ডা. শফিকুর রহমান, জামায়াত-এ-ইসলামি-র আমির এবং জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা, রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকারের কাছে সরাসরি আবেদন জানিয়েছেন। তিনি ১৭ ফেব্রুয়ারি গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এই আহ্বান প্রকাশ করেন। বিবৃতিতে তিনি রমজানের পবিত্রতা ও জনগণের মৌলিক চাহিদার সংযোগ তুলে ধরেছেন।
বিবৃতিতে ডা. শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, রমজানকালে দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকারকে বিশেষ মনোযোগ দিতে হবে। তিনি বলেন, মূল্যবৃদ্ধি যদি নিয়ন্ত্রিত না হয় তবে রমজানের আত্মিক ও সামাজিক উদ্দেশ্য ক্ষুণ্ন হবে। তাই তিনি সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানান।
অসদাচরণকারী ব্যবসায়ীদের গঠন করা সব ধরনের সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে স্বচ্ছ ও পরিকল্পিত বাজার গড়ে তোলার কথা তিনি জোর দিয়ে বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, ন্যায়সঙ্গত প্রতিযোগিতা এবং সুষ্ঠু সরবরাহ শৃঙ্খলা না থাকলে দরিদ্র জনগণের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পাবে। এ জন্য তিনি সরকারকে কঠোর আইন প্রয়োগের পরামর্শ দেন।
ডা. শফিকুর রহমান বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, চাল, ডাল, তেল, মাছ, গোশত, শাকসবজি, চিনি, খেজুর, ছোলা এবং মুড়ি সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের সামর্থ্যের মধ্যে রাখতে সরাসরি ভর্তুকি বা মূল্য নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। তিনি বলেন, রমজানকালে দরিদ্র ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলো যেন সিয়াম পালন করতে কোনো আর্থিক চাপ না অনুভব করে। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য সরকারকে লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা প্রদান করতে হবে। তিনি এ বিষয়ে ত্বরিত নীতি নির্ধারণের দাবি করেন।
ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে রমজানের মাহে রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের সওগাত নিয়ে তিনি বিশদভাবে ব্যাখ্যা করেন এবং শেষ দশকে লাইলাতুল কদরের গুরুত্ব উল্লেখ করেন। তিনি রমজানকে তাকওয়া অর্জন, সহনশীলতা চর্চা এবং পারস্পরিক সহমর্মিতার মাস হিসেবে তুলে ধরেন। এ সময় হোটেল-রেস্তোরাঁ বন্ধ রাখা এবং অশ্লীলতা ও বেহায়াপনা রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারকে আহ্বান জানান।
ডা. শফিকুর রহমান ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফলকে উল্লেখ করে বলেন, দীর্ঘ সাড়ে পনেরো বছরের জুলুম-নির্যাতনের পর দেশ এখন গণতন্ত্রের পথে অগ্রসর হয়েছে। তিনি এই নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে ফ্যাসিবাদমুক্ত পরিবেশের সূচনা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন। এ ধাপকে তিনি দেশের স্বশাসন ও স্বনির্ভরতার ভিত্তি হিসেবে দেখেন।
তবে তিনি সতর্ক করেন, স্বৈরাচারী গোষ্ঠী এবং তাদের সমর্থকরা দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি এই গোষ্ঠীকে “পতিত স্বৈরাচারী দোসর” বলে অভিহিত করে তাদের অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে একতাবদ্ধ প্রতিরোধের আহ্বান জানান। ডা. শফিকুর রহমানের মতে, জাতীয় ঐক্য ছাড়া এই ষড়যন্ত্রের মোকাবিলা সম্ভব নয়।
ডা. শফিকুর রহমান জোর দিয়ে বলেন, শান্তি, স্বস্তি ও মানবিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে না ওঠা পর্যন্ত ন্যায়সংগত আন্দোলন ও সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে। তিনি রমজানকে আত্মশুদ্ধি ও প্রশিক্ষণের মাস হিসেবে গ্রহণের পরামর্শ দেন, যাতে সমাজের নৈতিক কাঠামো পুনর্গঠন হয়। এভাবে তিনি রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনের ধারাকে শক্তিশালী করতে চান।
ডা. শফিকুর রহমানের এই আহ্বান রমজানকালে মূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং নৈতিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়ে সরকারকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করে। তার বক্তব্যের ফলে বাংলাদেশ সরকারের নীতি নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় দামের স্থিতিশীলতা, ভর্তুকি ব্যবস্থা এবং বাজারের স্বচ্ছতা নিয়ে আলোচনা বাড়তে পারে। পাশাপাশি, বিরোধীদলীয় নেতার এই প্রকাশনা সাধারণ জনগণের মধ্যে সরকার-বিরোধী সমর্থন জোগাড়ের সম্ভাবনা তৈরি করে। ভবিষ্যতে রমজান-পরবর্তী সময়ে মূল্য নীতি ও সামাজিক নীতি সংক্রান্ত রাজনৈতিক বিতর্কে এই ধরনের দাবিগুলি প্রভাবশালী ভূমিকা রাখতে পারে।



