ময়মনসিংহের দুইজন সংসদ সদস্য, ইঞ্জিনিয়ার এম ইকবাল হোসেইন এবং ইয়াসের খান চৌধুরী, মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নবগঠিত সরকারের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। ইকবাল হোসেইন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে এবং ইয়াসের খান চৌধুরী তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিযুক্ত হয়েছেন। শপথ গ্রহণের সময় নতুন সরকারের গঠন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দুজনই প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্যের পদ থেকে সরাসরি মন্ত্রিপরিষদে প্রবেশ করছেন।
ইঞ্জিনিয়ার এম ইকবাল হোসেইন ময়মনসিংহ-৩ (গৌরীপুর) আসন থেকে নির্বাচিত এবং তার বাবা ঈসমাইল হোসেন তালুকদার মুসলিম লীগের একজন প্রাক্তন সংসদ সদস্য ছিলেন, যিনি ১৯৭৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসনে জয়ী হন। ইকবাল হোসেইন গৌরীপুর উপজেলায় স্থানীয়ভাবে স্বচ্ছ ও সৎ ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত, এবং তার নতুন দায়িত্ব নিয়ে স্থানীয় দলীয় কর্মী ও সমর্থকরা উল্লাসে মেতে উঠেছেন।
গৌরীপুরের বিএনপি সক্রিয় সদস্য হাবিবুল ইসলাম খান, যিনি এলাকায় শক্তিশালী সমর্থন গড়ে তুলেছেন, তিনি ইকবাল হোসেইনের প্রতিমন্ত্রী হওয়ায় গর্ব প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। তিনি গৌরীপুরের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণের জন্য একসাথে কাজ করার আহ্বান জানান।
ইয়াসের খান চৌধুরী ময়মনসিংহ-৯ (নান্দাইল) আসন থেকে নির্বাচিত এবং তার পিতামাতা রাজনৈতিক পটভূমি সমৃদ্ধ। তার বাবা মো. আনোয়ারুল হোসেন খান চৌধুরী ১৯৯১ সালে নান্দাইল আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন, আর চাচা খুররম খান চৌধুরী চারবার সংসদ সদস্যের মেয়াদ পালন করেছেন। ইয়াসের খান চৌধুরী তথ্যপ্রযুক্তি বিজ্ঞানী এবং দীর্ঘ সময় লন্ডনের বিবিসি টেলিভিশন নেটওয়ার্কের আইটি বিভাগে কাজ করেছেন, যা তাকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে উপযুক্ত করে তুলেছে।
নান্দাইলের বিএনপি সদস্য সচিব এনামুল কাদির ইয়াসের খানকে সম্মানজনক পরিবার থেকে আসা বলে উল্লেখ করে, দল তার নতুন দায়িত্বকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করেছে এবং নান্দাইলের উন্নয়নের জন্য তার নেতৃত্বে আশাবাদী। তিনি নতুন মন্ত্রীর পদে নিযুক্তি নিয়ে স্থানীয় জনগণের মধ্যে ইতিবাচক প্রত্যাশা গড়ে উঠেছে বলে জানিয়েছেন।
দুজনই শপথ গ্রহণের পর মিষ্টি বিতরণ করে নতুন সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং জনগণের সঙ্গে সরাসরি সংযোগের মাধ্যমে তাদের কাজের স্বচ্ছতা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দেন। শপথের সময় উপস্থিত উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা নতুন মন্ত্রিদের দায়িত্বের গুরুত্ব ও দেশের উন্নয়নে তাদের ভূমিকা তুলে ধরেছেন।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ইকবাল হোসেইনকে দেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য নীতি নির্ধারণ, ত্রাণ কার্যক্রমের ত্বরান্বিত বাস্তবায়ন এবং দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় অবকাঠামো উন্নয়নের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ইয়াসের খানকে ডিজিটাল রূপান্তর, মিডিয়া নীতি সংস্কার এবং তথ্যপ্রযুক্তি সেক্টরের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
দুইজন মন্ত্রীর রাজনৈতিক পটভূমি ও পেশাগত অভিজ্ঞতা বিবেচনা করে, বিশ্লেষকরা বলছেন যে এই নিযুক্তি নতুন সরকারের তরুণ ও দক্ষ নেতৃত্বকে জোরদার করবে এবং ময়মনসিংহ অঞ্চলের উন্নয়নে নতুন দৃষ্টিকোণ আনবে। তবে, বিরোধী দলও তাদের দায়িত্বের প্রতি নজর রাখবে এবং সরকারকে জবাবদিহি করতে বলবে।
ময়মনসিংহের দুই নতুন প্রতিমন্ত্রী শপথ গ্রহণের মাধ্যমে স্থানীয় রাজনৈতিক গোষ্ঠীর মধ্যে নতুন গতিশীলতা সৃষ্টি হয়েছে এবং ভবিষ্যতে তাদের কাজের ফলাফল দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে কীভাবে প্রভাব ফেলবে তা নজরে থাকবে। সরকার ও বিরোধী উভয় পক্ষই এই নিযুক্তিকে দেশের সেবা ও উন্নয়নের লক্ষ্যে ব্যবহার করার প্রত্যাশা প্রকাশ করেছে।
এই শপথ অনুষ্ঠানটি নতুন সরকারের গঠন প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এবং দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন সংযোজনের সূচনা নির্দেশ করে। ভবিষ্যতে দুজন মন্ত্রীর কর্মদক্ষতা ও নীতি বাস্তবায়ন দেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে কী পরিবর্তন আনবে তা সময়ই বলবে।



