ঢাকার উত্তরা সেক্টর‑৭-এ সন্ধ্যা ৭:৪৫ টার দিকে একটি বাড়িতে গৃহকর্মীর সন্দেহভাজন বিষক্রিয়ায় ৬২ বছর বয়সী আয়েশা আখতার মারা যান। একই সময়ে তার স্বামী আনওয়ার হোসেনও বিষক্রিয়ার শিকার হয়ে লুবানা হাসপাতালের সেক্টর‑১৩ তে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ঘটনাস্থলটি হল ৩২ নম্বর বাড়ি, রোড‑১৮, উত্তরা সেক্টর‑৭।
স্থানীয় পুলিশ ৯৯৯ নম্বরে জরুরি কল পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তৎক্ষণাৎ একটি পেট্রোল দল উপস্থিত হয়ে দুজনকে অস্থায়ীভাবে রেসকিউ করে নিকটবর্তী লুবানা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যায়। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর চিকিৎসকরা আয়েশা আখতার শ্বাসপ্রশ্বাস পুনরুদ্ধার করতে ব্যর্থ হয়ে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
আয়েশা আখতার এবং তার স্বামী আনওয়ার হোসেনের পরিবার একটি অ্যাপার্টমেন্টে তার পুত্র ও পুত্রবধূর সঙ্গে বসবাস করছিল। প্রায় তিন দিন আগে পরিবারটি মারুফা নামের গৃহকর্মীকে নিয়োগ করে ছিল, তবে তার পূর্ণ ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর জানা ছিল না। পুত্র ও পুত্রবধূ দুই দিন ধরে বাইরে ছিলেন, ফলে বয়স্ক দম্পতি একা ছিলেন।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে দেখা যায় গৃহকর্মী খাবারে কোনো সেডেটিভ বা বিষ মিশিয়ে দম্পতিকে অচেতন করে তোলার পর বাড়ি থেকে মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গৃহকর্মীর পরিচয় ও তার সঙ্গে সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহের জন্য পারিবারিক সদস্যদের কাছ থেকে বিবরণ নেওয়া হয়েছে।
আনওয়ার হোসেন বর্তমানে লুবানা হাসপাতালের সেক্টর‑১৩ তে তীব্র পর্যবেক্ষণে আছেন এবং তার অবস্থার উন্নতি হলে চিকিৎসা দল তাকে মুক্তি দিতে পারে। তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল হলেও বিষক্রিয়ার প্রভাবের কারণে দীর্ঘমেয়াদী পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন।
পুলিশের মতে গৃহকর্মী মারুফা বিষক্রিয়া ঘটানোর পর বাড়ি থেকে দৌড়ে পালিয়ে গিয়েছেন এবং এখনও তার অবস্থান অজানা। দৌড়ে যাওয়ার সময় তিনি কিছু মূল্যবান সামগ্রী নেয়ার চেষ্টা করলেও সেগুলো সম্পূর্ণভাবে উদ্ধার করা যায়নি।
অভিযুক্ত গৃহকর্মীর বিরুদ্ধে গৃহহত্যা ও চুরি সংক্রান্ত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে। তদন্তের অংশ হিসেবে বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজ, খাবারের নমুনা এবং গৃহকর্মীর ফোন রেকর্ড বিশ্লেষণ করা হবে।
দেহটি লুবানা হাসপাতালের মরগে সংরক্ষিত রয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে একটি ইনকোয়েস্ট (মৃতদেহ পরীক্ষা) পরিচালিত হচ্ছে। ইনকোয়েস্টের ফলাফল গৃহকর্মীর অপরাধের প্রমাণকে দৃঢ় করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উত্তরা পশ্চিম থানা অফিসার‑ইন‑চার্জ কাজি মোহাম্মদ রফিক আহমেদ জানান, তদন্ত চলমান এবং প্রয়োজনীয় সব আইনি প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, গৃহকর্মীর বিরুদ্ধে অপরাধমূলক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং আদালতে তার উপস্থিতি নিশ্চিত করা হবে।
পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গৃহকর্মীকে নিয়োগের সময় ঠিকানা ও ফোন নম্বর সম্পর্কে যথাযথ যাচাই করা হয়নি, যা ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হতে পারে।
স্থানীয় সমাজে এই ঘটনার প্রতিক্রিয়া শোক ও উদ্বেগের মিশ্রণ, কারণ গৃহকর্মীর ওপর বিশ্বাস ভঙ্গ হয়েছে এবং বয়স্ক নাগরিকদের সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তা পুনরায় উন্মোচিত হয়েছে।
পুলিশের তদন্ত চলমান থাকায় গৃহকর্মীর সঠিক পরিচয় ও তার বর্তমান অবস্থান জানার জন্য জনগণকে সতর্ক করা হয়েছে, যাতে কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তা দ্রুত জানানো যায়। বিষয়টি নিয়ে আদালতে শীঘ্রই শুনানি নির্ধারিত হবে এবং আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর চূড়ান্ত রায় জানানো হবে।



