ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ থেকে নতুনভাবে নির্বাচিত রুমিন ফারহানা, আজ সংসদে শপথ গ্রহণের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে উল্লেখ করেছেন যে বর্তমান সংসদে দেশের প্রায় ত্রিশ শতাংশ নাগরিকের কোনো প্রতিনিধিত্ব নেই। তিনি বলেন, পূর্বের তিনটি নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ না করার ফলে ঐ সংসদগুলোকে প্রায়ই একতরফা বলা হয়।
এখন আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি, তাই তিনি যুক্তি দেন যে এই ঘাটতি আরও স্পষ্ট হয়েছে। রুমিন ফারহানা উল্লেখ করেন, “এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ না থাকায়, কমপক্ষে ত্রিশ শতাংশ মানুষ সংসদে অপ্রতিনিধিত্বে রয়েছে।” তিনি বলেন, এই বাস্তবতা বিবেচনা না করে সংসদে কোনো বড় পরিবর্তন দেখা কঠিন।
তিনি আরও যোগ করেন, “আমাদের সংসদে কাজ করতে হবে, এই বাস্তবতাকে মাথায় রেখে।” এভাবে তিনি নতুন সংসদে কাজ করার সময় অপ্রতিনিধিত্বের সমস্যাকে স্বীকার করে তা মোকাবিলার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন।
এদিকে তিনি বিজয়ী দলকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, যদি আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ পেত এবং জনগণ তাদেরকে প্রত্যাখ্যান করতে চায়, তবে ভোটের মাধ্যমে তা প্রকাশ পেত। তিনি ভোটের প্রতি জনগণের আস্থা উল্লেখ করে বলেন, “জনগণ সর্বদা তাদের ভোটের মাধ্যমে সঠিক উত্তর দেয়।”
নিজের জয়কে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে তিনি বলেন, তার নিজের জয়ই এই বিশ্বাসের প্রমাণ। তিনি উল্লেখ করেন, “আমি যখন জিতেছি, তখনই ভোটের শক্তি স্পষ্ট হয়েছে।” এভাবে তিনি ভোটের গুরুত্বকে পুনরায় জোর দেন।
বিএনপির “বাড়ির কন্যা” হিসেবে ফিরে আসার প্রশ্নে তিনি তাত্ক্ষণিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেন। রুমিন ফারহানা বলেন, “আমি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কন্যা, আমি সেখানে ছিলাম, এখনও আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব।” তিনি নিজের স্থানীয় পরিচয়কে জোর দিয়ে বলেন, তার রাজনৈতিক পরিচয়কে ভৌগোলিক ভিত্তিতে নির্ধারণ করা উচিত।
তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন, “আমি এক সময় একটি দলের সমর্থক ছিলাম এবং সেই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দেশের ও জনগণের কথা বলতাম। পরে যখন আমাদের মতামত ভিন্ন হয়ে যায়, তখন আমি পদত্যাগ করেছি।” এভাবে তিনি রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তিগত মতবিরোধের মধ্যে পার্থক্য তুলে ধরেছেন।
রুমিন ফারহানা এই কথায় জোর দেন যে তাকে শুধুমাত্র “বিএনপি ব্যক্তিত্ব” হিসেবে লেবেল করা উচিত নয়। তিনি বলেন, “আমার কাজ ছিল দেশের সেবা, দল নয়।” এভাবে তিনি নিজের রাজনৈতিক পরিচয়কে ব্যক্তিগত দায়িত্বের সঙ্গে যুক্ত করেছেন।
বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন যে রুমিনের এই মন্তব্য সংসদে অপ্রতিনিধিত্বের প্রশ্নকে নতুন করে উত্থাপন করবে এবং ভবিষ্যতে নির্বাচনী সংস্কার বা বহুদলীয় অংশগ্রহণের ওপর আলোচনা বাড়তে পারে। তার বক্তব্যের ভিত্তিতে পার্টিগুলোকে ভোটারদের বিস্তৃত প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে কৌশল পুনর্বিবেচনা করতে হতে পারে।
সংসদে কাজের প্রথম দিন থেকেই রুমিন ফারহানা এই বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “এই বাস্তবতাকে মাথায় রেখে আমরা নীতি নির্ধারণে এগিয়ে যাব।” এভাবে তিনি নতুন সংসদে তার দায়িত্বের প্রতি দৃঢ়সংকল্প প্রকাশ করেছেন।



