একটি সাম্প্রতিক জিনোম বিশ্লেষণে দেখা গেছে যে কয়েকটি সাপের প্রজাতিতে গ্য্রেলিন নামে পরিচিত ‘হাংরি হরমোন’ উৎপাদনের দায়িত্বে থাকা জিনটি অনুপস্থিত। এই ফলাফলটি ১ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত একটি বৈজ্ঞানিক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। গবেষকরা ১১২টি সরীসৃপের, যার মধ্যে সাপ, কুমির এবং চামেলন অন্তর্ভুক্ত, জিনোমিক ডেটা তুলনা করে এই পর্যবেক্ষণ করেন। ফলস্বরূপ ৩২টি সাপের প্রজাতিতে গ্য্রেলিন এবং তার সক্রিয়কারী এনজাইমের কোডিং জিন দুটোই পাওয়া যায়নি, যা এই প্রাণীদের দীর্ঘ সময় খাবার ছাড়া বেঁচে থাকার ক্ষমতার সঙ্গে কীভাবে যুক্ত তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন উত্থাপন করে।
গ্য্রেলিন হল একটি পেপটাইড হরমোন, যা সাধারণত খাবারের অভাবের সংকেত পেয়ে রক্তে মুক্তি পায় এবং ক্ষুধা উদ্দীপনা করে। গ্য্রেলিনের সক্রিয় রূপ তৈরি করতে একটি নির্দিষ্ট এনজাইমের প্রয়োজন, যা গ্য্রেলিনকে হরমোনীয়ভাবে কার্যকর করে। উভয় জিনের অনুপস্থিতি সাপের দেহে গ্য্রেলিনের উৎপাদন ও সক্রিয়করণ উভয়ই বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা নির্দেশ করে।
গবেষণাটি পাবলিক ডেটাবেস থেকে সংগৃহীত জিনোমিক সিকোয়েন্স ব্যবহার করে সম্পন্ন করা হয়। বিশ্লেষণে দেখা যায়, গ্য্রেলিন এবং তার সক্রিয়কারী এনজাইমের কোডিং জিনগুলো ৩২টি সাপের প্রজাতিতে সম্পূর্ণভাবে অনুপস্থিত। একই সঙ্গে, কিছু চামেলন এবং টোডহেড আগামা নামের লিজার্ডে এই জিনের অনুপস্থিতি রেকর্ড করা হয়েছে, যদিও এই প্রজাতিগুলো সাধারণত নিয়মিত খাবার গ্রহণ করে। বিপরীতভাবে, কুমিরের জিনোমে উভয় জিনই উপস্থিত, যদিও কুমির এক বছর পর্যন্ত খাবার ছাড়া বেঁচে থাকতে পারে, যা সাপের তুলনায় দীর্ঘতর উপবাসের ক্ষমতা নির্দেশ করে।
সাপের ক্ষেত্রে গ্য্রেলিনের অনুপস্থিতি সরাসরি ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে যুক্ত নাও হতে পারে, এই ধারণা গবেষকদের মধ্যে গৃহীত হয়েছে। মাউসের ওপর করা গবেষণায় দেখা গেছে, গ্য্রেলিনের জিন মুছে ফেলা হলে মাউসের খাবার গ্রহণের আচরণে কোনো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যায় না। তদুপরি, মাউস এবং মানুষের দেহে খাবার গ্রহণের পর গ্য্রেলিনের সক্রিয়কারী এনজাইমের মাত্রা বাড়ে, যা গ্য্রেলিনের প্রধান কাজকে শুধুমাত্র ক্ষুধা উদ্দীপনা হিসেবে ব্যাখ্যা করা কঠিন করে তোলে।
এই পর্যবেক্ষণগুলো ইঙ্গিত করে যে গ্য্রেলিনের ভূমিকা সম্ভবত ক্ষুধা ছাড়াও অন্য শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় থাকতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, গ্য্রেলিনের মেটাবলিক নিয়ন্ত্রণ, শক্তি সংরক্ষণ বা টিস্যু মেরামতে কোনো প্রভাব থাকতে পারে, যদিও এ বিষয়ে এখনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। সাপের জিনোমে গ্য্রেলিনের অনুপস্থিতি হয়তো দীর্ঘ সময় খাবার ছাড়া বেঁচে থাকার জন্য একটি অভিযোজনমূলক পরিবর্তন হতে পারে।
বৈজ্ঞানিক সম্প্রদায়ের মতে, গ্য্রেলিনের কার্যকারিতা সম্পূর্ণভাবে বোঝার জন্য সাপ এবং অন্যান্য সরীসৃপের উপর অতিরিক্ত কার্যকরী গবেষণা প্রয়োজন। বিশেষ করে, গ্য্রেলিনের অনুপস্থিতি কীভাবে সাপের বিপাকীয় চাহিদা, শারীরিক কর্মক্ষমতা এবং পরিবেশগত চাপের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় তা বিশ্লেষণ করা গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে, চামেলন ও টোডহেড আগামার ক্ষেত্রে গ্য্রেলিনের অনুপস্থিতি কীভাবে তাদের খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে সম্পর্কিত তা জানার জন্য তুলনামূলক গবেষণা দরকার।
এই নতুন জিনোমিক তথ্য সরীসৃপের হরমোনাল সিস্টেমের জটিলতা প্রকাশ করে এবং হরমোনের ঐতিহ্যগত ভূমিকা পুনর্বিবেচনার দরকারীয়তা তুলে ধরে। ভবিষ্যতে গ্য্রেলিনের বিকল্প পথ বা সমতুল্য হরমোনের উপস্থিতি অনুসন্ধান করা হলে, সরীসৃপের দীর্ঘ উপবাসের ক্ষমতার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা আরও স্পষ্ট হতে পারে।
পাঠকগণকে আহ্বান জানানো হচ্ছে যে, এই ধরনের গবেষণার অগ্রগতি অনুসরণ করে হরমোনের বিবর্তনীয় দিক এবং প্রাণীর শারীরিক অভিযোজন সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা উচিত। নতুন তথ্য প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের বোঝাপড়া কীভাবে পরিবর্তিত হয় তা পর্যবেক্ষণ করা ভবিষ্যৎ গবেষণার জন্য গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করবে।



