21 C
Dhaka
Wednesday, February 18, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিবিএনপি সরকারের ক্যাবিনেটে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে অর্ধেক পদ

বিএনপি সরকারের ক্যাবিনেটে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে অর্ধেক পদ

২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন শেষে গঠিত নতুন বিএনপি সরকার তার প্রথম ক্যাবিনেট গঠন সম্পন্ন করেছে। ক্যাবিনেটের মোট সদস্যের প্রায় অর্ধেকই ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগ থেকে নির্বাচিত হয়েছে, যা অঞ্চলভিত্তিক প্রতিনিধিত্বের ভারসাম্যকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। সরকার গঠনের মূল উদ্দেশ্য ছিল নির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতে নীতি নির্ধারণে দ্রুততা আনা।

ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ সংখ্যক মন্ত্রী নিয়োগ করা হয়েছে। চারজন পূর্ণ মন্ত্রী এবং আটজন স্টেট মন্ত্রী এই বিভাগ থেকে আসা, যা মোট ক্যাবিনেটের এক-চতুর্থাংশের কাছাকাছি। রাজধানীর রাজনৈতিক গুরুত্ব এবং নির্বাচনী ফলাফলকে ধরা দিয়ে এই সংখ্যাগুলি ব্যাখ্যা করা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম বিভাগে নয়জন পূর্ণ মন্ত্রী এবং দুইজন স্টেট মন্ত্রী নিযুক্ত হয়েছে। এই সংখ্যা ঢাকা বিভাগের পরে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এবং দেশের দক্ষিণাঞ্চলের রাজনৈতিক শক্তি প্রতিফলিত করে। চট্টগ্রাম থেকে আসা মন্ত্রীরা বাণিজ্য, বন্দর ও শিল্প নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অন্যান্য বিভাগে মন্ত্রিসভার প্রতিনিধিত্ব তুলনামূলকভাবে কম। রংপুর থেকে তিনজন পূর্ণ মন্ত্রী ও একজন স্টেট মন্ত্রী, রাজশাহী থেকে দুইজন পূর্ণ মন্ত্রী ও চারজন স্টেট মন্ত্রী, খুলনা থেকে দুইজন পূর্ণ মন্ত্রী ও দুইজন স্টেট মন্ত্রী, বরিশাল থেকে দুইজন পূর্ণ মন্ত্রী ও তিনজন স্টেট মন্ত্রী, ময়মনসিংহ থেকে চারজন স্টেট মন্ত্রী এবং সিলেট থেকে মাত্র দুইজন পূর্ণ মন্ত্রী নিযুক্ত হয়েছে। এই বণ্টন অঞ্চলীয় উন্নয়ন পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে।

প্রধানমন্ত্রীর পদে নির্বাচিত তারেক রহমানের অবস্থান স্পষ্ট। তিনি বগুড়া ও ঢাকা উভয় থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ঢাকা-১৭ আসন রক্ষা করেছেন এবং সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তার নির্বাচনী জয় এবং ক্যাবিনেটের কেন্দ্রীয় ভূমিকা দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন গতিপথ নির্ধারণ করবে।

অন্তর্বর্তী সরকারে উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করা খালিলুর রহমান এখন টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হিসেবে ক্যাবিনেটে যোগ দিয়েছেন। তিনি প্রযুক্তি ও নীতি সমন্বয় ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচিত, এবং তার যোগদান সরকারকে প্রযুক্তিগত দিক থেকে শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিপক্ষের দল, বিশেষ করে আওয়ামী লীগ, ক্যাবিনেটের অঞ্চলভিত্তিক বণ্টনকে সমালোচনা করেছে। তারা যুক্তি দিয়েছে যে সিলেট ও অন্যান্য পূর্বাঞ্চলীয় বিভাগে প্রতিনিধিত্বের অভাব জাতীয় সংহতি ও সমন্বয়কে ক্ষুণ্ন করতে পারে। তবে সরকার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে মন্ত্রিসভার গঠন দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে করা হয়েছে।

বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে অধিকাংশ মন্ত্রী নিয়োগের ফলে নীতি নির্ধারণে দ্রুততা আসতে পারে, তবে অঞ্চলীয় বৈষম্য বাড়লে স্থানীয় বিরোধের ঝুঁকি বৃদ্ধি পেতে পারে। ভবিষ্যতে সরকারকে সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা তৈরি করে সকল বিভাগের চাহিদা পূরণে মনোযোগ দিতে হবে।

সারসংক্ষেপে, নতুন বিএনপি ক্যাবিনেটের গঠন অঞ্চলভিত্তিক ভারসাম্য নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করেছে, তবে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সরকার দ্রুত কাজ চালিয়ে যাবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। রাজনৈতিক পরিবেশের পরিবর্তন এবং নীতি বাস্তবায়নের গতি দেশের সামগ্রিক অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments