24 C
Dhaka
Tuesday, February 17, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিবিএনপির ৪৯ সদস্যের মন্ত্রিসভায় তিন নারী পূর্ণমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে যোগদান

বিএনপির ৪৯ সদস্যের মন্ত্রিসভায় তিন নারী পূর্ণমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে যোগদান

বিএনপি নেতৃত্বাধীন ৪৯ সদস্যের নতুন মন্ত্রিসভা আজ ঢাকায় শপথ গ্রহণের মাধ্যমে তিনজন নারীরকে পূর্ণমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী পদে অন্তর্ভুক্ত করেছে। এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সরকারে নারীর প্রতিনিধিত্বের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে। শপথ অনুষ্ঠানটি জাতীয় নিরাপত্তা ও উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের প্রধানের উপস্থিতিতে সম্পন্ন হয়। শপথ গ্রহণকারী তিনজনের মধ্যে আফরোজা খানম রিতা পূর্ণমন্ত্রী পদে স্বীকৃত হয়েছেন, আর শামা ওবায়েদ ইসলাম ও ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুলকে প্রতিমন্ত্রী পদে নিযুক্ত করা হয়েছে। উভয় প্রতিমন্ত্রীই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কাজকর্ম তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব পেয়েছেন। এই পদবিন্যাসে প্রথমবারের মতো দুইজন নারী একসাথে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। আফরোজা খানম রিতা মানিকগঞ্জ-৩ (সদর ও সাটুরিয়া) আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে প্রথমবার সংসদ সদস্যের শিরোপা অর্জন করেন। তিনি একই সঙ্গে পূর্ণমন্ত্রী পদে নিযুক্ত হওয়ায় দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। মানিকগঞ্জের এই আসনে তিনি একমাত্র নারী সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় স্থানীয় ভোটারদের কাছ থেকে বিশেষ স্বীকৃতি পেয়েছেন। শামা ওবায়েদ ইসলাম ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা-সালথা) আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে মন্ত্রিসভায় শপথ গ্রহণ করেন। তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করছেন এবং এখন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নতুন দায়িত্বে যুক্ত হয়েছেন। তার নির্বাচনী জয় তার রাজনৈতিক প্রোফাইলকে আরও শক্তিশালী করেছে। ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল নাটোর-১ আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হন। তিনি আইনজীবী পেশার সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও সক্রিয়, এবং এখন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে তার ভূমিকা বিস্তৃত হবে। তার শপথ গ্রহণের পর নারীর অধিকার ও সামাজিক ন্যায়বিচার সংক্রান্ত মন্ত্রণালয়ের কাজকর্মে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি আশা করা হচ্ছে। ২০০১ সালের পূর্বে বিএনপির মন্ত্রিসভায় নারীর অংশগ্রহণ সীমিত ছিল। সেই সময়ে গঠিত সরকারে মাত্র একজন নারী মন্ত্রী ছিলেন, যিনি মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করতেন। তিনি ছিলেন খুরশীদ জাহান হক, যিনি সেই সময়ের একমাত্র নারী মন্ত্রী হিসেবে কাজ করতেন। খুরশীদ জাহান হকের পর থেকে ২০০১ সালের নির্বাচন পর্যন্ত বিএনপি মন্ত্রিসভায় নারীর সংখ্যা অপরিবর্তিত রইল। ২০০১ সালে বেগম খালেদা জিয়া (সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন) নেতৃত্বে গঠিত সরকারেও নারীর সংখ্যা একাধিক না হয়ে রইল। এই ঐতিহাসিক পটভূমি আজকের তিনজন নারীর অন্তর্ভুক্তিকে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করে। আওয়ামী লীগ সরকার এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক সমতা ও নারীর ক্ষমতায়ন দিক থেকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে তারা উল্লেখ করেছে যে নারীর প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে আরও কাঠামোগত পদক্ষেপের প্রয়োজন। এই মন্তব্যে তারা সরকারকে নারীর অধিকার সংক্রান্ত আইন প্রণয়নে দ্রুততা আনার আহ্বান জানিয়েছে। বিএনপি নেতারা নতুন মন্ত্রিসভায় নারীর অন্তর্ভুক্তিকে পার্টির সমন্বিত নীতি হিসেবে তুলে ধরেছেন। তারা