রাষ্ট্র যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রী, প্রাক্তন জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক আমিনুল হক, শাকিব আল-শারা ও মাশরাফে বিন মরতাজার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোর দ্রুত সমাধি চেয়ে সরকারকে আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি মিরপুরে নিজের বাড়িতে মিডিয়া ব্রিফিংয়ে উল্লেখ করেন, উভয় খেলোয়াড়ের কোর্টের ঝামেলা শেষ হয়ে দেশের ক্রিকেটে ফিরে আসা দরকার।
আমিনুল হক মঙ্গলবার, ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের পর বিসিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের অংশ হিসেবে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রিপদে শপথ গ্রহণের পরই এই মন্তব্য করেন। নির্বাচনের বিশাল জয় তাকে নতুন দায়িত্বে নিয়ে এসেছে, যেখানে তিনি ক্রীড়া নীতি ও খেলোয়াড়দের কল্যাণে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
ব্রিফিংয়ে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, শাকিব ও মাশরাফের মামলাগুলো সরকারী স্তরে সমাধি করা হবে এবং এ বিষয়ে নমনীয়তা বজায় রাখা হবে। “শাকিবকে ফিরে আসতে চাই,” তিনি বলেন, এবং যোগ করেন, “মাশরাফের ক্ষেত্রেও একই আশা রয়েছে।” তার মতে, আইনি প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হলে দুজনই আবার জাতীয় দলে অংশ নিতে পারবেন।
শাকিব আল-শারা ও মাশরাফে বিন মরতাজা উভয়ই পূর্বে আওয়ামী লীগ শাসিত সরকারের অধীনে সংসদ সদস্য ছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা, যার মধ্যে হত্যার অভিযোগও অন্তর্ভুক্ত, দায়ের করা হয়েছে। এই আইনি বাধা তাদের আন্তর্জাতিক ও দেশীয় ক্রিকেটে অংশগ্রহণে বাধা সৃষ্টি করেছে।
শাকিব আল-শারা প্রায় এক বছর অর্ধেক সময় জাতীয় দলে উপস্থিত ছিলেন না। তিনি বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে অংশগ্রহণে মনোনিবেশ করেছেন। তার সর্বশেষ জাতীয় পোশাক পরা ম্যাচটি ২০২৪ সালের শেষের দিকে কানপুরে ভারতের বিরুদ্ধে টেস্ট ম্যাচে ছিল।
মাশরাফে বিন মরতাজা, ৪২ বছর বয়সী, জুলাই উত্থান পর্যন্ত দেশীয় প্রতিযোগিতায় নিয়মিত অংশগ্রহণ করতেন। তিনি ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে খেলেছেন, যা তার সাম্প্রতিক সক্রিয়তার প্রমাণ। তবে আইনি মামলার কারণে তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার স্থগিত হয়েছে।
অধিনস্তর থেকে মামলাগুলোর দ্রুত সমাধি দাবি করা আমিনুল হকের মন্তব্যে সরকারী দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, “কেসগুলো সরকার পরিচালনা করবে,” এবং এ বিষয়ে কোনো কঠোর অবস্থান না নিয়ে নমনীয়তা বজায় রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। এই দৃষ্টিভঙ্গি ক্রীড়া জগতে উভয় খেলোয়াড়ের প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা বাড়িয়ে তুলতে পারে।
শাকিব আল-শারা ও মাশরাফে বিন মরতাজা উভয়েরই দেশের ক্রিকেটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। শাকিবের অল-রাউন্ডার দক্ষতা ও মাশরাফের ক্যাপ্টেনশিপ অভিজ্ঞতা দলকে শক্তিশালী করে। তাই মামলাগুলোর সমাধি হলে জাতীয় দলের পারফরম্যান্সে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা যায়।
সরকারের এই বিষয়টি নিয়ে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ক্রীড়া সম্প্রদায়ে স্বাগত পেয়েছে। খেলোয়াড়দের সমর্থক ও বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, আইনি বাধা দূর হলে দুইজনই দ্রুত ফর্মে ফিরে আসতে পারবেন। তবে শেষ পর্যন্ত আদালতের রায়ই নির্ধারণ করবে তাদের ভবিষ্যৎ।
এই পরিস্থিতিতে আমিনুল হক আবারও জোর দিয়ে বলেন, “শাকিব ও মাশরাফে যেন শীঘ্রই দেশের ক্রিকেটে ফিরে আসতে পারেন,” এবং তিনি সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানান। তার এই মন্তব্য ক্রীড়া নীতি ও আইনি প্রক্রিয়ার সমন্বয়কে গুরুত্ব দেয়।
সংক্ষেপে, শাকিব আল-শারা ও মাশরাফে বিন মরতাজার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোর দ্রুত সমাধি এবং তাদের ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তন সরকারী স্তরে অগ্রাধিকার পেয়েছে। আমিনুল হকের এই আহ্বান ক্রীড়া জগতের প্রত্যাশা ও সরকারের দায়িত্বের মেলবন্ধনকে তুলে ধরে। ভবিষ্যতে আদালতের রায় এবং সরকারী পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করে দুজনের ক্যারিয়ার কীভাবে এগিয়ে যাবে তা নির্ধারিত হবে।



