একটি সাম্প্রতিক জিনোমিক গবেষণায় দেখা গেছে যে কিছু সাপের দেহে ঘ্রেলিন নামে পরিচিত ‘হাংরি হরমোন’ উৎপাদনকারী জিন অনুপস্থিত। এই গবেষণা আন্তর্জাতিক স্তরের বিজ্ঞানী দল পরিচালনা করে, যেখানে ৫০টিরও বেশি সাপের প্রজাতির জিনোম বিশ্লেষণ করা হয়েছে। ফলাফল দেখায় যে পাইথন, বোয়া এবং কিছু কলুব্রিডের জিনে ঘ্রেলিনের কোডিং সিকোয়েন্স সম্পূর্ণভাবে হারিয়ে গেছে।
ঘ্রেলিন হল এমন একটি হরমোন, যা অধিকাংশ স্তন্যপায়ী ও পাখির মধ্যে ক্ষুধা উদ্দীপনা এবং শক্তি ব্যালান্স নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সাপের ক্ষেত্রে এই হরমোনের অনুপস্থিতি অস্বাভাবিক বলে মনে করা হয়, কারণ সাপের খাবার গ্রহণের পদ্ধতি এবং বিপাকীয় চাহিদা অন্যান্য প্রাণীর থেকে ভিন্ন। সাপ সাধারণত দীর্ঘ সময় ধরে উপবাস করতে পারে এবং একবারের বড় শিকার থেকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি সংগ্রহ করে।
গবেষকরা উল্লেখ করেন যে ঘ্রেলিনের অনুপস্থিতি সাপের অনন্য খাবার গ্রহণের কৌশলকে ব্যাখ্যা করতে পারে। সাপের পেটের আয়তন বড়, এবং তারা শিকারের পর দীর্ঘ সময় পর্যন্ত হজম প্রক্রিয়ায় ব্যস্ত থাকে, ফলে ঘ্রেলিনের মতো ক্ষুধা উদ্দীপক হরমোনের প্রয়োজন কমে যায়। এছাড়া, সাপের মেটাবলিক রেট কম এবং শিকারের পর শক্তি সংরক্ষণে বিশেষায়িত ব্যবস্থা রয়েছে, যা হরমোনের ভূমিকা পরিবর্তন করে দিতে পারে।
এই গবেষণায় পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিজ্ঞানীরা সাপের খাবার নিয়ন্ত্রণের বিকল্প প্রক্রিয়া অনুসন্ধান করছেন। উদাহরণস্বরূপ, সাপের মস্তিষ্কে থাকা অন্যান্য নিউরোট্রান্সমিটারের ভূমিকা, অথবা হরমোনাল সিগন্যালিং নেটওয়ার্কের পুনর্গঠন, এই সব সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। গবেষক দল ভবিষ্যতে সাপের হরমোনাল সিস্টেমের আরও গভীর বিশ্লেষণ এবং তুলনামূলক অধ্যয়ন চালিয়ে যাবে, যাতে এই অপ্রচলিত জিনের ক্ষতি কীভাবে সাপের জীববিজ্ঞানে প্রভাব ফেলেছে তা স্পষ্ট হয়।
সাপের জিনোমে ঘ্রেলিনের অনুপস্থিতি প্রমাণ করে যে বিবর্তনীয় প্রক্রিয়ায় নির্দিষ্ট হরমোনের প্রয়োজনীয়তা সব প্রাণীর জন্য সমান নয়। এই ফলাফল সাপের শারীরবিজ্ঞান এবং আচরণগত বৈশিষ্ট্যকে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে বুঝতে সহায়তা করবে। বিজ্ঞানীরা আশা করেন যে ভবিষ্যতে এই গবেষণা সাপের রোগ নির্ণয়, সংরক্ষণ এবং এমনকি মানবের ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণের গবেষণায় নতুন ধারণা যোগাবে।
পাঠকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ যে, সাপের খাবার গ্রহণের পদ্ধতি ও হরমোনাল নিয়ন্ত্রণের পার্থক্য নিয়ে অতিরিক্ত উদ্বেগের দরকার নেই; সাপ প্রাকৃতিক পরিবেশে তাদের নিজস্ব অভিযোজনের মাধ্যমে সুস্থভাবে বেঁচে থাকে। তবে এই গবেষণার ফলাফল আমাদেরকে প্রাণীর জিনোমিক বৈচিত্র্য এবং তার কার্যকরী প্রভাব সম্পর্কে আরও সচেতন করে তুলবে। আপনি কি কখনও ভাবেছেন, সাপের মতো প্রাণীর মধ্যে হরমোনের ভূমিকা কতটা ভিন্ন হতে পারে? ভবিষ্যতে আরও গবেষণা এই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে।



