অমিনুল হক, নতুন যুব ও ক্রীড়া রাজ্য মন্ত্রী, মঙ্গলবার জানিয়েছেন সরকার ভারতের সঙ্গে চলমান ক্রীড়া বিরোধ সমাধানে তৎপর এবং পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চাইছে। তিনি উল্লেখ করেছেন যে বাংলাদেশ টি২০ বিশ্বকাপ থেকে অনুপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশের পর এই বিষয়টি সমাধানের জন্য উচ্চ পর্যায়ের আলোচনার দরজা খুলে দেওয়া হয়েছে।
ইন্টারিম সরকার, যিনি জুলাই ২০২৪-এ ছাত্র আন্দোলনের পর ক্ষমতায় আসেন, নিরাপত্তা উদ্বেগের ভিত্তিতে জাতীয় দলকে বিশ্বকাপে পাঠাতে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ফলে স্কটল্যান্ডকে পরিবর্তে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয় এবং বাংলাদেশ টুর্নামেন্টে অনুপস্থিত থাকে। এই সিদ্ধান্তের পর থেকে দুই দেশের ক্রীড়া সম্পর্কের অবনতি নিয়ে বিশ্লেষণ বাড়ছে।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নতুন দায়িত্বে অমিনুল হক, সাম্প্রতিক সাধারণ নির্বাচনের পর গঠিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পার্টির সরকারে যোগদান করেন। পার্টি অধিকাংশ আসন জয় করে সরকার গঠন করে, ফলে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া বিষয়ক নীতিগুলো পুনর্বিবেচনা করার সুযোগ তৈরি হয়। হক এই প্রেক্ষাপটে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক মেরামতে বিশেষ গুরুত্ব দেন।
আজ শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠান শেষে পার্লামেন্ট ভবনে ভারতের ডেপুটি হাইকমিশনারের সঙ্গে হক বৈঠক করেন। বৈঠকে তিনি টি২০ বিশ্বকাপ সংক্রান্ত বিষয়টি উন্মুক্তভাবে আলোচনা করেন এবং উভয় পক্ষের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশের কথা উল্লেখ করেন। হক বলেন, “আমরা দ্রুত আলোচনা মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান চাই, যাতে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সব ক্ষেত্রেই সৎ ও আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে তোলা যায়।”
হক স্পষ্ট করে জানান, কূটনৈতিক জটিলতার কারণে বাংলাদেশ টুর্নামেন্টে অংশ নিতে পারেনি। তিনি যোগ করেন, “যদি এই বিষয়গুলো আগে থেকেই আলোচনা হয়ে সমাধান হতো, তবে আমাদের দল সম্ভবত অংশ নিতে পারত।” এই মন্তব্যে তিনি বর্তমান কূটনৈতিক বাধাগুলোকে সমাধানের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন।
ক্রিকেট বোর্ডের পূর্ববর্তী নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে হক উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, “বিসিবি নির্বাচনের প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ ছিল, এবং নতুন বোর্ডের সভাপতি অমিনুল ইসলামকে নিয়ে আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করব।” হক এ বিষয়ে স্পষ্টভাবে বলছেন যে তিনি সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে বসে সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করবেন।
হক আরও বলেন, ক্রীড়া ক্ষেত্রের পাশাপাশি বাণিজ্য, শিক্ষা ও সংস্কৃতি ইত্যাদি সব ক্ষেত্রে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলা জরুরি। তিনি উল্লেখ করেন, “ক্রীড়া আমাদের দু’দেশের মধ্যে বন্ধুত্বের সেতু হতে পারে, তাই আমরা এই সেতুটি মজবুত করতে চাই।” এভাবে তিনি ক্রীড়া কূটনীতির গুরুত্বকে পুনরায় জোর দিয়ে বলেছেন।
বছরের শেষের দিকে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ক্যালেন্ডার ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে ভবিষ্যৎ টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের পরিকল্পনা করা হবে। হক উল্লেখ করেন, “যদি শর্তগুলো নিরাপদ ও স্বচ্ছ হয়, তবে আমরা আবার আন্তর্জাতিক মঞ্চে আমাদের উপস্থিতি নিশ্চিত করব।” এই প্রতিশ্রুতি বাংলাদেশের ক্রীড়া ভক্তদের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে।
অমিনুল হক শেষ পর্যন্ত বলেন, “আমরা সব প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ ও পারস্পরিক সম্মান ভিত্তিক সম্পর্ক বজায় রাখতে চাই, এবং ক্রীড়া এই সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ।” তার এই বক্তব্যে ক্রীড়া কূটনীতির মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে সেতু গড়ার ইচ্ছা স্পষ্ট হয়েছে।
এইসব ঘোষণার পর, সরকার দ্রুত কূটনৈতিক চ্যানেল সক্রিয় করে বিষয়টি সমাধানে কাজ করবে বলে আশ্বাস দিয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো ক্রীড়া ইভেন্টে অনুপস্থিতি না থাকে এবং আন্তর্জাতিক ক্রীড়া মঞ্চে বাংলাদেশের উপস্থিতি দৃঢ় হয়।



