21 C
Dhaka
Wednesday, February 18, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধমার্কিন সামরিক বাহিনী তিনটি ড্রাগ নৌকায় আক্রমণে ১১ জনের মৃত্যু

মার্কিন সামরিক বাহিনী তিনটি ড্রাগ নৌকায় আক্রমণে ১১ জনের মৃত্যু

গত সোমবার রাতের দিকে মার্কিন সামরিক বাহিনী পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগর ও ক্যারিবিয়ানে সন্দেহভাজন মাদক পাচার নৌকাগুলোর ওপর একাধিক আক্রমণ চালায়। আক্রমণের ফলে মোট এগারোজন পুরুষ, যাদেরকে “নারকো-সন্ত্রাসী” বলা হয়, নিহত হয়। এই আক্রমণগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ কমান্ডের সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়।

প্রথম নৌকাটি পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে ছিল এবং সেখানে চারজনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। একই অঞ্চলের দ্বিতীয় নৌকাতেও চারজনের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে। ক্যারিবিয়ান সাগরে অবস্থান করা তৃতীয় নৌকায় তিনজনের মৃত্যু ঘটেছে, ফলে মোট গরুজনের সংখ্যা এগারোতে পৌঁছেছে।

ট্রাম্প প্রশাসন সেপ্টেম্বর মাস থেকে ক্যারিবিয়ান সাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরে সন্দেহভাজন ড্রাগ নৌকাগুলোর ওপর চলমান আক্রমণের সংখ্যা চল্লিশের বেশি বলে জানিয়েছে। এই আক্রমণগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের মাদক পাচার বিরোধী কৌশলগত অংশ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।

মার্কিন দক্ষিণ কমান্ডের মতে, লক্ষ্যবস্তু নৌকাগুলো পরিচিত মাদক পাচার রুটে চলাচল করছিল এবং সক্রিয়ভাবে মাদক পাচার কার্যক্রমে যুক্ত ছিল। তাই তারা আক্রমণের জন্য প্রয়োজনীয় গোয়েন্দা তথ্য পেয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

আক্রমণের সময় মার্কিন সামরিক বাহিনীর কোনো সৈনিক আহত হয়নি। অপারেশনটি রাতের শেষ ভাগে সম্পন্ন হয় এবং কোনো যুক্তরাষ্ট্রের কর্মীকে ক্ষতি হয়নি বলে জানানো হয়েছে।

সেপ্টেম্বর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ক্যারিবিয়ান ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে মাদক পাচার সন্দেহভাজন নৌকাগুলোর ওপর নিয়মিত আক্রমণ চালিয়ে আসছে। তবে জানুয়ারির শুরুর দিকে ভেনেজুয়েলা সরকারের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেফতার করার পর থেকে এই ধরনের আক্রমণের হার কিছুটা কমে এসেছে। মাদুরোকে ট্রাম্প প্রশাসন মাদক পাচার গোষ্ঠীর সঙ্গে কাজ করার অভিযোগে অভিযুক্ত করেছিল।

প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ উল্লেখ করেছেন যে, এই সামগ্রিক অভিযানটির লক্ষ্য হল আমাদের গোলার্ধ থেকে “নারকো-সন্ত্রাসী”দের অপসারণ করা এবং যুক্তরাষ্ট্রকে “মানুষের প্রাণহানি করা মাদক” থেকে রক্ষা করা। তিনি এই আক্রমণকে জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

মার্কিন সরকার এখন পর্যন্ত এমন কোনো প্রমাণ প্রকাশ করেনি যা দেখায় যে আক্রমণকৃত নৌকাগুলোতে মাদক বহন করা ছিল। তাই নৌকাগুলোর ওপর আক্রমণকে মাদক পাচার বিরোধী হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও সরাসরি মাদক সংক্রান্ত প্রমাণের অভাব রয়েছে।

কিছু আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞের মতে, এই ধরনের আক্রমণ আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হতে পারে, বিশেষ করে যদি লক্ষ্যবস্তু নৌকাগুলোতে বেসামরিক ব্যক্তি থাকে এবং তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া না নেওয়া হয়। তারা উল্লেখ করেন যে, লক্ষ্যবস্তুদেরকে “যোদ্ধা” হিসেবে বিবেচনা না করে সঠিক বিচার প্রক্রিয়া অনুসরণ করা প্রয়োজন।

ট্রাম্প প্রশাসন আক্রমণের বৈধতা বজায় রেখেছে এবং হোয়াইট হাউসের একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মাদক কার্টেলগুলোর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সামরিক সংঘাত ঘোষণা করেছেন। সেই অনুযায়ী ড্রাগ নৌকায় কাজ করা ক্রুদেরকে “যোদ্ধা” হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।

মোট ১৩০ের বেশি মানুষ এই ধারাবাহিক আক্রমণে নিহত হয়েছে বলে সরকারী সূত্র জানিয়েছে। এই সংখ্যা পূর্বে প্রকাশিত তথ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং যুক্তরাষ্ট্রের মাদক বিরোধী নীতি চালিয়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে উল্লেখযোগ্য।

গত সপ্তাহে ক্যারিবিয়ানে একটি আক্রমণ জাহাজ থেকে একটি মার্কিন মেরিন নৌসৈনিক সমুদ্রে পড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে, যা ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতির প্রথম উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে রেকর্ড হয়েছে। এই ঘটনা আক্রমণকৃত নৌকাগুলোর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নয়, তবে সামরিক কার্যক্রমের ঝুঁকি তুলে ধরেছে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments