বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার শীঘ্রই দেশের শীর্ষ আইনশৃঙ্খলা সংস্থার নেতৃত্বে পরিবর্তন আনবে বলে জানা গেছে। আইজিপি ও ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার পদে নতুন নামের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশাসনিক অন্দরে তীব্র আলোচনা চলছে।
আইজিপি পদে কয়েকজন অভিজ্ঞ কর্মকর্তার নাম ঘুরে বেড়াচ্ছে। হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি দেলোয়ার হোসেন মিঞা, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অতিরিক্ত আইজিপি আলী হোসেন ফকির, সিআইডি প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. ছিবগাত উল্লাহ এবং র্যাবের মহাপরিচালক এ কে এম শহিদুর রহমানকে প্রধান প্রার্থীরূপে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ কে এম শহিদুর রহমানের ক্ষেত্রে বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার তাকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়ে র্যাবের নেতৃত্বে নিয়োগ দেয়। তার চুক্তি ১৫ মার্চ শেষ হতে যাচ্ছে, ফলে তাকে আইজিপির সর্বোচ্চ পদে উন্নীত করার সম্ভাবনা উন্মুক্ত হয়েছে।
বর্তমান আইজিপি বাহারুল আলমের চুক্তি ২০ নভেম্বর ২০২৪ তারিখে দুই বছরের জন্য প্রদান করা হয়েছিল। তার মেয়াদে এখনো প্রায় নয় মাস বাকি থাকায় প্রশাসনের মধ্যে তাকে তৎক্ষণাৎ বদল করা হবে নাকি চুক্তির শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করা হবে, এ নিয়ে বিতর্ক চলছে।
ডিএমপি কমিশনার পদেও নতুন নামের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। যদিও নির্দিষ্ট প্রার্থীর নাম প্রকাশিত হয়নি, তবে অভিজ্ঞতা ও মাঠপর্যায়ের দক্ষতা ভিত্তিক প্রার্থীদের তালিকায় অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা হয়েছে।
অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মধ্যেও কয়েকজনের নাম আলোচনায় রয়েছে। সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি মতিউর রহমান শেখ এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার সমন্বয়ক আনসার উদ্দিন খান পাঠানকে সম্ভাব্য প্রার্থীরূপে বিবেচনা করা হচ্ছে। তাদের পূর্বের দায়িত্ব পালন ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের অভিজ্ঞতা নতুন সরকারের জন্য মূল্যবান হতে পারে।
প্রশাসনিক মহলে উল্লেখ করা হয়েছে যে প্রার্থীদের নির্বাচন তিনটি মূল মানদণ্ডের ওপর ভিত্তি করে হবে: পেশাগত দক্ষতা, মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা এবং সরকারের প্রতি আস্থা। এই মানদণ্ডগুলো পূরণকারী কর্মকর্তাদেরই শীর্ষ পদে নিয়োগের সম্ভাবনা বেশি।
বিএনপি সরকারের নীতিগত অগ্রাধিকার, মাঠপর্যায়ের নিয়ন্ত্রণ এবং রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন নেতৃত্ব গড়ে তোলার ইচ্ছা স্পষ্ট। তাই শীর্ষ পুলিশ পদে এমন প্রার্থী বাছাই করা হবে, যারা সরকারী দৃষ্টিভঙ্গি ও নিরাপত্তা নীতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।
পরবর্তী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সরকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময়সীমা নির্ধারিত হয়েছে। যদি এ কে এম শহিদুর রহমানের চুক্তি শেষের আগে পদোন্নতি হয়, তবে র্যাবের কার্যক্রমে নতুন গতিবিধি দেখা যাবে। অন্যদিকে, আইজিপি পদে পরিবর্তন হলে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নতুন দিকনির্দেশনা গৃহীত হতে পারে।
শীঘ্রই সরকার আইজিপি ও ডিএমপি কমিশনারের নতুন নাম প্রকাশ করবে, যা দেশের নিরাপত্তা কাঠামোতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। এই পরিবর্তনগুলো কীভাবে বাস্তবায়িত হবে এবং আইনশৃঙ্খলা সংস্থার কার্যকারিতা কীভাবে প্রভাবিত হবে, তা দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশে নজর রাখবে।



