বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী পদে শপথ গ্রহণ করেন। শপথ গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে তিনি দেশের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
প্রায় দুই দশক পর তিনি আবার সংসদ চত্বরে ফিরে আসেন। পূর্বে তিনি সাতবার জাতীয় সংসদে নির্বাচিত হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছেন এবং তার দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রা এখন তৃতীয়বার মন্ত্রিপদে পৌঁছেছে।
শপথের পর তিনি উল্লেখ করেন, দেশের আইন শৃঙ্খলা, অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবন এবং চোরাচালানকারী মাফিয়াদের বিদেশে পাঠানো সম্পদের প্রত্যাবর্তন এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ। এছাড়া গণতন্ত্রকে দৃঢ়ভাবে বাংলাদেশের মাটিতে প্রতিষ্ঠা করা তার অগ্রাধিকার তালিকায় শীর্ষে রয়েছে।
তিনি তার নির্বাচনী এলাকা থেকে প্রাপ্ত সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন, বলেন যে তার এলাকাবাসীরা তাকে সাতবার জাতীয় সংসদে পাঠিয়েছেন, যদিও তিনি নিজে তেমন কোনো গুণের দাবি করেন না। এই সমর্থনকে কাজে লাগিয়ে তিনি এলাকার সমস্যাগুলো সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেন।
স্বাধীনতার প্রশ্নে তিনি দৃঢ় অবস্থান প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশকে এমন একটি স্বাধীন, সার্বভৌম দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে যেখানে কোনো বিদেশি প্রভু না থাকে, তবে আন্তর্জাতিক বন্ধুত্ব বজায় থাকবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “বাইরের পৃথিবীতে আমাদের বন্ধু থাকবে কিন্তু কোনো প্রভু থাকবে না”।
হাফিজ উদ্দিন আহমদ আরও উল্লেখ করেন, দেশের নাগরিকদের মাথা উঁচু করে চলার সুযোগ দিতে হবে, ভয়ের ছায়া থেকে মুক্তি পেতে হবে এবং গডফাদার বা গুমখুনের মতো অপরাধমূলক কার্যকলাপের কোনো জায়গা না থাকা উচিত। তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সম্প্রীতির পরিবেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
মন্ত্রিপদে আসার আগে তিনি দুবার বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন এবং পাট ও পানিসম্পদ মন্ত্রীর পদে কাজ করেছেন। এই অভিজ্ঞতা তাকে দেশের অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে সহায়তা করবে বলে তিনি আশাবাদী।
হাফিজ উদ্দিন আহমদের মন্ত্রিপদে যোগদান বাংলাদেশ সরকারের বহুমুখী কাঠামোতে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি যোগ করবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। তার উপস্থিতি বিএনপি-কে সরকারের মধ্যে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে সক্ষম করবে এবং ভবিষ্যৎ নীতি নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে। সরকার ও বিরোধী দল উভয়েরই প্রত্যাশা যে তিনি তার ঘোষিত অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে হাফিজ উদ্দিন আহমদের শপথ গ্রহণ এবং তার ঘোষিত লক্ষ্যগুলো বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশে কী প্রভাব ফেলবে তা সময়ই প্রকাশ করবে।



