ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বে গঠিত অস্থায়ী সরকারকে আজ সরকারি গেজেটের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করা হয়েছে। গেজেট নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, সংবিধানের ধারা ৫৬(৩) অনুসারে রাষ্ট্রপতি তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ করেছেন এবং তাকে সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠের সমর্থনপ্রাপ্ত এমপি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। নতুন সরকারের গঠন নিশ্চিত হওয়ায় অস্থায়ী সরকারের পরামর্শক পরিষদ সমাপ্তি পায়।
নোটিশে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, নতুন সরকার গঠনের সঙ্গে সঙ্গে বর্তমান অস্থায়ী সরকারের পরামর্শক পরিষদকে সমাপ্ত বলে গণ্য করা হবে। এই ঘোষণার মাধ্যমে কার্যনির্বাহী ক্ষমতার হস্তান্তর সংবিধানিকভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং নতুন মন্ত্রিপরিষদের শপথ গ্রহণের পর সরকারী কার্যক্রম নতুন নেতৃত্বে চালু হবে।
রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্তে নতুন মন্ত্রিপরিষদ গঠন ও তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, যা সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠের আস্থা অর্জনকারী একটি দলীয় গঠনকে নির্দেশ করে। গেজেট নোটিশে উল্লেখিত এই পদক্ষেপটি সংবিধানের বিধান অনুসারে নেওয়া হয়েছে এবং সরকারী কাঠামোর পরিবর্তনকে আইনগতভাবে নিশ্চিত করে।
অস্থায়ী সরকারের পরামর্শক পরিষদের সমাপ্তি গেজেটের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে নথিভুক্ত করা হয়েছে, যদিও বাস্তবে নতুন মন্ত্রিপরিষদ শপথ গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে পুরনো সরকার কার্যত শেষ হয়ে যায়। তবে সংবিধানিক প্রক্রিয়ার সম্পূর্ণতা নিশ্চিত করতে গেজেট নোটিশ প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক, যা প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখে।
ক্যাবিনেট বিভাগের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা গেজেট নোটিশের গুরুত্ব সম্পর্কে ব্যাখ্যা করেন, তিনি বলেন সাধারণত নতুন মন্ত্রিপরিষদের শপথের পর পুরনো সরকার সমাপ্ত বলে ধরা হয়, তবে গেজেটের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক রেকর্ড তৈরি করা প্রয়োজন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বিভাগ তার দায়িত্ব পালন করেছে।
এই পরিবর্তনের ফলে দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন দিকনির্দেশনা দেখা যাবে। নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত সরকারকে সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠের সমর্থন রয়েছে, যা নীতি নির্ধারণে স্থিতিশীলতা আনতে পারে। তবে অস্থায়ী সরকারের সমাপ্তি এবং নতুন মন্ত্রিপরিষদের গঠন রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ক্ষমতার পুনর্বণ্টন ঘটাবে, যা পরবর্তী সময়ে আইনসভা ও নীতি প্রণয়নে প্রভাব ফেলবে।
অস্থায়ী সরকারের সমাপ্তি এবং নতুন সরকারের গঠন সংবিধানিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করেছে। সরকারী কাজকর্মের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে নতুন মন্ত্রিপরিষদ শীঘ্রই তার কর্মসূচি প্রকাশ করবে এবং দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রের উন্নয়ন পরিকল্পনা এগিয়ে নেবে।
সংবিধানিক ধারা ৫৬(৩) অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির এই পদক্ষেপকে দেশের শাসনব্যবস্থার ধারাবাহিকতা ও আইনি বৈধতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। গেজেট নোটিশের মাধ্যমে অস্থায়ী সরকারের সমাপ্তি ও নতুন সরকারের গঠন উভয়ই আইনগতভাবে নিশ্চিত হয়েছে, যা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।



