ভারত এ টি২০ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্যায়ে তৃতীয় ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের মুখোমুখি হয়েছে এবং কোচ সিতাংশু কোতক স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে এই ম্যাচে কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে না। দলটি ইতিমধ্যে তিনটি জয় দিয়ে সুপার ৮সের স্থান নিশ্চিত করেছে, তবে পরবর্তী ম্যাচের জন্য শর্তাবলী ও কৌশল নিয়ে মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করেছে।
টুর্নামেন্টের ফরম্যাটের কারণে ভারত এ দলকে সুপার ৮সের জন্য স্থান নিশ্চিত করার পরই তাদের পরবর্তী প্রতিপক্ষ ও স্টেডিয়াম নির্ধারিত হয়, ফলে কোনো অতিরিক্ত পয়েন্ট নিয়ে চিন্তা করতে হয় না। এই পরিস্থিতি দলকে প্রতিটি ম্যাচকে সমান গুরুত্ব দিয়ে খেলতে বাধ্য করে।
বাটিং কোচ কোতক উল্লেখ করেছেন, নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে এই ম্যাচে কোনো নতুন কৌশল প্রয়োগের ইচ্ছা নেই, কারণ দলের দৃষ্টি ইতিমধ্যে আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে আসন্ন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের দিকে। তিনি জোর দিয়ে বলছেন, ভবিষ্যৎ গেমের প্রস্তুতি এখনই মূল অগ্রাধিকার।
সর্বশেষে, ভারত এ দলকে ২২ তারিখে দক্ষিণ আফ্রিকা এ দলের সঙ্গে একই স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হতে হবে, যা টুর্নামেন্টের সম্ভাব্য ফাইনালেরও স্থান হতে পারে। এই ধারাবাহিকতা কোচকে স্টেডিয়ামের শর্তে অভ্যস্ত হওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করিয়ে দেয়।
কোচ কোতক বলেন, “প্রতিটি ম্যাচ আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ” এবং যোগ করেন, “এই মাটিতে পরের ম্যাচের আগে আমাদের প্রস্তুতি সম্পূর্ণ করতে হবে, যাতে শেষ পর্যন্ত ফাইনালে পৌঁছানো সহজ হয়”। তিনি দলের জন্য ধারাবাহিকতা বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।
যদিও তিনি কোনো বড় পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রত্যাশা না করলেও, পিচের অবস্থা ও শর্তের ভিত্তিতে কিছু পরিবর্তন করা হতে পারে। বিশেষ করে, আহমেদাবাদের তিনটি ম্যাচে স্পিনারদের পারফরম্যান্স কম থাকায় অতিরিক্ত পেসার অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনা উল্লেখ করা হয়েছে।
কোচের মতে, নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে ম্যাচটি তুচ্ছ নয়; দলটি একই মানসিকতা ও চাপের সঙ্গে খেলবে, যেমন পূর্বের ম্যাচে করেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “প্রতিটি গেমে জয়ের গতি বজায় রাখতে হবে, তাই কোনো ম্যাচকে কম চাপের হিসেবে দেখা যাবে না”।
এই সময়ে, কিছু খেলোয়াড়ের ক্ষুদ্র আঘাতের কারণে বিশ্রামের সুযোগ নেওয়া সম্ভব, যাতে তারা পরবর্তী পাঁচটি সম্ভাব্য গেমে পূর্ণ শক্তি দিয়ে খেলতে পারে। কোচ এ বিষয়ে সতর্কতা প্রকাশ করেছেন, যাতে কোনো অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকি না থাকে।
একই সঙ্গে, অল-রাউন্ডার অভিষেক শর্মা বড় সুযোগের অপেক্ষায় আছেন, যেহেতু তিনি টুর্নামেন্টে এখনো কোনো রান সংগ্রহ করতে পারেননি। কোচের মতে, শর্মার জন্য এই ম্যাচটি আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হতে পারে।
সুপার ৮সে প্রবেশের পর থেকে ভারত এ দল তিনটি জয় অর্জন করেছে, যা তাদের গ্রুপের শীর্ষে রাখে। এই ধারাবাহিকতা কোচ ও খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাসকে দৃঢ় করেছে, এবং পরবর্তী ম্যাচে আরও শক্তিশালী পারফরম্যান্সের প্রত্যাশা বাড়িয়েছে।
নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে এই ম্যাচে দলটি মূলত শর্তাবলী পর্যবেক্ষণ করবে, তবে কোনো নতুন খেলোয়াড় বা কৌশল প্রয়োগ না করার সিদ্ধান্ত স্পষ্ট। কোচের এই দৃষ্টিভঙ্গি দলকে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করবে।
আগামী সপ্তাহে ভারত এ দলকে আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে দক্ষিণ আফ্রিকা এ এবং সম্ভাব্য ফাইনালের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে, যেখানে শর্তের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ হবে। কোচের মন্তব্য অনুযায়ী, এই প্রস্তুতি দলকে টুর্নামেন্টের শেষ পর্যায়ে শক্তিশালী অবস্থানে রাখবে।
সারসংক্ষেপে, ভারত এ দল নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে কোনো পরীক্ষা না করে শর্তাবলী ও কৌশলগত প্রস্তুতির দিকে মনোযোগ দিচ্ছে, যাতে আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে সর্বোচ্চ পারফরম্যান্স দিতে পারে।



