ডা. শফিকুর রহমান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির, ১৭ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার নির্বাচনের পরবর্তী শপথ গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে সরকারের নীতি সম্পর্কে স্পষ্ট অবস্থান প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, দলটি শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে প্রস্তুত ছিল, তবে জুলাই ১৯৭১ শহীদদের প্রতি অসম্মানজনক আচরণ মানসিকভাবে সহ্য করতে পারছে না।
২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের পটভূমি ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, এই নির্বাচন মূলত ২৪ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পরই অনুষ্ঠিত হয়েছে। পূর্বে কোনো নির্বাচন পরিকল্পনা ছিল না, তবে ঐ উত্থান দেশের রাজনৈতিক কাঠামোকে পুনর্গঠন করেছে।
ডা. শফিকুর রহমানের মতে, শপথের জন্য সরকারকে একটি চিঠি প্রদান করা হয়েছিল, যেখানে দুই ধরণের শপথের উল্লেখ ছিল: সংসদ সদস্যের শপথ এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের গণভোটের শপথ। তিনি জোর দিয়ে বলেন, উভয় শপথই সমান গুরুত্বের এবং দলটি উভয়ই গ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিল।
শপথ গ্রহণের দিন, রুমে প্রবেশ করার পর সচিব জানিয়ে দেন যে সরকার কেবল সংসদ সদস্যের শপথই নিয়েছে, সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ বাদ দিয়েছে। দলটি এই তথ্য জানার পর দুটোই শপথ নিতে চেয়েছিল, তবে শেষ পর্যন্ত কেবল একটিই গ্রহণ করা হয়েছে।
ডা. শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, জুলাই ১৯৭১-এ শহীদদের ত্যাগকে জাতীয় আকাঙ্ক্ষা হিসেবে গণ্য করা হয় এবং গণভোটের ফলাফলকে দায়িত্বের অংশ হিসেবে স্বীকার করা উচিত। তিনি বলেন, জামায়াতের দৃষ্টিতে সরকার এই দুইটি গুরুত্বপূর্ণ দিককে উপেক্ষা করেছে, যা জনমতের বিরোধী অবস্থান হিসেবে দেখা যায়।
সরকারের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে তিনি তীব্র সমালোচনা করেন, বলেন যে বাংলাদেশ সরকার ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’-এর শপথ না নিয়ে জুলাইকে অবহেলা করেছে। তিনি যুক্তি দেন, যদি সরকার জুলাইকে সম্মান করে এবং সংবিধান সংস্কারকে গ্রহণ করে, তবে শপথ গ্রহণের প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনা সম্ভব হতো।
ডা. শফিকুর রহমান আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শপথ গ্রহণের সময় গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সমর্থন প্রকাশ করেছেন। এই বিষয়টি সরকারকে আরও দায়বদ্ধ করে তুলেছে, কারণ শপথের বৈধতা এবং জুলাইয়ের মর্যাদা উভয়ই একই সঙ্গে বিবেচনা করা দরকার।
শপথের বৈধতা ও জুলাই বিপ্লবের মর্যাদা সম্পর্কে তিনি বলেন, শপথ গ্রহণের ব্যক্তি যাকে বেছে নেয়া হোক না কেন, তা জনগণের সম্মতি ও স্বীকৃতি পেতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, জুলাইকে সম্মান না করা পর্যন্ত ২০২৬ সালের পার্লামেন্টের আসনে বসা সম্ভব নয়।
ডা. শফিকুর রহমানের মতে, দলটির মূল প্রস্তুতি ছিল সরকারী মন্ত্রীদের শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়া, তবে জুলাই শহীদদের প্রতি অসম্মানজনক আচরণ মানসিকভাবে সহ্য করা সম্ভব হয়নি। তিনি স্বীকার করেন, শত ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও শপথে অংশ নিতে পারেননি, যা গভীর দুঃখের কারণ।
এই সিদ্ধান্তের পেছনে দলটি জুলাই শহীদদের প্রতি অশ্রদ্ধা না করার নৈতিক দায়িত্বকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। তিনি বলেন, শপথে না গিয়ে দলটি শহীদদের স্মৃতিকে রক্ষা করতে চেয়েছে, যা তাদের রাজনৈতিক নীতি ও নৈতিকতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
ডা. শফিকুর রহমান ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রভাবের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, যদি সরকার জুলাইকে স্বীকৃতি না দেয়, তবে জামায়াতের পার্লামেন্টে অংশগ্রহণ সীমিত থাকবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকারী দল যদি জুলাইকে সম্মান করে এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণ করে, তবে রাজনৈতিক উত্তেজনা কমে যাবে।
এই বিবৃতি দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে, যেখানে সরকার এবং বিরোধী দলগুলোর মধ্যে শপথের বৈধতা ও জুলাইয়ের মর্যাদা নিয়ে মতবিরোধ স্পষ্ট। ডা. শফিকুর রহমানের মন্তব্যের পরবর্তী পদক্ষেপগুলো দেশের শাসনব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও জনমতের প্রতিফলনকে প্রভাবিত করবে।



