সিলেট-৪ আসনের নতুন সংসদ সদস্য আরিফুল হক চৌধুরী, ২৫ পূর্ণমন্ত্রীর একজন হিসেবে শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিযুক্ত হয়েছেন। তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় প্রথমবার সংসদ সদস্যের পদে শীর্ষে উঠে তিনি সরকার গঠন প্রক্রিয়ায় অংশ নেন।
দশকান্তে বিএনপি পুনরায় শাসন পরিচালনা করতে গিয়ে আরিফুল হক চৌধুরীর নাম মন্ত্রিপদে যুক্ত হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি কোম্পানীগঞ্জ-গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর উপজেলা অন্তর্ভুক্ত সিলেট-৪ আসনে ১,৮৬,৮৪৬ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত-এ-ইসলামি জয়নাল আবেদীন ৭১,৩৯১ ভোট সংগ্রহ করেন।
বিএনপির হাইকমান্ডের নির্দেশে ৫ নভেম্বর রাতে সিলেট-৪ আসনে প্রার্থী হওয়ার অনুমোদন পেয়ে আরিফুল হক ৭ নভেম্বর থেকে প্রচার শুরু করেন এবং ৪ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে দলের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পান। নির্বাচনের পর মন্ত্রিপদে নিযুক্ত হওয়ার খবর জানার সঙ্গে সঙ্গে তিনি সাংবাদিকদের সামনে বলেন, “সবাইকে নিয়ে চলব। দল তৃণমূলের একজন কর্মীকে যেভাবে মূল্যায়ন করেছে, এর প্রতিদান কাজের মাধ্যমেই দিতে চাই।”
সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী মন্ত্রী ঘোষণায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, “একজন তৃণমূলের কর্মী থেকে নেতা হয়ে ওঠা আরিফুল হক চৌধুরী মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পাওয়ায় বিএনপির নেতাকর্মীরা অত্যন্ত খুশি। আশা রাখছি, সিলেটের উন্নয়নে তিনি ব্যাপক ভূমিকা রাখবেন।”
আরিফুল হক চৌধুরীর রাজনৈতিক যাত্রা সিটি কর্পোরেশন ও সদর উপজেলা থেকে শুরু হয়। তিনি প্রথমে সিলেট-১ আসনে বিএনপির মনোনয়নের প্রত্যাশা করেন, তবে শেষ পর্যন্ত বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার আবদুল মুক্তারিরকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। পরে হাইকমান্ডের নির্দেশে সিলেট-৪ আসনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ পান।
বিএনপির মধ্যে তিনি বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করছেন এবং পূর্বে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ছিলেন। এছাড়া তিনি সিলেট জেলা বিএনপির সদস্য, সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি এবং জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
রাজনৈতিক জীবনের আগে তিনি ছাত্রদলীয় কার্যক্রমে সক্রিয় ছিলেন। জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক, শহর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক এবং এমসি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে তিনি নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। এই পটভূমি তাকে তৃণমূল থেকে শীর্ষ নেতৃত্বে পৌঁছাতে সহায়তা করেছে।
মন্ত্রিপদে দায়িত্ব গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে আরিফুল হক চৌধুরীর কর্মপরিকল্পনা শ্রম বাজারের গঠনমূলক সংস্কার এবং প্রবাসী কর্মীদের কল্যাণে কেন্দ্রীভূত হবে বলে জানা যায়। তার পদক্ষেপগুলো সিলেটের উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কী প্রভাব ফেলবে তা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ভবিষ্যতে তিনি কীভাবে মন্ত্রিসভায় তার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করবেন, তা দেশের অর্থনৈতিক নীতি ও কর্মসংস্থান সূচকের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে।



