গ্যাব্রিয়েল বাসো, ৩১ বছর বয়সী অভিনেতা, নেটফ্লিক্সের থ্রিলার ‘দ্য নাইট এজেন্ট’‑এ এফবিআই এজেন্টের ভূমিকায় দর্শকদের নজর কেড়েছেন। শোটি ২০২৩ সালে নেটফ্লিক্সে প্রকাশিত হওয়ার পর প্রথম সপ্তাহেই শীর্ষে উঠে ১৬৮.২ মিলিয়ন ঘন্টার বেশি স্ট্রিমিং রেকর্ড করেছে। এই সাফল্যের পরেও বাসো সামাজিক মিডিয়া থেকে সম্পূর্ণ দূরে সরে গেছেন।
বিনোদন জগতে দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জনকারী তার অনুসারীরা হঠাৎ করে অদৃশ্য হয়ে যায়। বাসো জানান, অ্যালগরিদমের তরঙ্গগুলো কখনো কখনো মানসিক চাপ বাড়িয়ে দেয় এবং তার জীবনে কোনো ইতিবাচক প্রভাব না রেখে যায়। তিনি বলেন, “যদি আমি কেবল স্ট্রেসের কারণ হয়ে থাকি, তবে সংযুক্ত থাকার মায়া কোনো লাভ দেয় না।”
সেই সিদ্ধান্তে তিনি সব সামাজিক প্ল্যাটফর্মে থাকা প্রোফাইল মুছে ফেলেন এবং তারপর থেকে কোনো অনলাইন উপস্থিতি বজায় রাখেন না। তার মতে, ডিজিটাল জগতে থাকা মানে কেবল কর্টিসল বাড়ানো, যা তার স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এই পদক্ষেপের ফলে তিনি নিজের সময়কে আরও সৃজনশীল কাজের দিকে ঘুরিয়ে নিতে পারছেন।
বাসো বর্তমানে দক্ষিণ ক্যারোলিনায় বসবাস করেন, যখন কাজের জন্য হলিউডে যান। তিনি সেন্ট লুইস-এ জন্মগ্রহণ করেন এবং মধ্যম পশ্চিমের স্বভাব ও উচ্চারণ বজায় রেখেছেন। চৌদ্দ বছর বয়সে পরিবার লস এঞ্জেলেসে চলে যায়, যাতে তার দুই বোনের অভিনয় স্বপ্ন পূরণ হয়।
বোনদের মধ্যে অ্যানালাইস টিএনটির ‘স্নো পাইসার’‑এ পরিচিত, আর আলেকজান্দ্রিয়া ‘অ্যালিস আপসাইড ডাউন’‑এ কাজ করেছেন। বাসোও তবু নিজের পথ তৈরি করেন। ষোলো বছর বয়সে তিনি শোটাইমের ‘দ্য বিগ সি’‑তে লরা লিন্নির পুত্রের ভূমিকায় প্রথম বড় কাজ পান। একই সময়ে জে. জে. এব্রাম্সের ‘সুপার ৮’‑এও অংশ নেন।
এই দুইটি প্রকল্প তাকে শিল্পের দরজা খুলে দেয়, যদিও তৎকালীন তার নাম এখনও ব্যাপক পরিচিতি পায়নি। পরবর্তী বছরগুলোতে তিনি ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেন, যার মধ্যে রন হাওয়ার্ডের ২০২০ সালের ‘হিলবিলি এলেজি’‑এর অভিযোজনে জেডি ভ্যান্সের ভবিষ্যৎ ভাইস প্রেসিডেন্টের ভূমিকাও রয়েছে। এই চরিত্রে কাজ করার জন্য তিনি কোনো অনুশোচনা প্রকাশ করেন না এবং এটিকে “একটি বন্য ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতা” বলে উল্লেখ করেন।
‘দ্য নাইট এজেন্ট’ শোটি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে নেটফ্লিক্সে শীর্ষে উঠে আসে এবং দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। শোটি একটি এফবিআই এজেন্টের গল্প বলে, যিনি সরকারী ষড়যন্ত্রের জালে আটকে যায়। বাসো তার চরিত্রে গভীরতা ও তীব্রতা যোগ করে, যা সমালোচকদের প্রশংসা পায়।
শোটি প্রথম সপ্তাহে ১.৬৮ কোটি ঘন্টার বেশি স্ট্রিমিং অর্জন করে, যা নেটফ্লিক্সের ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য একটি মাইলফলক। এই সাফল্য বাসোর ক্যারিয়ারে নতুন দিগন্ত উন্মুক্ত করে, যদিও তিনি সামাজিক মিডিয়ার ঝড় থেকে দূরে থাকতে চান।
বিনোদন শিল্পে তার কাজের ধারাবাহিকতা এবং উচ্চমানের পারফরম্যান্সের জন্য বাসোকে বহুবার প্রশংসা করা হয়েছে। তবে তিনি মিডিয়া ও ফ্যানদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের বদলে নিজের রুটিনে মনোযোগ দিতে চান। তার মতে, “সংযুক্ত থাকার মায়া যদি মানসিক চাপ বাড়ায়, তবে তা কোনো লাভের নয়।”
বাসোর এই সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যের গুরুত্ব এবং মানসিক শান্তি বজায় রাখার ইচ্ছা রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, সামাজিক নেটওয়ার্কের অপ্রয়োজনীয় চাপ থেকে মুক্তি পেয়ে তিনি আরও সৃজনশীল কাজের দিকে মনোযোগ দিতে পারছেন।
তার পরিবারিক পটভূমি এবং মধ্যম পশ্চিমের শিকড় তাকে সহজলভ্য ও বাস্তববাদী ব্যক্তিত্বে রূপান্তরিত করেছে। যদিও তিনি এখনো হলিউডের ব্যস্ত শুটিং শিডিউলে অংশ নেন, তার ব্যক্তিগত জীবনে তিনি শান্তি ও স্বস্তি খুঁজে পেয়েছেন।
বিনোদন জগতে তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি কোনো বিশদ প্রকাশ না করলেও, নতুন প্রকল্পে কাজ চালিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি সামাজিক মিডিয়ার ব্যবহার সীমিত রাখার নীতি বজায় রাখবেন বলে জানিয়েছেন।
গ্যাব্রিয়েল বাসোর এই পদ্ধতি আধুনিক ডিজিটাল যুগে শিল্পী ও পাবলিক ফিগারদের জন্য একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে। তার কাজ এবং ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত উভয়ই দর্শকদের জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে দাঁড়াবে।



