21 C
Dhaka
Tuesday, February 17, 2026
Google search engine
Homeবিনোদনরাজপাল যাদবকে বেইল প্রদান, ২০১০ চলচ্চিত্র চুক্তি মামলার জটিলতা উন্মোচিত

রাজপাল যাদবকে বেইল প্রদান, ২০১০ চলচ্চিত্র চুক্তি মামলার জটিলতা উন্মোচিত

মুম্বাই আদালত সোমবার রাজপাল যাদবের বেইল অনুমোদন করেছে। অভিনেতা ২০১০ সালে পরিচালিত একটি চলচ্চিত্র প্রকল্পের আর্থিক বিরোধের কারণে জড়িত ছিলেন, যার ফলে দীর্ঘকালীন আইনি প্রক্রিয়া চলছিল। বেইল পাওয়ার পর তিনি এবং তার আইনজীবী আদালতের সামনে উপস্থিত হয়ে মামলার মূল বিষয়গুলো ব্যাখ্যা করেন।

এই মামলার শিকড় দশ বছরেরও বেশি আগে, যখন যাদবের প্রযোজনা সংস্থা একটি চলচ্চিত্রের জন্য বিনিয়োগ চুক্তি স্বাক্ষর করে। সময়ের সাথে সাথে কয়েকটি অতিরিক্ত চুক্তি, সম্মতি আদেশ এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়, যা বিষয়টি একাধিক স্তরে জটিল করে তুলেছে।

আইনজীবী ভাস্কর উপাধ্যায়ের মতে, এই চুক্তিগুলো একে অপরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে একটি স্তরযুক্ত কাঠামো গঠন করেছে, যার ফলে মামলাটি সহজে সমাধান করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, বহুবার নথিপত্র পরিবর্তন ও পুনরায় স্বাক্ষরের ফলে বিষয়টি আরও জটিল হয়ে দাঁড়িয়েছে।

যাদবের নিজের দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি আইনগত জটিলতা সম্পর্কে তেমন জানেন না; তিনি একজন অভিনেতা ও পরিবারিক মানুষ, তাই তিনি আদালতে যখনই প্রশ্নের মুখোমুখি হন, সরলভাবে বলেন যে, তিনি যা ঋণী তা পরিশোধ করবেন। এই সরলতা তার আর্থিক দায়বদ্ধতার স্বীকৃতি প্রকাশ করে।

উপাধ্যায় আরও বলেন, যাদবের এই প্রকল্পে ব্যক্তিগতভাবে অনেক কিছু ঝুঁকিতে ছিল, ফলে তিনি কোনোভাবে সমস্যার থেকে দূরে সরে যাননি। তিনি দাবি করেন যে, তার কোনো ইচ্ছা নেই মামলাকে এড়িয়ে চলার, বরং তিনি যথাসাধ্য চেষ্টা করছেন দায়িত্ব পূরণে।

অভিযোগকারী পক্ষের উদ্দেশ্য সম্পর্কে উপাধ্যায়ের মন্তব্যে স্পষ্ট হয় যে, তারা শুধুমাত্র আর্থিক ক্ষতিপূরণ চাইছে না, বরং যাদবকে জেলে পাঠানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। তিনি বলেন, যদি শুধুই টাকা সংগ্রহের কথা হতো, তবে তারা জামানত গ্রহণ করত।

অভিযোগকারী পক্ষের কথায় উল্লেখ আছে যে, তারা “আমরা এই বিষয়টি আর চাই না, শুধু তাকে জেলে পাঠান” এমন দাবি করে। এই বিবৃতি থেকে স্পষ্ট হয় যে, মামলাটিতে শাস্তিমূলক দিকের ইচ্ছা বেশি।

যাদবের সম্পত্তি সংক্রান্ত তথ্যও প্রকাশ পায়; তিনি আদালতে তার মূল সম্পত্তির নথি উপস্থাপন করেন, যার মূল্য ৪০ কোটি টাকার বেশি বলে অনুমান করা হয়। এই সম্পত্তি তিনি নিরাপত্তা হিসেবে প্রদান করেছেন, যদিও শেষ পর্যন্ত তা ব্যবহার করা হয়নি।

আইনজীবী জানান, মোট দাবির একটি অংশ ইতিমধ্যে সংগ্রহ করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, ২.৫ কোটি টাকা ইতিমধ্যে ব্যবস্থা করা হয়েছে, যা মোট দাবির অর্ধেকের কাছাকাছি। এই অর্থ যাদবের আর্থিক সক্ষমতার মধ্যে থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে।

মোট দাবির পরিমাণ ৫ কোটি টাকা, যা যাদব কখনোই অস্বীকার করেননি। তিনি কেবলমাত্র এই অর্থ পরিশোধের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নিতে চান, এবং আদালতের নির্দেশ অনুসারে কাজ করছেন। তার মতে, এই পরিমাণই প্রকৃত দায়, এবং তিনি তা মেনে চলতে ইচ্ছুক।

বেইল শর্তে আদালত যাদবকে নির্দিষ্ট শর্তাবলী মেনে চলতে আদেশ দিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে সম্পত্তি জামানত হিসেবে রাখা এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অর্থ প্রদান করা। এই শর্তগুলো মেনে চললে তিনি মুক্তি পাবেন এবং মামলার পরবর্তী ধাপগুলো চলবে।

মামলাটি এখনো সম্পূর্ণ সমাধান হয়নি, তবে বেইল প্রদান যাদবের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য। আইনজীবী উপাধ্যায় আশাবাদী যে, বাকি অর্থ সংগ্রহের মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত সব বাধা দূর করা সম্ভব হবে এবং মামলাটি সমাপ্তি পাবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Bollywood Hungama
বিনোদন প্রতিবেদক
বিনোদন প্রতিবেদক
AI-powered বিনোদন content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments