24 C
Dhaka
Tuesday, February 17, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিসাহিদুল ইসলাম: খালিলুর রহমানের মন্ত্রী নিযুক্তি অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা প্রশ্নের মুখে

সাহিদুল ইসলাম: খালিলুর রহমানের মন্ত্রী নিযুক্তি অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা প্রশ্নের মুখে

জাতীয় নাগরিক পার্টির সমাবেত ও সংসদ সদস্য সাহিদুল ইসলাম আজ সংসদে শপথ গ্রহণের পর ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে খালিলুর রহমানকে মন্ত্রিপদে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্তের ওপর তীব্র সমালোচনা প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে খালিলুরের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা না হলে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

সাহিদুল ইসলাম বলেন, “যদি খালিলুর রহমান বিএনপি সরকারের মন্ত্রী হন, তবে তার অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে কাজ করেছেন কিনা তা স্পষ্ট করা প্রয়োজন।” এই মন্তব্যটি তিনি সাংবাদিকদের সামনে শপথ গ্রহণের পরই প্রদান করেন।

তিনি আরও যোগ করেন, “নির্বাচনের পূর্বে ছাত্র উপদেষ্টারা নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে পদত্যাগ করেছিলেন, কারণ তাদের নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ উঠেছিল।” এই বক্তব্যে ছাত্র উপদেষ্টাদের পদত্যাগের পেছনের কারণ ও তার রাজনৈতিক প্রভাবকে তুলে ধরা হয়েছে।

খালিলুরের মন্ত্রী নিযুক্তি সম্পর্কে বিরোধী দলগুলো ইতিমধ্যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা যুক্তি দেয়, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে কোনো ব্যক্তির রাজনৈতিক স্বার্থের সঙ্গে যুক্ত হওয়া নির্বাচনের ফলাফলকে প্রভাবিত করতে পারে এবং তা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মৌলিক নীতির লঙ্ঘন।

বিএনপি সরকারে খালিলুরের অন্তর্ভুক্তি নির্বাচনী প্রকৌশল, ফলাফল পরিবর্তন এবং সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার নতুন দিক তৈরি করেছে। বিরোধীরা দাবি করে, এই পদক্ষেপটি নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতার ওপর সন্দেহের বীজ বপন করবে।

বৈধতা ও স্বচ্ছতার দৃষ্টিকোণ থেকে, নির্বাচনী প্রকৌশল বলতে এমন কোনো প্রক্রিয়া বোঝায় যেখানে ভোটার তালিকা, ভোটার সনাক্তকরণ বা ভোটের গণনা প্রক্রিয়ায় অনিয়ম করা হয়। বিরোধীরা উল্লেখ করে, খালিলুরের অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে কোনো ভূমিকা থাকলে এমন অনিয়মের সম্ভাবনা বাড়তে পারে।

ফলাফল পরিবর্তনের অভিযোগও তীব্রভাবে উত্থাপিত হয়েছে। বিরোধীরা দাবি করে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নির্দিষ্ট ব্যক্তির রাজনৈতিক সংযোগ থাকলে ভোটের ফলাফলকে প্রভাবিত করা সহজ হয়ে যায়, যা গণতান্ত্রিক নীতির সরাসরি লঙ্ঘন।

সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত আলোচনায়ও এই বিষয়টি নতুন জটিলতা নিয়ে এসেছে। সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে সাহিদুল ইসলাম উল্লেখ করেন, যদি মন্ত্রী নিযুক্তির প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক স্বার্থের হস্তক্ষেপ থাকে, তবে সংস্কার প্রক্রিয়ার স্বতন্ত্রতা ও ন্যায়পরায়ণতা প্রশ্নের মুখে পড়বে।

সামাজিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা সতর্ক করেন, এ ধরনের বিতর্ক জনমতকে বিভক্ত করতে পারে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রতি জনগণের আস্থা হ্রাস পেতে পারে। জনগণের বিশ্বাস পুনরুদ্ধার না হলে, ভবিষ্যৎ নির্বাচনে ভোটার অংশগ্রহণের হার কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

অধিকন্তু, সংসদে এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদে এই বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের কাছ থেকে স্পষ্ট ব্যাখ্যা ও প্রমাণ চাওয়া হবে, যাতে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে কোনো অনৈতিক কাজের সূচনা না হয়।

সামগ্রিকভাবে, খালিলুরের মন্ত্রী নিযুক্তি এবং তার পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা নিয়ে উত্থাপিত প্রশ্নগুলো দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন উত্তেজনা যোগ করেছে। এই পরিস্থিতি কীভাবে সমাধান হবে এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা কীভাবে নিশ্চিত হবে, তা এখনই দেশের শীর্ষ অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments