বরিশাল নগরীর পরিত্যক্ত আওয়ামী লীগ জেলা ও মহানগর কার্যালয়ের সামনে মঙ্গলবার ভোরে জাতীয় পতাকা ও ব্যানার টানা দেখা যায়। ঘটনাটি শহরের পাঁচতলা এ্যানেক্স ভবনের নিচতলার একটি ঘরে ঘটেছে, যেখানে ঐতিহাসিকভাবে দলীয় অফিস হিসেবে ব্যবহার করা হতো।
সিটি কর্পোরেশনের মালিকানাধীন এ্যানেক্স ভবনের এই ঘরটি ৫ আগস্টের চব্বিশের অভ্যুত্থানের সময় বিক্ষুব্ধ ছাত্র জনতা আওয়ামী লীগের কার্যালয়সহ আগুনে ধ্বংস হয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়ে গিয়েছিল। তবুও, স্থানীয় কিছু ভ্রাম্যমাণ খাবার বিক্রির ভ্যানের পাশে টানা জাতীয় পতাকা এখনও দৃশ্যমান।
ব্যানারটি কিছুক্ষণ পর খুলে ফেলা হলেও, টানা জাতীয় পতাকার নিচে একটি ভ্যানের উপস্থিতি নজর কাড়েছে। ব্যানারে লেখা ছিল, “শেখ হাসিনা আসবে বাংলাদেশ হাসবে”—একটি ছাত্রলীগ নেতার সৌজন্যে টানা বলে জানা যায়।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও ব্যানার টানার ঘটনা বাড়ছে। বরিশালেও একই ধরণের কাজের প্রতিবেদন পাওয়া যায়, যেখানে কে ও কখন টানেছে তা স্পষ্ট নয়।
সিটি কর্পোরেশনের নিরাপত্তা প্রহরীর ইনচার্জ মো. ডালিম জানান, “ওখানে নিরাপত্তা প্রহরী থাকে। তাদের কাছে জিজ্ঞেস করে বলতে পারবো, কখন ও কারা টানিয়েছে।” তবে এ্যানেক্স ভবনের দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তা কর্মীরা ঘটনাটির সুনির্দিষ্ট সময় ও দায়িত্বশীল ব্যক্তির সম্পর্কে কোনো তথ্য দিতে পারেননি।
একজন যুবলীগ নেতা, নাম প্রকাশ না করার শর্তে, বলেন, “একটি গণতান্ত্রিক দেশে সকলের রাজনীতি করার অধিকার রয়েছে। আওয়ামী লীগ একটি গণতান্ত্রিক দল। রাজপথে থেকে আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে।” তিনি এই মন্তব্যে রাজনৈতিক অধিকার ও দলীয় নীতির ওপর জোর দেন।
স্থানীয় প্রশাসন এখন পর্যন্ত টানা জাতীয় পতাকা ও ব্যানার সরানোর কোনো নির্দেশনা দেয়নি, ফলে ভবনের অবস্থা ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের কাজের পুনরাবৃত্তি রোধে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা এখনও অনিশ্চিত।
বরিশাল সিটি কর্পোরেশন ও সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থার কাছ থেকে স্পষ্ট ব্যাখ্যা না পাওয়ায়, স্থানীয় বাসিন্দা ও দলীয় কর্মীরা ঘটনাটির পেছনের কারণ ও দায়িত্বশীলদের সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।
এই ঘটনা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে চলমান উত্তেজনা ও দলীয় কার্যক্রমের সীমাবদ্ধতা নিয়ে নতুন আলোচনার সূচনা করতে পারে। বিশেষ করে, নির্বাচনের পর নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে জাতীয় প্রতীক ব্যবহার করা কি আইনগতভাবে অনুমোদিত, তা নিয়ে বিশ্লেষণ বাড়বে।
অধিক তথ্য পাওয়া গেলে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে আপডেট প্রদান করা হবে।



