নরেন্দ্র মোদি, ভারতের প্রধানমন্ত্রী, ১৬ ফেব্রুয়ারি তারিখের একটি চিঠির মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে এবং তার পরিবারের সদস্যদেরকে ভারতের সরকারী সফরে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। চিঠিটি লোকসভা স্পিকার ওম বিরলা, যিনি আজ জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় শপথ অনুষ্ঠান শেষে তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন, হস্তান্তর করেন।
চিঠিতে নরেন্দ্র মোদি স্পষ্টভাবে তারেক রহমান, তার স্ত্রী ডঃ জুবাইদা রহমান এবং কন্যা জাইমাকে একসাথে ভারত সফরের জন্য সময় নির্ধারণের অনুরোধ করেন। তিনি সফরের সময় উষ্ণ স্বাগত এবং উভয় দেশের নেতৃত্বের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ মিথস্ক্রিয়া নিশ্চিত করার কথা উল্লেখ করেছেন।
নরেন্দ্র মোদি চিঠিতে বিএনপি-র পার্লামেন্টারি নির্বাচনে বিশাল জয় এবং তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী পদগ্রহণের জন্য আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে এই বিজয় বাংলাদেশের জনগণের নেতৃত্বের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতিফলন।
নরেন্দ্র মোদি তারেক রহমানকে নতুন দায়িত্ব গ্রহণে সর্বোচ্চ সফলতা কামনা করেছেন এবং দেশের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির পথে অগ্রসর হওয়ার জন্য তার দৃষ্টিভঙ্গি প্রশংসা করেছেন। তিনি বাংলাদেশের জনগণের ম্যান্ডেটকে দেশের উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
দুই দেশের দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও ভৌগোলিক সংযোগকে ভিত্তি করে নরেন্দ্র মোদি উভয় দেশের বন্ধুত্বকে গভীর ও টেকসই হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলছেন যে ভারত ও বাংলাদেশ পারস্পরিক সমঝোতা ও সহযোগিতার মাধ্যমে অঞ্চলের শান্তি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে পারে।
নরেন্দ্র মোদি উল্লেখ করেছেন যে উভয় দেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকারের সমন্বয় ভবিষ্যৎ সহযোগিতার মূল নীতি হবে। তিনি দু’দেশের অর্থনৈতিক, অবকাঠামোগত ও সামাজিক লক্ষ্যগুলোর সাদৃশ্যকে ভবিষ্যৎ পারস্পরিক কাজের ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরেছেন।
চিঠিতে উল্লিখিত সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলোতে অবকাঠামো সংযোগ, বাণিজ্য, প্রযুক্তি, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, জ্বালানি, স্বাস্থ্যসেবা এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় অন্তর্ভুক্ত। নরেন্দ্র মোদি এই সব ক্ষেত্রেই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
দুই দ্রুতবর্ধনশীল অর্থনীতির মধ্যে পারস্পরিক সুবিধা ও সমন্বয়কে কেন্দ্র করে নরেন্দ্র মোদি ভবিষ্যৎ সহযোগিতার দিকনির্দেশনা নির্ধারণের গুরুত্ব উল্লেখ করেছেন। তিনি বলছেন যে উভয় দেশের নেতৃত্বের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় অঞ্চলীয় নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি বাড়াবে।
বিপক্ষের কিছু বিশ্লেষক এই আমন্ত্রণকে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ককে নতুন স্তরে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন। তারা উল্লেখ করছেন যে উচ্চপর্যায়ের সফর পারস্পরিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।
সফরের নির্দিষ্ট তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি, তবে নরেন্দ্র মোদি উভয় পক্ষকে সময়সূচি সমন্বয়ের জন্য দ্রুত কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি দু’দেশের সরকারকে এই সফরকে বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণে উৎসাহিত করেছেন।
এই আমন্ত্রণের মাধ্যমে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে, যেখানে কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন আরও দৃঢ় হবে। উভয় দেশের নাগরিকদের জন্য এই পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়া দীর্ঘমেয়াদে উপকারী প্রমাণিত হবে।



