ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর মঙ্গলবার একাধিক অভিযানে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা সিগারেট ও মদ জব্দ করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আগত শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ছয়টি লাগেজে মোট ৯১৯ কার্টন বিদেশি সিগারেট পাওয়া গিয়েছে। এই সিগারেটের মোট মূল্য পঞ্চাশ লাখ টাকার বেশি, যা দেশের শুল্ক আইন লঙ্ঘনের গুরুতর উদাহরণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, সংশ্লিষ্ট লাগেজগুলো ফ্লাইট থেকে নামার পরই যাত্রীরা তা ফেলে পালিয়ে যায়, ফলে সিগারেটগুলোই সরাসরি শুল্ক অফিসের হাতে পড়ে। মোট নয়টি লাগেজ থেকে জব্দকৃত সিগারেটের পরিমাণ বিশাল, যা একসঙ্গে একাধিক দেশের বাজারে অবৈধভাবে প্রবেশের সম্ভাবনা নির্দেশ করে।
সিগারেটের পাশাপাশি, একই দিনে শুল্ক গোয়েন্দারা ৬৭ লিটার বিদেশি মদও জব্দ করে। এই মদের মধ্যে রাশিয়া থেকে ঢাকা আসা একটি ফ্লাইটের সাতজন যাত্রীর কাছ থেকে ৪৪ লিটার এবং অন্যান্য দেশ থেকে আসা যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ২৩ লিটার মদ জব্দ করা হয়েছে। মোট মদের পরিমাণ ও তার মূল্য শুল্ক ফাঁকির সঙ্গে যুক্ত অপরাধের মাত্রা বাড়িয়ে তুলেছে।
শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে যে, জব্দকৃত সিগারেট ও মদের সব কাগজপত্র ও প্যাকেজিং সামগ্রী যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে এবং প্রমাণের ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জব্দকৃত পণ্যগুলোকে শুল্ক আদালতে প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা হবে, যেখানে সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের বিরুদ্ধে শুল্ক আইন অনুযায়ী শাস্তি আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে।
শুল্ক আইন অনুযায়ী, শুল্ক ফাঁকি দিয়ে বিদেশি মদ ও সিগারেট আনা অপরাধে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং জব্দকৃত পণ্যের মূল্যের সমমানের জরিমানা আরোপ করা হতে পারে। এছাড়া, জব্দকৃত পণ্যগুলোকে নিলাম বা ধ্বংসের মাধ্যমে বিক্রি করা হবে, যাতে অবৈধ পণ্যের পুনরায় বাজারে প্রবেশ রোধ করা যায়।
অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে যে, জব্দকৃত পণ্যের বিশ্লেষণ ও পরীক্ষার জন্য ফরেনসিক দলকে পাঠানো হয়েছে, যাতে পণ্যের উৎপত্তি ও গুণগত মান নির্ধারণ করা যায়। এই তথ্যের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক শুল্ক সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে ভবিষ্যতে অনুরূপ অপরাধ রোধে কড়া নজরদারি ব্যবস্থা গৃহীত হবে।
প্রতিবেদন অনুসারে, জব্দকৃত সিগারেটের বেশিরভাগই ইউরোপীয় ও মধ্যপ্রাচ্যের ব্র্যান্ড, যা দেশের অভ্যন্তরে উচ্চমূল্য পণ্য হিসেবে বিক্রি হতে পারে। মদের ক্ষেত্রে রাশিয়ান ভদকা ও অন্যান্য দেশের হুইস্কি প্রধানত লক্ষ্যবস্তু ছিল, যা শুল্ক ফাঁকির মাধ্যমে অবৈধভাবে বিক্রি হয়ে দেশের আর্থিক ক্ষতি বাড়িয়ে তুলতে পারে।
শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলেছেন যে, ভবিষ্যতে এধরনের শুল্ক ফাঁকি রোধে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও কাস্টমস চেকপয়েন্টে অতিরিক্ত স্ক্যানার ও রেডার স্থাপন করা হবে। এছাড়া, যাত্রীদের লাগেজে সন্দেহজনক প্যাকেজিং চিহ্নিত হলে তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত শুরু করা হবে।
অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এখনো কোনো গ্রেফতার করা হয়নি, তবে তদন্ত দল সক্রিয়ভাবে তাদের সনাক্তকরণে কাজ করছে। সংশ্লিষ্ট ফ্লাইটের যাত্রী তালিকা ও পাসপোর্ট তথ্য শুল্ক আদালতে উপস্থাপন করা হবে, যাতে আইনি প্রক্রিয়া দ্রুততর হয়।
শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর ভবিষ্যতে এধরনের শুল্ক ফাঁকি প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়াতে পরিকল্পনা করছে। বিশেষ করে, উড়োজাহাজে লোডেড পণ্যের রিয়েল-টাইম ট্র্যাকিং সিস্টেম ও গন্তব্য দেশের শুল্ক সংস্থার সঙ্গে তথ্য শেয়ারিংকে বাধ্যতামূলক করা হবে।
এই জব্দকৃত পণ্যের মাধ্যমে শুল্ক ফাঁকি ও অবৈধ বাণিজ্যের ঝুঁকি আবারও স্পষ্ট হয়েছে। কর্তৃপক্ষের সতর্কবার্তা অনুসরণ করে, যেকোনো ধরনের শুল্ক ফাঁকি কার্যক্রমে জড়িত হলে কঠোর শাস্তি আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে, যা দেশের আর্থিক স্বার্থ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