বলেন, এই পদক্ষেপটি পার্টির নারীবাদী দৃষ্টিভঙ্গি ও ভোটারদের প্রত্যাশা পূরণে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে তারা ভবিষ্যৎ নির্বাচনে নারীর ভোটার ভিত্তি শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কাজ চালিয়ে যাবে। বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, মন্ত্রিসভায় নারীর উপস্থিতি নীতি নির্ধারণে নতুন দৃষ্টিকোণ আনতে পারে। বিশেষ করে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক কল্যাণ সংক্রান্ত মন্ত্রণালয়ে নারীর দৃষ্টিভঙ্গি নীতি গঠনে প্রভাব ফেলবে। এই পরিবর্তনটি দীর্ঘমেয়াদে নারীর ক্ষমতায়ন ও সমতা অর্জনে সহায়ক হতে পারে। পরবর্তী সপ্তাহে পার্লামেন্টের প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে নতুন মন্ত্রিসভা তাদের কর্মসূচি উপস্থাপন করবে। এই অধিবেশনে নারীর অধিকার, কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিলের আলোচনা প্রত্যাশিত। মন্ত্রিসভার নারীরা এই আলোচনায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করার সম্ভাবনা রয়েছে। বিএনপি-এ নারীর সংখ্যা বাড়ার ফলে পার্টির অভ্যন্তরীণ কাঠামোতে পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষ করে স্থানীয় পর্যায়ে নারীর সংগঠন ও নেতৃত্বের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই পরিবর্তনটি পার্টির ভিত্তি শক্তিশালী করতে এবং ভোটারদের সঙ্গে সংযোগ বাড়াতে সহায়তা করবে। অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলো এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে সমালোচনা করেছে। তারা দাবি করে, নারীর অন্তর্ভুক্তি শুধুমাত্র চিত্রগত উদ্দেশ্য এবং বাস্তব নীতি পরিবর্তনে সীমিত হবে। তবে তারা স্বীকার করেছে যে নারীর প্রতিনিধিত্ব বাড়ানো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং ভবিষ্যতে আরও বাস্তবিক পদক্ষেপের প্রয়োজন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, মন্ত্রিসভায় নারীর উপস্থিতি পার্টির ইমেজকে আধুনিক ও সমন্বিত হিসেবে উপস্থাপন করবে। এই ইমেজ পরিবর্তনটি বিশেষত তরুণ ভোটার ও নগর জনগণের মধ্যে পার্টির গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে পারে। তবে বাস্তব নীতি বাস্তবায়নই শেষমেশ পার্টির সাফল্য নির্ধারণ করবে। নতুন মন্ত্রিসভা গঠন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সরকারী নীতি প্রণয়নে নারীর দৃষ্টিভঙ্গি অন্তর্ভুক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কাজকর্মে নতুন দৃষ্টিকোণ যুক্ত হবে। এই দৃষ্টিকোণটি সামাজিক ন্যায়বিচার ও সমতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিএনপি-র এই পদক্ষেপটি দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নারীর অংশগ্রহণের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। এটি ভবিষ্যৎ নির্বাচনে নারীর ভোটার ভিত্তি গড়ে তোলার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তবে এই পরিবর্তনকে টেকসই করতে পার্টির অভ্যন্তরীণ নীতি ও কাঠামোতে আরও সংস্কার প্রয়োজন। আওয়ামী লীগ নেতারা ভবিষ্যতে নারীর প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে সমন্বিত আইন প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছেন। তারা বলছেন, নারীর ক্ষমতায়ন কেবল মন্ত্রিসভায় উপস্থিতি নয়, বাস্তব নীতি ও কর্মসূচিতে প্রতিফলিত হওয়া দরকার। এই দৃষ্টিকোণ থেকে উভয় পার্টির মধ্যে নীতি সংলাপের সম্ভাবনা উন্মুক্ত রয়েছে। সামাজিক সংগঠনগুলোও এই পরিবর্তনকে স্বাগত জানিয়ে নারীর অধিকার সংক্রান্ত কর্মসূচি ত্বরান্বিত করার আহ্বান জানিয়েছে। তারা দাবি করে, সরকারকে নারীর স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও কর্মসংস্থান ক্ষেত্রে বিশেষ বাজেট বরাদ্দ করতে হবে। এই দাবি মন্ত্রিসভার নারীরা বাস্তবায়নে সহায়তা করতে পারেন। পরবর্তী মাসে জাতীয় স্তরে নারীর উন্নয়ন সংক্রান্ত একাধিক কর্মশালা ও সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে নতুন মন্ত্রিসভার নারীরা অংশগ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Banglastream
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments