21 C
Dhaka
Wednesday, February 18, 2026
Google search engine
Homeবিনোদনঅ্যানিমেটর জেন বেয়ার, 'স্লিপিং বিউটি' ও 'হু ফ্রেমড রজার র‍্যাবিট' এ কাজ,...

অ্যানিমেটর জেন বেয়ার, ‘স্লিপিং বিউটি’ ও ‘হু ফ্রেমড রজার র‍্যাবিট’ এ কাজ, ৯১-এ পরলোক গমন

অ্যানিমেটর জেন বেয়ার, যিনি ‘স্লিপিং বিউটি’ এবং ‘হু ফ্রেমড রজার র‍্যাবিট’ সহ বহু ক্লাসিক চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন, ৯১ বছর বয়সে পরলোক গমন করেছেন। তার মৃত্যু সোমবার রাতে ঘুমের মধ্যে ঘটেছে এবং ভ্যান নুইস, ক্যালিফোর্নিয়ার তার বাড়িতে ঘটেছে।

ডিসনি অ্যানিমেশন বিভাগের মুখপাত্র জানিয়েছেন যে বেয়ার দীর্ঘ সময়ের শিল্পী জীবনের শেষ অধ্যায়ে শান্তভাবে বিশ্রাম নিয়েছেন। তার মৃত্যুর খবর প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে শিল্প জগতে শোকের স্রোত বয়ে গেছে।

বেয়ার ১৯৫৫ সালে অ্যানিমেশন ক্ষেত্রে প্রথম পদক্ষেপ নেন, যখন তিনি ‘স্লিপিং বিউটি’ (১৯৫৯) ছবির সহকারী অ্যানিমেটর হিসেবে কাজ শুরু করেন। এই সময়ে তিনি ডিজনির কিংবদন্তি ‘নাইন ওল্ড মেন’ দলের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পান, যা তার পেশাগত ভিত্তি মজবুত করে।

১৯৫৭ সালে তিনি অ্যানিমেটর ইওয়া তাকামতোকে বিয়ে করেন, তবে দুই বছর পরই বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। এই সংক্ষিপ্ত বিবাহের সময়কালে তিনি শিল্পের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জন করেন, যা পরবর্তী বছরগুলোতে তার সৃজনশীল দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে সহায়তা করে।

১৯৬০-এর দশকে বেয়ার বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন এবং টেলিভিশন অ্যানিমেটেড সিরিজে কাজ করেন, পাশাপাশি ইউরোপে স্বল্প সময়ের জন্য বসবাস করেন। এই অভিজ্ঞতা তাকে আন্তর্জাতিক মানের কাজের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয় এবং তার পোর্টফোলিওতে বৈচিত্র্য যোগ করে।

১৯৮৪ সালে তিনি এবং দ্বিতীয় স্বামী ডেল বেয়ার মিলিত হয়ে বেয়ার অ্যানিমেশন প্রতিষ্ঠা করেন। এই স্টুডিওটি ‘হু ফ্রেমড রজার র‍্যাবিট’ (১৯৮৮) ছবির টুন্টাউন দৃশ্য এবং বেনি দ্য ক্যাব চরিত্রের অ্যানিমেশন তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব পায়। এই প্রকল্পটি অ্যানিমেশন ইতিহাসে একটি মাইলফলক হিসেবে স্বীকৃত, এবং বেয়ার এর সৃজনশীল নেতৃত্বকে প্রশংসা করা হয়।

বেয়ার অ্যানিমেশন দ্রুতই যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি স্বতন্ত্র অ্যানিমেশন সুবিধার মধ্যে একটি হয়ে ওঠে। স্টুডিওটি ডিজিটাল ইঙ্ক ও পেইন্ট, কম্পোজিটিং, রেকর্ডিং এবং ভিজ্যুয়াল ইফেক্টসহ অ্যানিমেশন উৎপাদনের সব ধাপ নিজে পরিচালনা করতে সক্ষম হয়। প্রকল্পের চাহিদা অনুযায়ী ৫০ থেকে ১০০ের বেশি শিল্পী ও কর্মী নিয়ে এই প্রতিষ্ঠান কাজ চালিয়ে যায়।

স্টুডিওর ক্যামেরা সার্ভিস বিভাগও উল্লেখযোগ্য কাজের তালিকায় যুক্ত। এতে ডিজনির ‘দ্য লিটল মারমেড’ (১৯৮৯) এবং ‘দ্য প্রিন্স অ্যান্ড দ্য পাউপার’ (১৯৯০) সহ ‘রোভার ড্যাঞ্জারফিল্ড’ (১৯১), ‘ফার্নগুলি: দ্য লাস্ট রেইনফরেস্ট’ (১৯২) এবং ‘দ্য সুয়ান প্রিন্সেস’ (১৯৪) এর গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্য রেকর্ড করা হয়। এছাড়া ওয়ার্নার ব্রাদার্স অ্যানিমেশন এবং হ্যানা-বারবারার বিভিন্ন প্রকল্পেও স্টুডিওটি অংশগ্রহণ করে।

১৯৯০-এর দশকের শুরুর দিকে ডেল বেয়ার স্টুডিও ছেড়ে যাওয়ার পর জেন বেয়ার একা কোম্পানির পরিচালনা চালিয়ে যান। তিনি ২০০০-এর শুরুর দিকে অবসর গ্রহণ না করা পর্যন্ত বেয়ার অ্যানিমেশনকে শিল্পের শীর্ষে বজায় রাখেন। তার নেতৃত্বে স্টুডিওটি স্বতন্ত্র সৃজনশীলতা এবং প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের মিশ্রণ বজায় রাখে।

জেন মেরিন শাটাক জন্মগ্রহণ করেন ৩০ অক্টোবর ১৯৩৪ সালে কানাডার উইনিপেগ, ম্যানিটোবা-তে। তিনি প্যাসাডেনার আর্ট সেন্টারে প্রশিক্ষণ গ্রহণের পর অ্যানিমেশন জগতে প্রবেশ করেন। তার ক্যারিয়ার শুরু থেকেই তিনি শিল্পের বিভিন্ন স্তরে কাজ করে, যা তাকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এনে দেয়।

বেয়ারের অবদান অ্যানিমেশন শিল্পে বহু দিক থেকে প্রশংসিত। তিনি পুরুষ-প্রধান শিল্পে নারীর উপস্থিতি শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং স্বতন্ত্র স্টুডিও পরিচালনার মাধ্যমে স্বাধীন সৃজনশীলতা বজায় রাখার মডেল স্থাপন করেন। তার কাজের মাধ্যমে আজকের অনেক তরুণ অ্যানিমেটর প্রেরণা পায়।

জেন বেয়ারের মৃত্যু অ্যানিমেশন জগতে একটি বড় ক্ষতি, তবে তার সৃষ্টিকর্ম এবং শিল্পের প্রতি অবদান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে রয়ে যাবে। তার স্মৃতি এবং কাজের মূল্যায়ন শিল্পের ইতিহাসে চিরস্থায়ীভাবে সংরক্ষিত থাকবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Hollywood Reporter – Movies
বিনোদন প্রতিবেদক
বিনোদন প্রতিবেদক
AI-powered বিনোদন content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments