১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে রাজধানীর প্রথম আলোর পেড়া ভবনে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। স্থানীয় পুলিশ জানায়, অপরাধী গোষ্ঠীর আক্রমণের ফলে ভবনের এক তলা জ্বলে গিয়ে একজন কর্মচারী প্রাণ হারিয়েছেন এবং বহু কর্মী আহত হয়েছেন।
আগ্নিকাণ্ডের সময় ভবনটি পূর্ণ কর্মচক্রে ছিল। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, ফলে পুরো কাঠামো ধূসর ধোঁয়ায় ঢাকা হয়ে যায় এবং অল্প সময়ের মধ্যে সবকিছু কালো হয়ে যায়। অগ্নি নির্বাপণ দলকে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে প্রায় এক ঘন্টার বেশি সময় লেগেছে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, আক্রমণকারীরা ভবনের প্রবেশদ্বার ভেঙে প্রবেশ করে, সুনির্দিষ্টভাবে অগ্নিকাণ্ড ঘটানোর জন্য জ্বালানি ব্যবহার করেছে। নিরাপত্তা ক্যামেরা থেকে প্রাপ্ত চিত্রে কয়েকজন সন্দেহভাজনকে ধূমপায়ের গ্যাস এবং দাহ্য পদার্থ বহন করতে দেখা যায়।
অভিযুক্তদের নাম ও পরিচয় এখনও প্রকাশ করা হয়নি, তবে পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে যে তারা পূর্বে অনুরূপ অপরাধে জড়িত ছিল। তদন্তকারী দল এখনো ঘটনাস্থল থেকে প্রমাণ সংগ্রহ করছে এবং ফোরেনসিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে দাহ্য পদার্থের উৎস নির্ণয় করার চেষ্টা করছে।
অগ্নিকাণ্ডের ফলে ভবনের সম্পূর্ণ সম্পদ ধ্বংস হয়েছে। যদিও প্রতিষ্ঠানটি ব্যক্তিগত মালিকানার, তবে সেখানে কর্মরত শতাধিক কর্মীর জীবিকা নির্ভর করে, ফলে অর্থনৈতিক ক্ষতি দেশের সামগ্রিক উৎপাদনে প্রভাব ফেলবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
অধিকাংশ কর্মী ও তাদের পরিবার এখনো শোকের মধ্যে, আর সরকারকে এই ধরণের আক্রমণ থেকে সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্বে দেখা হচ্ছে। অর্থ মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে ক্ষতিপূরণ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের জন্য জরুরি আর্থিক সহায়তা প্রদান করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
আইনি দিক থেকে, পুলিশ আগুন জ্বালানোর অপরাধে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দহনের আইনের অধীনে মামলা দায়ের করেছে। এছাড়া, মানবিক ক্ষতি ও সম্পদ ধ্বংসের জন্য অপরাধমূলক দায়িত্ব আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রতিষ্ঠানের মালিকের আইনজীবী জানিয়েছেন, তারা আদালতে সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ এবং দায়িত্বশীলদের কঠোর শাস্তি চাওয়ার জন্য প্রস্তুত। একই সঙ্গে, ভবনের পুনর্নির্মাণের জন্য ত্বরিত অনুমোদন চাওয়া হচ্ছে, যাতে কর্মীদের কাজের পুনরায় শুরু করা যায়।
স্থানীয় প্রশাসনও ঘটনাস্থলকে নিরাপদে রক্ষা করার জন্য অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে। ভবনের আশেপাশের এলাকায় সাময়িকভাবে গাড়ি চলাচল সীমিত করা হয়েছে এবং নিরাপত্তা গার্ড বাড়ানো হয়েছে।
অভিযুক্তদের গ্রেফতার না হওয়া পর্যন্ত, পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রেখে তদন্ত চালিয়ে যাবে। তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে, ভবিষ্যতে অনুরূপ আক্রমণ রোধে কঠোর আইন প্রয়োগের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
এই ঘটনার পর, মিডিয়া সংস্থাগুলোও নিরাপত্তা বাড়াতে পদক্ষেপ নিচ্ছে। বিশেষ করে, সংবাদ অফিসে অগ্নি প্রতিরোধক ব্যবস্থা এবং জরুরি পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে।
সামগ্রিকভাবে, এই দুঃখজনক ঘটনা দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা প্রকাশ করেছে এবং সরকারকে জনসাধারণের সম্পদ রক্ষার জন্য ত্বরিত পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানাচ্ছে।



