বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্যায়ে পাকিস্তান ক্রিকেট দল এখন পর্যন্ত কোনো পয়েন্ট সংগ্রহ করতে পারেনি। শেষ ম্যাচে নামিবিয়ার মুখোমুখি হতে গিয়ে দলকে জিততে হবে, না হলে টুর্নামেন্টের পরবর্তী রাউন্ডে প্রবেশের সম্ভাবনা শেষ হয়ে যাবে।
পাকিস্তান ক্রিকেট দল ১৯৯২ সালের বিশ্বকাপের ‘আহত বাঘ’ রূপকটি পুনরায় ব্যবহার করে এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে আত্মবিশ্বাস জোগাতে চায়। ক্যাপ্টেন ইমরান খান দলের অবস্থানকে ‘আহত বাঘ’ বলে বর্ণনা করে, এবং বলছেন যে দলটি আবার দাঁড়িয়ে লড়াই জিততে পারবে।
গ্রুপ‑এ পাকিস্তান ক্রিকেট দল দুইটি ম্যাচে জয় পেয়েছে, তবে উভয়ই পারফরম্যান্সে ত্রুটিপূর্ণ ছিল। প্রথম ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে তারা মাত্র তিনটি বল বাকি রেখে তিনটি উইকেটের পার্থক্যে জয়লাভ করে। দ্বিতীয় ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ৩২ রানের পার্থক্যে জয় পায়; ঐ ম্যাচে সাহিবজাদা ফারহান এককোটি অর্ধশতক রান তৈরি করেন এবং স্পিনার উস সর্বোচ্চ উইকেট নেন।
তবে এই দুই জয় সত্ত্বেও ব্যাটিং ও বোলিং উভয়ই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারেনি পাকিস্তান ক্রিকেট দল। পূর্বে ব্যাটিং হিরো বাবর আজম এবং ভয়ঙ্কর ফাস্ট বোলার শাহিন শাহ আফ্রিদি এখনো ‘ধূসর’ তারকা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, এবং দলের সামগ্রিক ছন্দ হারিয়ে গেছে বলে সমর্থক ও সাবেক খেলোয়াড়রা উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।
নামিবিয়ার বিপক্ষে আজকের ম্যাচে পাকিস্তান ক্রিকেট দলকে সহজ সমীকরণে কাজ করতে হবে – জয় নিশ্চিত করে সুপার‑ইইটে অগ্রসর হওয়া। র্যাঙ্কিং দিক থেকে পাকিস্তান ক্রিকেট দলকে নামিবিয়ার তুলনায় স্পষ্ট সুবিধা রয়েছে। টি‑২০ ব্যাটিং র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষ দশে পাকিস্তানের একজন খেলোয়াড় রয়েছে, এবং শীর্ষ ২৫-এ তিনজন নাম রয়েছে। অন্যদিকে নামিবিয়ার সর্বোচ্চ র্যাঙ্কিংধারী গেরহার্ড এরাসমাস মাত্র ৪৯তম স্থানে। বোলিং র্যাঙ্কিংয়ে পাকিস্তানের দুইজন খেলোয়াড় শীর্ষ দশে, যেখানে নামিবিয়ার সর্বোচ্চ র্যাঙ্কিংধারী বার্নার্ড শলৎজ ৭৯তম স্থানে।
এই পার্থক্য সত্ত্বেও পাকিস্তান ক্রিকেট দলকে এখনও আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি রয়েছে। প্রথম দুই ম্যাচে জয় সত্ত্বেও ব্যাটসম্যান ও বোলাররা নিজেদের সেরা ফর্মে না থাকায় সমালোচনার মুখে পড়েছে দল। বিশেষ করে ব্যাটিং লাইন‑আপের ধারাবাহিকতা ও বোলিং ইউনিটের আক্রমণাত্মকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
আজকের ম্যাচের আগে কোচিং স্টাফ দলকে বলেছে যে, নামিবিয়ার বিপক্ষে জয় পেতে হলে ব্যাটিং পার্টনারশিপকে শক্তিশালী করতে হবে এবং স্পিনারদের অতিরিক্ত চাপ দিতে হবে। এছাড়া ফিল্ডিংয়ের তীক্ষ্ণতা বাড়িয়ে প্রতিপক্ষের স্কোরকে সীমাবদ্ধ করা গুরুত্বপূর্ণ।
নামিবিয়া দলও সহজে হাল ছাড়বে না। তাদের সর্বোচ্চ র্যাঙ্কিংধারী গেরহার্ড এরাসমাস এবং বার্নার্ড শলৎজের পারফরম্যান্সে নির্ভরশীল। তবে র্যাঙ্কিংয়ে পিছিয়ে থাকা সত্ত্বেও তারা ঘরোয়া শর্তে ভাল পারফরম্যান্স দেখাতে পারে।
পাকিস্তান ক্রিকেট দলকে এই ম্যাচে জয় নিশ্চিত করতে হবে, না হলে টুর্নামেন্টের পরবর্তী রাউন্ডে প্রবেশের স্বপ্ন ভেঙে যাবে। জয় নিশ্চিত হলে দল সুপার‑ইইটে অগ্রসর হয়ে শীর্ষ আট দলে স্থান পাবে, যা টুর্নামেন্টের শেষ পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা চালিয়ে যাওয়ার একমাত্র পথ।
ম্যাচের সময়সূচি অনুযায়ী, পাকিস্তান ক্রিকেট দল নামিবিয়ার সঙ্গে সন্ধ্যা ৭টায় মুখোমুখি হবে। ম্যাচের ফলাফল সরাসরি সুপার‑ইইটের সীটের সংখ্যা নির্ধারণ করবে, তাই উভয় দলে খেলোয়াড়দের মনোযোগ ও প্রচেষ্টা সর্বোচ্চ স্তরে থাকবে।



