ভারত সরকার আগামী দুই বছরের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) অবকাঠামোতে দুইশো বিলিয়ন ডলারের বেশি বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করার পরিকল্পনা জানিয়েছে। এই লক্ষ্যটি দেশের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের ঘোষণার ভিত্তিতে গৃহীত হয়েছে।
বৈষ্ণব এই ঘোষণা দিলেন নিউ দিল্লিতে অনুষ্ঠিত পাঁচ দিনের AI ইম্প্যাক্ট সামিটে, যেখানে সরকারী সমর্থনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন। সামিটে ওপেনএআই, গুগল, অ্যানথ্রপিক এবং অন্যান্য গ্লোবাল টেক ফার্মের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য সরকার ট্যাক্স রিলিফ, রাষ্ট্র-সমর্থিত ভেঞ্চার ক্যাপিটাল এবং নীতি সমর্থনসহ একাধিক প্রণোদনা প্যাকেজ প্রস্তাব করেছে। এসব উদ্যোগের লক্ষ্য হল AI মান শৃঙ্খলাকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশে আরও ঘনিষ্ঠভাবে সংযুক্ত করা।
এ পর্যন্ত আমাজন, গুগল এবং মাইক্রোসফটসহ যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান টেক জায়ান্ট ইতিমধ্যে প্রায় ৭০ বিলিয়ন ডলার AI ও ক্লাউড অবকাঠামো সম্প্রসারণে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এই প্রাথমিক অর্থায়ন ভারতের জন্য একটি ভিত্তি তৈরি করেছে, যা স্কেল, ব্যয়সাশ্রয় এবং নীতিগত সুবিধার সমন্বয়ে পরবর্তী বৃহৎ বিনিয়োগের আকর্ষণ বাড়াবে।
বড় অংশের ২০০ বিলিয়ন ডলার AI অবকাঠামো—যেমন ডেটা সেন্টার, চিপ এবং সংশ্লিষ্ট সিস্টেম—এ যাবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এই পরিমাণের মধ্যে ইতিমধ্যে গ্লোবাল টেক কোম্পানিগুলোর প্রতিশ্রুত ৭০ বিলিয়ন ডলার অন্তর্ভুক্ত।
অধিকন্তু, সরকার অতিরিক্ত ১৭ বিলিয়ন ডলারকে ডিপ-টেক এবং AI অ্যাপ্লিকেশন ক্ষেত্রে বিনিয়োগের জন্য নির্ধারণ করেছে। এতে মেশিন লার্নিং, রোবোটিক্স এবং স্বয়ংক্রিয় উৎপাদন প্রযুক্তি সহ বিভিন্ন উচ্চ-প্রযুক্তি প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত হবে।
নিয়মকানুনের দিক থেকে, সরকার রপ্তানি-ভিত্তিক ক্লাউড সেবার জন্য দীর্ঘমেয়াদী কর ছাড়ের ব্যবস্থা করেছে। এই নীতি বিদেশি কোম্পানিগুলোকে ভারতের বাজারে দীর্ঘস্থায়ী উপস্থিতি গড়ে তুলতে উৎসাহিত করবে।
অতিরিক্তভাবে, সরকার ১০০ বিলিয়ন টাকা (প্রায় ১.১ বিলিয়ন ডলার) মূলধন সমর্থিত একটি ভেঞ্চার প্রোগ্রাম চালু করেছে, যা AI এবং উন্নত উৎপাদনসহ উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ক্ষেত্রের স্টার্টআপকে লক্ষ্য করবে। এই তহবিল স্টার্টআপের গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রমকে ত্বরান্বিত করবে।
এই মাসের শুরুতে সরকার ডিপ-টেক কোম্পানিগুলোকে স্টার্টআপ হিসেবে স্বীকৃতি পেতে ২০ বছর পর্যন্ত সময়সীমা বাড়িয়ে দিয়েছে। এই পদক্ষেপটি দীর্ঘমেয়াদী উদ্ভাবনী প্রকল্পকে সমর্থন করে এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করে।
সামগ্রিকভাবে, এই নীতি ও আর্থিক প্রণোদনা ভারতের AI কম্পিউটিং হাব হিসেবে অবস্থানকে শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে। স্কেল, ব্যয়সাশ্রয় এবং নীতিগত সুবিধার সমন্বয় আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, এই বৃহৎ বিনিয়োগের ফলে দেশের ডেটা সেন্টার নেটওয়ার্ক, চিপ উৎপাদন ক্ষমতা এবং AI-চালিত সেবা দ্রুত প্রসারিত হবে। ফলে স্থানীয় শিল্প, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন খাতে প্রযুক্তিগত রূপান্তর ত্বরান্বিত হবে।
অবশেষে, সরকার এই উদ্যোগকে দেশের ডিজিটাল স্বায়ত্তশাসন ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে উপস্থাপন করেছে। AI অবকাঠামোতে বিশাল মূলধন প্রবাহ নিশ্চিত করে, ভারত তার অর্থনৈতিক বৃদ্ধির নতুন চালিকাশক্তি গড়ে তুলতে চায়।



