ফেব্রুয়ারি ২০, শুক্রবার ‘Midwinter Break’ ফোকাস ফিচার্সের মাধ্যমে বাংলা মঞ্চে হাজির হয়েছে। লেসলে ম্যানভিল এবং সিয়ারান হিন্ডস প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন, যেখানে তারা দীর্ঘ বিবাহের পরিপ্রেক্ষিতে এক জটিল সম্পর্কের চিত্র তুলে ধরেছেন। চলচ্চিত্রটি শীতের ছুটির সময়ের পারিবারিক টানাপোড়েনকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে।
এই ছবিটি বার্নার্ড ম্যাকলাভার্টির ২০১৭ সালের উপন্যাসের উপর ভিত্তি করে তৈরি। নিক পেইন মূল উপন্যাসকে চলচ্চিত্রের স্ক্রিপ্টে রূপান্তরিত করেছেন, আর পলি ফাইন্ডলে পরিচালনা দায়িত্বে আছেন। উভয়ই পূর্বে নাট্য ও চলচ্চিত্রে সমাদৃত কাজের জন্য পরিচিত।
গল্পের মূল কাঠামো হল বেলফাস্ট থেকে গ্লাসগোতে স্থানান্তরিত একটি দম্পতির জীবন। তাদের পেছনে একটি ট্রমা রয়েছে, যা চলচ্চিত্রের শুরুর দিকে সংক্ষিপ্ত ফ্ল্যাশব্যাকের মাধ্যমে প্রকাশ পায়। এই ঘটনা তাদের পারস্পরিক সম্পর্কের উপর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলেছে।
ফ্ল্যাশব্যাকের দৃশ্যে দেখা যায় গর্ভবতী স্টেলা (জুলি ল্যাম্বারটন) ট্রাবলসের সময় গুলিবিদ্ধ হন। এই ঘটনার স্মৃতি দম্পতির মধ্যে অপ্রকাশ্য রূপে বেঁচে থাকে এবং পরবর্তী ঘটনাবলীর ভিত্তি গঠন করে।
বর্তমান সময়ে স্টেলা এবং গ্যারি (লেসলে ম্যানভিল ও সিয়ারান হিন্ডস) একে অপরের থেকে মানসিকভাবে দূরে সরে গেছেন। তারা একসাথে রাতের খাবার খান, তবে কথোপকথন খুব কম এবং নীরবতা প্রাধান্য পায়। গ্যারি সংবাদপত্রের পাতা উল্টিয়ে থাকেন, আর স্টেলা একা ক্যাথলিক মিসায় অংশ নেন।
স্টেলার ধর্মীয় বিশ্বাস সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শক্তিশালী হয়ে ওঠে, বিশেষ করে ক্রিসমাসের সময় তিনি একা মসজিদে উপস্থিত হন। অন্যদিকে গ্যারি, অবসরপ্রাপ্ত স্থপতি, বাড়িতে বই ও পানীয়ের সঙ্গে দিন কাটান। তাদের পুত্র বড় হয়ে অন্য শহরে বসবাস করে, যা দম্পতির একাকিত্বকে বাড়িয়ে দেয়।
চিত্রনাট্যটি দম্পতির অভ্যন্তরীণ জগতকে সূক্ষ্মভাবে উপস্থাপন করে, তবে গল্পের অগ্রগতি ধীর এবং শান্ত স্বভাবের। চলচ্চিত্রের মোট সময়কাল এক ঘণ্টা ত্রিশ মিনিট, এবং এটি পিজি-১৩ রেটিং পেয়েছে, যা কিশোর ও প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য উপযুক্ত।
কাস্টে লেসলে ম্যানভিল, সিয়ারান হিন্ডসের পাশাপাশি নিয়াম কুস্যাক, জুলি ল্যাম্বারটন এবং এড সায়ারও অংশগ্রহণ করেছেন। প্রত্যেক অভিনেতা তাদের চরিত্রের জটিলতা প্রকাশে যথাযথ পারফরম্যান্স প্রদান করেছেন।
পলি ফাইন্ডলের পরিচালনায় ছবিটি নাট্যগত গঠন বজায় রেখেছে, যেখানে নিক পেইনের সংলাপগুলো মূল উপন্যাসের মর্মকে আধুনিক দৃষ্টিকোণ থেকে পুনর্গঠন করেছে। বার্নার্ড ম্যাকলাভার্টির গল্পের মূল থিম—যুদ্ধের পরবর্তী মানসিক ক্ষতি এবং পারিবারিক বিচ্ছিন্নতা—চলচ্চিত্রে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
‘Midwinter Break’ তার শিরোনাম অনুসারে শীতের নিস্তব্ধতা এবং সম্পর্কের শীতলতা উভয়ই তুলে ধরেছে। ছবিটি দৃশ্যগতভাবে অতিরিক্ত নাটকীয়তা ব্যবহার না করে, চরিত্রের অভ্যন্তরীণ সংঘাতকে সরল ও বাস্তবধর্মীভাবে উপস্থাপন করেছে। ফলে দর্শককে চরিত্রের নীরব কষ্ট অনুভব করার সুযোগ দেয়।
সামগ্রিকভাবে, এই চলচ্চিত্রটি শান্ত স্বরে গড়ে ওঠা একটি পারিবারিক নাটক, যা দীর্ঘ বিবাহের মধ্যে লুকিয়ে থাকা অনুভূতি ও স্মৃতির ওপর আলোকপাত করে। যারা সূক্ষ্ম মানবিক গল্পে আগ্রহী, তাদের জন্য ‘Midwinter Break’ একটি চিন্তাশীল অভিজ্ঞতা প্রদান করতে পারে।



