রুমিন ফারহানা, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়ে ১৭ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ ভবনে শপথ গ্রহণ করেন। তিনি শপথের পর সরাসরি প্রশ্নের উত্তর দিয়ে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা স্পষ্ট করেন।
শপথ অনুষ্ঠানে তিনি উল্লেখ করেন যে, তিনি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি, যদিও সংসদ সদস্যের দায়িত্ব পালন করবেন। তার ভাষণটি জাতীয় সংসদ ভবনের প্রধান হলের মঞ্চে সরাসরি শোনানো হয়।
ফারহানা তার নির্বাচনী এলাকা, সরাইল-আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের কিছু অংশকে দেশের সবচেয়ে অবহেলিত অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করেন। তিনি বলেন, এই এলাকায় অবকাঠামো, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা সেবার অভাব দীর্ঘদিনের সমস্যা এবং তিনি এই ঘাটতিগুলো দূর করতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা করবেন।
তিনি বিশেষভাবে প্রান্তিক ও পিছিয়ে পড়া জনগণের জীবনমান উন্নয়নে মনোযোগ দেবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন। তার মতে, স্বতন্ত্র প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করা কঠিন হলেও, জনগণের স্বার্থে কাজ করা তার প্রধান লক্ষ্য।
বিএনপিতে ফিরে যাওয়ার প্রশ্নে তিনি স্পষ্ট করে জানান, নির্বাচনের পর পর্যন্ত বিএনপি থেকে কোনো যোগাযোগ হয়নি এবং বর্তমান মুহূর্তে তিনি দলের সঙ্গে পুনরায় যুক্ত হওয়ার কোনো পরিকল্পনা করছেন না। এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।
একই সময়ে তিনি নিজের জন্মস্থান ও পরিচয় নিয়ে মন্তব্য করেন, জানিয়ে দেন যে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাসিন্দা এবং ভবিষ্যতেও সেখানে থাকবেন। তিনি বলেন, তিনি একসময় কোনো দলের সমর্থক ছিলেন, তবে মতবিরোধের কারণে স্বতন্ত্র পথে এগিয়ে গেছেন।
স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তার নির্বাচনী লড়াইকে তিনি সবচেয়ে কঠিন পর্যায় হিসেবে বর্ণনা করেন। দলীয় জোয়ার-ঝোড়ের বিপরীতে দাঁড়িয়ে ভোট সংগ্রহ করা স্বাভাবিকভাবে চ্যালেঞ্জপূর্ণ, তদুপরি তাকে বিভিন্নভাবে হারের জন্য চাপের মুখে রাখতে চেষ্টা করা হয়েছে।
এই অভিজ্ঞতা থেকে তিনি ব্যক্তিগত ইমেজ ও দলের ইমেজের তুলনায় নিজের স্বতন্ত্রতা বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন। স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচিত হওয়া তার জন্য একটি নতুন দায়িত্বের সূচনা, যা তিনি জনগণের সেবা হিসেবে গ্রহণ করেছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, রুমিন ফারহানার স্বতন্ত্র অবস্থান ভবিষ্যতে পার্টি-ভিত্তিক রাজনীতিতে একটি বিকল্প মডেল হিসেবে কাজ করতে পারে। তার কার্যকরী পরিকল্পনা ও জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের পদ্ধতি অন্যান্য স্বতন্ত্র প্রতিনিধিদের জন্য উদাহরণ হতে পারে।
অবশেষে, রুমিন ফারহানা সংসদে তার প্রথম সেশনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং নির্বাচনী এলাকায় অবহেলিত সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য আইনসভার বিভিন্ন কমিটিতে অংশগ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তার কর্মকাণ্ডের ফলাফল কীভাবে দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই বলবে।



