মুম্বাই‑তে তার ২০১০ সালের প্রোডাকশন উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত ৯ কোটি টাকা চেক বাউন্স মামলায় দিল্লির টিহার জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর রাজপাল যাদবকে উচ্চ আদালত জামিন প্রদান করেছে। জামিনের শর্তে তিনি তৎক্ষণাৎ মিডিয়ার সামনে উপস্থিত হয়ে বর্তমান পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে মন্তব্য করেন।
মামলাটি মূলত ২০১০ সালে তার প্রযোজনা সংস্থার পক্ষ থেকে ইস্যু করা চেকের পেমেন্ট না হওয়ার ফলে চেক বাউন্সের অভিযোগে দায়ের হয়। আদালতে প্রমাণিত হয়েছে যে চেকের মূল্য ৯ কোটি টাকার বেশি, এবং মামলাটি প্রায় দশ বছর ধরে চলমান। এই সময়ে যাদবকে টিহার জেলে আটকে রাখা হয়, তবে শেষ পর্যন্ত উচ্চ আদালতের রায়ে তাকে জামিন দেওয়া হয়।
যাদব স্পষ্ট করে বলেন যে মামলার কোনো আইনি তথ্য জানতে চাইলে তার আইনজীবী ভাস্কর উপাধ্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত। তিনি নিজে মামলার বিশদে আলোচনা না করে, আইনগত প্রশ্নের উত্তর তার আইনজীবীর কাছ থেকে পাওয়ার আহ্বান জানান। এভাবে তিনি আইনি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে চান।
বক্তব্যের মধ্যে তিনি মুম্বাই, বলিউডে তার ত্রিশ বছরের ক্যারিয়ারকে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, ত্রিশ বছর ধরে তিনি বলিউডের বিভিন্ন ধরণের চলচ্চিত্রে কাজ করে মোট ২৫০টি ছবিতে অভিনয় করেছেন। এই দীর্ঘ সময়ে তিনি দেশের সব বয়সের দর্শকের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করেছেন, যা তার চলচ্চিত্রের ব্যাপক জনপ্রিয়তার মূল কারণ।
সামাজিক মিডিয়ার সমর্থন নিয়ে তিনি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি অনুমান করেন যে তার অনুসারী সংখ্যা প্রায় ১৫ কোটি, যারা তার কাজকে শৈশব থেকে মধ্যবয়স পর্যন্ত অনুসরণ করে আসছে। তিনি বলেন, এই বিশাল সমর্থনই তাকে নতুন চ্যালেঞ্জ গ্রহণে উৎসাহিত করে এবং তিনি সবসময়ই তাদের প্রত্যাশা পূরণে সচেষ্ট থাকবেন।
যাদব আদালতের আদেশ মেনে চলার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, অতীতের দশ বছর ধরে উচ্চ আদালত যে রায় দিয়েছে, সেগুলো তিনি মেনে চলেছেন এবং ভবিষ্যতে যেকোনো রায়ের জন্য প্রস্তুত আছেন। তিনি উল্লেখ করেন, যদি তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকে, তবে তিনি সর্বত্র উপস্থিত হয়ে তা পরিষ্কার করতে ইচ্ছুক।
শেষে তিনি উচ্চ আদালতকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এই সুযোগে তিনি নিজের কথা প্রকাশের এবং সমর্থকদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের সুযোগ পেয়েছেন। তিনি আদালতের রায়কে সম্মান করে, দেশের আইনগত প্রক্রিয়ার প্রতি তার আস্থা প্রকাশ করেন।



