আদানি গ্রুপ আগামী দশকে $১০০ বিলিয়ন (প্রায় ৮,৪০০ কোটি ডলার) বিনিয়োগ করে দেশব্যাপী এআই-নির্দিষ্ট ডেটা সেন্টার নির্মাণের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। এই প্রকল্প ২০২৩ থেকে ২০৩৫ পর্যন্ত চালু থাকবে এবং সম্পূর্ণ নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহার করে চালিত হবে। লক্ষ্য হল এআই কাজের চাহিদা মেটাতে আধুনিক অবকাঠামো তৈরি করা এবং দেশের ডিজিটাল অর্থনীতিকে ত্বরান্বিত করা।
বিনিয়োগের পরিধি বিশাল; আদানি গ্রুপের হিসাব অনুযায়ী এই উদ্যোগের মাধ্যমে অতিরিক্ত $১৫০ বিলিয়ন (প্রায় ১২,৬০০ কোটি ডলার) সংশ্লিষ্ট খাতে আকৃষ্ট হবে এবং দশ বছরের মধ্যে মোট $২৫০ বিলিয়ন (প্রায় ২১,০০০ কোটি ডলার) এআই অবকাঠামো ইকোসিস্টেম গড়ে উঠবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ডেটা সেন্টারগুলোতে সর্বোচ্চ ৫ গিগাওয়াট ক্ষমতা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে, যা দেশের বিদ্যুৎ চাহিদা ও গ্রিন এনার্জি লক্ষ্য উভয়ই পূরণ করবে।
বিশ্বব্যাপী এআই অবকাঠামোর চাহিদা দ্রুত বাড়ছে, এবং অনেক কোম্পানি এখন যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে শক্তি, কম্পিউটিং ক্ষমতা এবং নিয়ন্ত্রক সুবিধা খুঁজছে। এদিকে, ভারতের ডিজিটাল সেবা বাজারের দ্রুত বৃদ্ধি এবং নবায়নযোগ্য শক্তি উৎপাদনের সম্প্রসারণ দেশকে ডেটা সেন্টার ও এআই-সম্পর্কিত প্রকল্পের প্রধান গন্তব্যে পরিণত করেছে। এই প্রবণতা আদানি গ্রুপের বৃহৎ বিনিয়োগের পেছনে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে।
বিজ্ঞপ্তির সময়ই দিল্লিতে এআই ইম্প্যাক্ট সামিট অনুষ্ঠিত হচ্ছিল, যেখানে ওপেনএআই, নভিডিয়া, অ্যানথ্রপিক, মাইক্রোসফট এবং গুগলসহ বিশ্ববিখ্যাত এআই সংস্থার নেতারা নীতি নির্ধারক ও শিল্পপেশার সঙ্গে আলোচনা করছেন। সামিটের আলোচনায় এআই প্রযুক্তির নৈতিক ব্যবহার, ডেটা সুরক্ষা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যা আদানি গ্রুপের পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
আদানি গ্রুপের চেয়ারম্যান গৌতম আদানি এই উদ্যোগকে শক্তি ও কম্পিউটিংয়ের সমন্বয়ে দীর্ঘমেয়াদী বাজি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, “ভারত এআই যুগে শুধুমাত্র ভোক্তা নয়, নিজস্ব অবকাঠামো গড়ে তোলার মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে পারে।” এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি দেশের স্বনির্ভরতা ও প্রযুক্তিগত স্বায়ত্তশাসনের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।
প্রকল্পটি আদানি গ্রুপের বিদ্যমান ডেটা সেন্টার প্ল্যাটফর্মের ওপর ভিত্তি করে গড়ে তোলা হবে এবং গুগল ও মাইক্রোসফটের সঙ্গে পার্টনারশিপকে কাজে লাগিয়ে প্রযুক্তিগত সমর্থন নিশ্চিত করা হবে। এই দুই গ্লোবাল টেক জায়ান্টের ক্লাউড ও এআই সেবা আদানি গ্রুপের ডেটা সেন্টারকে উচ্চমানের সেবা প্রদান করবে এবং আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করবে।
ভিসাখাপাটনাম ও নোয়াডা শহরে বড় আকারের এআই ডেটা সেন্টার ক্যাম্পাসের নির্মাণ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। ভবিষ্যতে হায়দ্রাবাদ ও পুনে শহরে অতিরিক্ত সুবিধা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে, যা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এআই পরিষেবার বিস্তার নিশ্চিত করবে। এই ক্যাম্পাসগুলোতে উচ্চ ক্ষমতার সার্ভার র্যাক, দ্রুত নেটওয়ার্ক সংযোগ এবং শক্তি সাশ্রয়ের জন্য সোলার ও উইন্ড পাওয়ার সিস্টেম স্থাপন করা হবে।
অতিরিক্তভাবে, আদানি গ্রুপের ওয়ালমার্টের মালিকানাধীন ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম ফ্লিপকার্টের সঙ্গে সম্প্রসারিত অংশীদারিত্ব রয়েছে। এই সহযোগিতার মাধ্যমে আরেকটি এআই ডেটা সেন্টার গড়ে তোলা হবে, যা ফ্লিপকার্টের লজিস্টিক ও গ্রাহক সেবা উন্নত করতে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করবে। উভয় সংস্থার সমন্বয় ডেটা বিশ্লেষণ, রিয়েল-টাইম ইনভেন্টরি ম্যানেজমেন্ট এবং ব্যক্তিগতকৃত শপিং অভিজ্ঞতা তৈরিতে সহায়তা করবে।
সামগ্রিকভাবে, আদানি গ্রুপের এই বৃহৎ বিনিয়োগ পরিকল্পনা দেশের এআই ইকোসিস্টেমকে শক্তিশালী করবে, নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়াবে এবং আন্তর্জাতিক এআই প্রতিযোগিতায় ভারতের অবস্থানকে আরও দৃঢ় করবে। ২০২৩ থেকে ২০৩৫ পর্যন্ত চলমান এই প্রকল্পটি দেশের ডিজিটাল রূপান্তরকে ত্বরান্বিত করবে এবং দীর্ঘমেয়াদে উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক সুবিধা প্রদান করবে।



