আজ ফোকাস ফিচার্সের নির্মিত নতুন ডকুমেন্টারি ‘দ্য এআই ডক: Or How I Became an Apocaloptimist’ এর ট্রেলার প্রকাশিত হয়েছে। ড্যানিয়েল রোহার এবং চার্লি টায়ারেল পরিচালিত এই চলচ্চিত্রটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) সম্পর্কে মৌলিক প্রশ্ন দিয়ে শুরু হয় এবং বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে উত্তর অনুসন্ধান করে।
চলচ্চিত্রে AI‑এর সম্ভাবনা ও বিপদ উভয়ই বিশ্লেষণ করা হয়েছে; এতে পেশাদার বিশেষজ্ঞ, আশাবাদী, নৈরাশ্যবাদী এবং শীর্ষস্থানীয় সিইওদের মতামত অন্তর্ভুক্ত। প্রশ্নের কেন্দ্রে রয়েছে AI কী এবং ভবিষ্যতে এটি মানবজাতির উপর কী প্রভাব ফেলবে।
রোহার নিজেই ক্যামেরার সামনে উপস্থিত থেকে ব্যক্তিগত গল্প শেয়ার করেন। তিনি একজন সহ-চলচ্চিত্র নির্মাতার সঙ্গে প্রেমে পড়ে, বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন এবং শীঘ্রই সন্তান গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এই ব্যক্তিগত পর্যায়ে তিনি AI‑এর উত্থানকে একটি সম্ভাব্য ঝুঁকি হিসেবে অনুভব করেন, বিশেষ করে সন্তানকে নিরাপদ পরিবেশে বড় করার প্রশ্নে।
সেই উদ্বেগের প্রেক্ষিতে রোহার বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন, যাতে তিনি ভবিষ্যৎ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পেতে পারেন। তার অনুসন্ধান বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ উন্মোচন করে, যেখানে কিছু বিশেষজ্ঞ AI‑এর উন্নয়নকে আশার আলো হিসেবে দেখেন, আবার অন্যরা সম্ভাব্য বিপদের দিকে ইঙ্গিত করেন।
চলচ্চিত্রে উপস্থাপিত দৃষ্টিভঙ্গিগুলি একসঙ্গে আশা ও হুমকির মিশ্রণ তৈরি করে। এক বিশেষজ্ঞ উল্লেখ করেন যে AI‑এর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজ করা কেউ ভবিষ্যতে তাদের সন্তানদের উচ্চ বিদ্যালয় পর্যন্ত পৌঁছানো কঠিন হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছেন। অন্যদিকে, আরেকজন বিশেষজ্ঞ মানবজাতির “হঠাৎ নির্মূল” সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
চলচ্চিত্রে উপস্থিত প্রধান ব্যক্তিত্বদের মধ্যে রয়েছে ওপেনএআই-এর স্যাম অল্টম্যান, গুগল ডিপমাইন্ডের ডেমিস হ্যাসাবিস, অ্যানথ্রপিকের ডারিও আমোডেই এবং মানবিক প্রযুক্তি কেন্দ্রের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ত্রিস্টান হ্যারিস ও আজা রাসকিন। এছাড়া সেন্টার ফর AI সেফটির পরিচালক ড্যান হেনড্রিক্স এবং অন্যান্য AI নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরাও আলোচনায় অংশ নেন।
দৃশ্যমান উপস্থাপনায় চলচ্চিত্রটি প্রচলিত কথোপকথন শৈলীর বাইরে গিয়ে স্টপ‑মোশন অ্যানিমেশন ব্যবহার করে জটিল ধারণা সহজভাবে ব্যাখ্যা করে। রোহার নিজস্ব অঙ্কন, রঙিন স্কেচ এবং সংরক্ষিত সংবাদ ক্লিপের সংমিশ্রণ একটি গতিশীল ক্যালিডোস্কোপের মতো প্রবাহ তৈরি করে, যা দর্শকের মনোযোগকে ধারাবাহিকভাবে বজায় রাখে।
এই ভিজ্যুয়াল পদ্ধতি শুধুমাত্র তথ্য উপস্থাপনেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি দর্শকের কাছে AI‑এর সম্ভাব্য প্রভাবকে স্পষ্ট ও সরলভাবে উপস্থাপন করে। কথোপকথনের পাশাপাশি অ্যানিমেশন এবং আর্কাইভাল ফুটেজের সমন্বয় চলচ্চিত্রকে একটি সমৃদ্ধ ভিজ্যুয়াল অভিজ্ঞতা প্রদান করে।
‘দ্য এআই ডক’ বর্তমান সময়ের সবচেয়ে তীব্র প্রযুক্তিগত আলোচনার একটি দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করে, যেখানে ব্যক্তিগত জীবনের গল্পকে বৈশ্বিক প্রযুক্তিগত প্রবণতার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। AI‑এর ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ এবং আশার মিশ্রণকে একত্রিত করে এই ডকুমেন্টারি দর্শকদেরকে গভীরভাবে চিন্তা করার সুযোগ দেয়, বিশেষ করে সন্তানকে নিরাপদ ভবিষ্যতে বড় করার দৃষ্টিকোণ থেকে।



