দক্ষিণ আফ্রিকার প্রিটোরিয়ায় ২০২৬ সালের জুনে মৃত্যুবরণ করা সাবেক জাম্বিয়া রাষ্ট্রপতি এডগার লুংগুর দেহের বিষক্রিয়া সন্দেহ নিয়ে পরিবার আজ এক চিঠির মাধ্যমে অভিযোগকে অস্বীকার করেছে। পরিবার আইনজীবীদের মাধ্যমে দক্ষিণ আফ্রিকান পুলিশকে জানিয়েছে যে দেহের হেফাজত চাওয়া হলেও তারা এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করছে।
লুংগু পরিবারের আইনজীবী দল দক্ষিণ আফ্রিকান পুলিশকে একটি চিঠি প্রেরণ করেছে, যেখানে তারা উল্লেখ করেছে যে পরিবার ‘ফৌজদারি কার্যক্রমে’ সহযোগিতা করছে, তবে বিষক্রিয়া সংক্রান্ত অভিযোগকে ‘অবিশ্বাস্য ও প্রমাণহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। চিঠিটি ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে জোহানেসবার্গের মাসেলি অ্যাটর্নিস থেকে পাঠানো হয়েছে।
দক্ষিণ আফ্রিকান পুলিশ লুংগুর দেহের হেফাজত চাওয়ার বিষয়টি জানিয়ে এখনও কোনো মন্তব্য করেনি। পুলিশ মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার অথলেন্ডা মাথে জানিয়েছেন, “এটি একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়, যা এখনো আলোচনা করা সম্ভব নয়।” এ ধরনের মন্তব্যের পরেও দেহটি বর্তমানে দক্ষিণ আফ্রিকার একটি মরগে সংরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে।
লুংগু ৬৮ বছর বয়সে প্রিটোরিয়ার একটি ক্লিনিকে অজানা রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তিনি ২০১৫ থেকে ২০২১ পর্যন্ত জাম্বিয়ার রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং ২০২১ সালের নির্বাচনে বর্তমান রাষ্ট্রপতি হাকাইন্দে হিচিলেমার কাছে বড় পার্থক্যে পরাজিত হন। তার মৃত্যুর কারণ সরকারিভাবে প্রকাশ করা হয়নি, তবে রোগটি গোপন রাখা হয়েছে।
মৃত্যুর পর জাম্বিয়া সরকার লুংগুর দেহকে দেশে ফেরত এনে রাষ্ট্রীয় শোক ও পূর্ণ সরকারি সম্মানে সমাহিত করার দাবি জানায়। আগস্ট মাসে দক্ষিণ আফ্রিকান আদালত সরকারী দাবিকে সমর্থন করে, ফলে দেহের পুনর্বাসন ও রাষ্ট্রীয় সমাহারের অনুমোদন দেয়া হয়।
অন্যদিকে, লুংগুর পরিবার দেহের গোপনীয় সমাহারকে পছন্দ করে এবং দক্ষিণ আফ্রিকায় ব্যক্তিগতভাবে দাফন করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। পরিবার উল্লেখ করেছে যে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি হিচিলেমা তার সমাহারে অংশগ্রহণ করতে চান না, এবং দুই নেতার মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা এই সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করেছে।
দেহের স্থানান্তর ও সমাহার নিয়ে জাম্বিয়া সরকার ও লুংগু পরিবারের মধ্যে চলমান আইনি লড়াই এখনো সমাধান হয়নি। পরিবার ও সরকারের মধ্যে দেহের হেফাজত, সমাহারের পদ্ধতি এবং আন্তর্জাতিক শোকের মাত্রা নিয়ে মতবিরোধ অব্যাহত রয়েছে।
মাসেলি অ্যাটর্নিসের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে তারা পাঁচটি সমন আদালতের আদেশ মেনে চলেছে এবং ফৌজদারি তদন্তের অংশ হিসেবে জারি করা সাবপিকোয়েনা গুলো পূরণ করেছে। একই সঙ্গে, তারা স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে ক্লায়েন্টদের নির্দেশনা অনুযায়ী বিষক্রিয়া সংক্রান্ত অভিযোগকে সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করা হয়েছে। ভবিষ্যতে দেহের পুনর্বাসন, সমাহার পদ্ধতি এবং জাম্বিয়া-দক্ষিণ আফ্রিকা সম্পর্কের ওপর এই বিরোধের প্রভাব কী হবে তা এখনও অনিশ্চিত।



