বাংলাদেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শপথ গ্রহণের পর প্রথম কর্মদিবসে বুধবার সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে শোকস্মরণি ও ক্যাবিনেট বৈঠক পরিচালনা করবেন। শপথের পরপরই তিনি দেশের শীর্ষ শোকস্থান পরিদর্শন করে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। এরপর বিকালে তিনি সচিবালয়ে নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকের সভাপতিত্ব করবেন।
সকালের শোকস্মরণি জাতীয় স্মৃতিসৌধের প্রধান প্রবেশদ্বারে অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মরণে শোকের দণ্ডা তুলবেন। সমাবেশে সরকারী কর্মকর্তারা, পার্টি নেতারা এবং সাধারণ জনগণ উপস্থিত থাকবেন। শোকের মুহূর্তে জাতীয় সঙ্গীতের সঙ্গে সঙ্গে এক মুহূর্তের নীরবতা পালন করা হবে।
শোকস্মরণি শেষের পর, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরাসরি সচিবালয়ে গিয়ে নবগঠিত মন্ত্রিসভার প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকের সূচনা করবেন। এই বৈঠকে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা তাদের দায়িত্ব গ্রহণের প্রস্তুতি জানাবেন এবং সরকারী অগ্রাধিকারের বিষয়গুলো আলোচনা হবে। ক্যাবিনেটের আলোচনায় অর্থনীতি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও অবকাঠামো উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
ক্যাবিনেট বৈঠকের পাশাপাশি, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের শীর্ষ প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের (সচিব) সঙ্গে একটি সমন্বয় সভা করবেন। এই সভায় নীতি নির্ধারণে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মতামত শোনা হবে।
শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠানটি মঙ্গলবার বিকাল চারটার পর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হয়। প্রথমে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন, এরপর নতুন সরকারের মন্ত্রিগণ ও প্রতিমন্ত্রীরা শপথ গ্রহণ করেন। শপথের পর, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় শপথপত্রে স্বাক্ষর করে শপথ সম্পন্ন করেন। শপথের মাধ্যমে নতুন সরকারের যাত্রা আনুষ্ঠানিকভাবে সূচনা পায়।
শপথের পরপরই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকারী কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আজকের শোকস্মরণি ও ক্যাবিনেট বৈঠক নতুন সরকারের কর্মসূচির সূচনা চিহ্নিত করে।
গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি ২০৯টি আসনে জয়লাভ করে প্রধান দল হিসেবে উঠে আসে। জোটের অংশীদার দলগুলো তিনটি আসন অর্জন করেছে, যা সরকার গঠনে সহায়তা করবে। নির্বাচনের ফলাফল নতুন সরকারের পার্লামেন্টীয় সমর্থনকে দৃঢ় করেছে।
প্রতিপক্ষ দলগুলো, বিশেষ করে আওয়ামী লীগ, নির্বাচনের ফলাফল ও নতুন সরকারের নীতি নিয়ে সতর্ক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেছে। তারা সরকারকে দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা নতুন সরকারের প্রথম সপ্তাহকে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও নীতি বাস্তবায়নের পরীক্ষার সময় হিসেবে দেখছেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম কর্মদিবসের এই দুইটি মূল কার্যক্রম—শোকস্মরণি ও ক্যাবিনেট বৈঠক—বাংলাদেশ সরকারকে নতুন দিকনির্দেশে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। পরবর্তী দিনগুলোতে সরকারী নীতি বাস্তবায়ন ও পার্লামেন্টের সমর্থন পরীক্ষা হবে।



