মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সন্ধ্যায় জিম্বাবুয়ের পুরুষ টি২০ বিশ্বকাপ দল আনুষ্ঠানিকভাবে সুপার ইটস পর্যায়ে প্রবেশের নিশ্চিততা পায়। অস্ট্রেলিয়া ও শ্রীলঙ্কা সহ কঠিন গ্রুপে প্রত্যাশা ছিল তারা কেবল অংশগ্রহণকারী থাকবে, তবে দলটি দৃঢ় পারফরম্যান্সে এই লক্ষ্য অতিক্রম করে পরবর্তী রাউন্ডে স্থান পায়।
গ্রুপের শেষ ম্যাচের পর জিম্বাবুয়ের ড্রেসিং রুমে আনন্দের ঢেউ দেখা যায়। খেলোয়াড়রা বিজয়ের উল্লাসে মেতে উঠলেও ক্যাপ্টেন সিকন্দার রাজার মুখে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা স্পষ্ট। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দলটি শুধুমাত্র কোয়ালিফাই করা নয়, আরও বড় লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামেছে।
রাজার মতে, সুপার ইটসের স্থান অর্জন একটি গুরুত্বপূর্ণ চেকবক্স, তবে তা পুরো পরিকল্পনার শেষ নয়। তিনি উল্লেখ করেন, পুরো টুর্নামেন্টে দলটি একাধিক উদ্দেশ্য পূরণে মনোনিবেশ করবে এবং এখনো অনেক কিছু বাকি আছে।
দলটির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হল দেশের ক্রিকেটের প্রতি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও সম্মান বৃদ্ধি করা। রাজার কথায়, অতীতের ফলাফল যাই হোক না কেন, জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটের সৎ ও ন্যায়সঙ্গত মনোভাব এখন বিশ্বমঞ্চে প্রশংসা পাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, এই স্বীকৃতি দলকে গর্বিত করে এবং ভবিষ্যতে আরও সম্মানজনক আলোচনার সুযোগ তৈরি করবে। রাজার আশা, জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটের ইতিহাস নিজস্বভাবে লিখে, আন্তর্জাতিক আলোচনায় দেশের নামকে সম্মানজনকভাবে উপস্থাপন করা সম্ভব হবে।
এই টুর্নামেন্টে জিম্বাবুয়ের অগ্রগতি প্রায় দুই বছরের প্রস্তুতির ফল। রাজার স্মরণে আসে, যখন দলকে কেনিয়ায় সাব-রিজিওনাল কোয়ালিফায়ার বি খেলতে বলা হয়, তখন তিনি খেলোয়াড়দের বাস্তবতা স্বীকার করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, সমস্যার মূল কারণ নিজেদের মধ্যে, এবং শুধুমাত্র নিজেদের প্রচেষ্টায় তা থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব।
দলটি তখনই একটি স্পষ্ট পরিকল্পনা গঠন করে, যেখানে কঠিন ম্যাচ এবং সমালোচনা দুটোই স্বাভাবিক অংশ হিসেবে গ্রহণ করা হয়। রাজার মতে, পরিকল্পনা মেনে চলা এবং একে অপরের ওপর বিশ্বাস রাখা সাফল্যের চাবিকাঠি।
সুপার ইটসে পৌঁছানোর পর জিম্বাবুয়ের সম্ভাবনা কেবল কোয়ালিফাই করা নয়, গ্রুপের শীর্ষস্থান অর্জনেরও। বর্তমান অবস্থায় দলটি গ্রুপের শীর্ষে শেষ করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে, যা টুর্নামেন্টের পরবর্তী ধাপে বড় সুবিধা দেবে।
পরবর্তী ম্যাচে জিম্বাবুয়ে সুপার ইটসের প্রথম প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হবে, যেখানে রাজার দল আবারও তাদের পরিকল্পনা ও মনোভাব প্রয়োগ করবে। তিনি দলকে স্মরণ করিয়ে দেন, প্রতিটি গেমই নতুন চ্যালেঞ্জ এবং লক্ষ্য অর্জনের সুযোগ।
ক্যাপ্টেন রাজার নেতৃত্বে দলটি এখনো আত্মবিশ্বাসী, তবে বাস্তবিক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রেখে প্রতিটি মুহূর্তে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা দিতে প্রস্তুত। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সম্মান ও স্বীকৃতি অর্জনের পথে ধারাবাহিকতা এবং সততা অপরিহার্য।
সারসংক্ষেপে, জিম্বাবুয়ের সুপার ইটসের প্রবেশ কেবল একটি মাইলফলক নয়, বরং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দেশের অবস্থান উন্নত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। দলটি এখনো অস্ট্রেলিয়া ও শ্রীলঙ্কার মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতে চলেছে, এবং রাজার নেতৃত্বে তারা নতুন লক্ষ্য অর্জনের পথে অগ্রসর হবে।



